হজ্জ - ইসলামের একটি স্তম্ভ


হজ্জের অর্থ: পবিত্র যুলহিজ্জা মাসে মক্কার একটি বিশেষ যাত্রা। এর উদ্দেশ্য শুধুমাত্র আল্লাহ্‌ তাআলার ইবাদতস্বরূপ হজ্জব্রত পালন। ইসলামের অর্থ : মুসলমানরা নিজেদের কামনা-বাসনা আল্লাহ্‌ তাআলার কামনা-বাসনার সামনে সমর্পণ করবে। একজন হজ্জপালনকারী মুসলমান দৈহিক ও আর্থিকভাবে সম্পূর্ণরূপে আল্লাহ্‌র আনুগত্যের মধ্যে থাকে।

 

হজ্জ হলো আল্লাহ্‌ তাআলার নির্দেশ ও আইনের আনুগত্য। হজ্জ তাওহিদের (ইসলামি একেশ্বরবাদের) প্রতীক। হজ্জ ঐক্যের প্রতীক। হজ্জপালনকারী ব্যক্তিকে পাপমুক্ত করে দেওয়া হয়।

 

বিষয়সূচি

 

আভিধানিক অর্থ

হজ্জের অর্থ: সে প্রস্তুত করেছে, কিংবা সে কোনো ব্যক্তির সম্মুখে আত্মসমর্পিত হয়েছে, … কিংবা কোনো স্থানের যাত্রা করা, পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে কোথাও গমন করা। [E.W. Lane, Arabic-English Lexicon (Cambridge England : The Islamic Text Society, 1984), Vol : 1].

 

হজ্জ ইসলামি পরিভাষায়

হজ্জ একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ বাধ্যতামূলক ইবাদতগুলি পালন করার জন্য বায়তুল্লাহ্‌র (আল্লাহ্‌র ঘর, কা’বার একটি নাম) সফর করা। তবে এটা বার্ষিক তীর্থযাত্রাকে বোঝায় যাতে মুসলমানরা নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক বর্ণিত নিয়মানুযায়ী নির্দিষ্ট ধর্মীয় কার্যাদি সম্পাদন করার উদ্দেশ্যে মক্কা গমন করে। হজ্জের আরেকটি অর্থ পবিত্র যুলহিজ্জা মাসে মক্কার একটি বিশেষ ভ্রমণ, যার লক্ষ থাকে আল্লাহ্‌ তাআলার ইবাদতস্বরূপ হজ্জব্রত পালন।

 

হজ্জের গুরুত্ব ও তাৎপর্য

হজ্জ একটি মুসলমানদের ধর্মীয় কর্তব্য। সউদি আরবের মক্কার হজ্জ করা ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে অন্যতম একটি। হজ্জ কোনো নতুন বিধি নয় যার পরিচিতি ইসলাম তার শরিয়তে দিয়েছে। বরং হজ্জ ততটাই পুরনো যতটা কা’বা শরিফ নিজে, যার সম্পর্কে কুরআনে বলা হয়েছে : “মানবজাতির জন্য প্রতিষ্ঠিত সর্বপ্রথম গৃহ”। (সূরা আল-ইমরান ৩:৯৫) নবি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের যে হাদিস আমাদের বলে যে পৃথিবীর সর্বপ্রথম মনুষ্য আদম (আঃ) কর্তৃক কা’বা নির্মিত হয়েছিল, তাকে এই আয়াতটি সমর্থন করে। হজ্জের ধর্মাচারের অনুক্রম হলো : বিশেষ পোশাক পরিধান যাকে ইহরাম বলে, কা’বার প্রদক্ষীণ, সাঈ (সাফা-মারওয়ার মাঝে দৌড়ানো), জামারাতে কাঁকর নিক্ষেপ। এছাড়া আরাফার মাঠে অবস্থান হজ্জের মৌলিক কার্যাদির মধ্যে অন্যতম একটি। আরাফার মাঠ মক্কা হতে প্রায় দশ মাইল দূরে অবস্থিত। এটা সেই জায়গা যেখানে নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম তাঁর বিদায় হজ্জে তাঁর শেষ ভাষণ দিয়েছিলেন। এছাড়া হজ্জে রয়েছে মুযদালিফা, পশু কুরবানি, যমযম পানি পান এবং মিনা।

 

হজ্জযাত্রার শ্রেণিবিভাগ

হজ্জযাত্রা দুভাগে বিভক্ত :

১। উমরা (ছোটো হজ্জ), এটা যেকোনো ব্যক্তি একাকী ইচ্ছানুযায়ী যেকোনো সময় করতে পারে, তবে হজ্জের দিনগুলি ছাড়া।

২। হজ্জ, এটা একটা নির্দিষ্ট তারিখে এবং অন্যান্য সমস্ত হজ্জযাত্রীদের সঙ্গে সম্পাদন করতে হয়। এটা অনুষ্ঠিত হয় যুলহিজ্জা মাসে (হিজরি পঞ্জিকার শেষ মাস)।

 

কুরআন মাজিদে আল্লাহ্‌ তাআলা হজ্জ সম্পর্কে নির্দেশ দেন : “হজ্জ হয় সুবিদিত মাসে (অর্থাৎ ইসলামি পঞ্জিকার দশম মাস, একাদশ মাস এবং দ্বাদশ মাসের প্রথম তেরো দিন, অর্থাৎ দুই মাস তেরো দিন)। সুতরাং যে কেউ এই মাসগুলিতে হজ্জ করার সংকল্প করে সে যেন হজ্জের সময় স্ত্রী-সহবাস (যৌনাচার), পাপকার্য এবং ঝগড়া-বিবাদ না করে। তোমরা যে সৎকাজ করো আল্লাহ্‌‌জানেন”। (সূরা বাকারা ২:১৯৭)

 

হজ্জ ইসলামের স্তম্ভ

হজ্জ ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম একটি। একথা নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের বাণীতে উল্লেখ আছে। ইবনে উমার (রাঃ) বর্ণনা করছেন, আল্লাহ্‌র নবি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলেন : “ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত : এই সাক্ষ দেওয়া যে আল্লাহ্‌ তাআলা ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম আল্লাহ্‌র রসূল, স্বালাত প্রতিষ্ঠা করা, যাকাত প্রদান করা, হজ্জ এবং রমযানের সওম পালন”। (সহি বুখারি ১:৭, সহি মুসলিম ১:১)।

 

হজ্জের ইতিহাস ও তার প্রতি আহ্বান

হজ্জের জন্য প্রথম আহ্বান করেছিলেন ইব্রাহিম (আঃ) যখন তাঁকে আল্লাহ্‌ তাআলা মানবজাতিকে হজ্জের প্রতি আহ্বান করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। যেমন কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াতে উল্লেখ আছে : “এবং মানুষের মাঝে হজ্জের ঘোষণা দাও, তারা তোমার কাছে আসবে পায়ে হেঁটে ও সর্বপ্রকার ক্ষীণকায় উঁটের পিঠে আরোহণ করে, তারা আসবে দূর-দূরান্তর পথ অতিক্রম করে”। (সূরা হাজ্জ ২২:২৭)

 

ইবনে কাসির (রহঃ) এই আয়াতের তফসিরে বলেন : মানুষের মধ্যে ঘোষণা দেওয়ার অর্থ তাদেরকে সেই ঘরের হজ্জের জন্য আগমনের দাওয়াত দেওয়া যেটা নির্মাণের নির্দেশনা আমি তোমাকে দিয়েছি। বর্ণিত আছে, নবি ইব্রাহিম (আঃ) বললেন : হে প্রভু ! আমি কীভাবে তাদের নিকট এই দাওয়াত পৌঁছে দেব অথচ আমার কণ্ঠস্বর তাদের কাছে পৌঁছাবে না ? আল্লাহ্‌ বললেন : তুমি ডাকো, পৌঁছে দেওয়ার কাজ আমার। ফলে তিনি তাঁর মাকামে দাঁড়ালেন, অথবা বর্ণিত আছে : তিনি পাথরের ওপর, কিংবা সাফা পাহাড়ের ওপর, কিংবা আবু কুবাইস (কা’বার নিকটবর্তী একটি পাহাড়)-এর ওপর দাঁড়ালেন এবং বললেন : হে মানবকুল ! তোমাদের প্রতিপালক একটি ঘর নির্মাণ করেছেন, সুতরাং তোমরা তার হজ্জের জন্য এসো। বর্ণিত আছে : পাহাড়গুলি ঝুঁকে পড়েছিল যেন তাঁর ধ্বনি পৃথিবীর সর্বপ্রান্তে পৌঁছে যায়। যারা এখনো মাতৃগর্ভে কিংবা পিতার কোমরে ছিল তারা এই আওয়াজ শুনেছিল এবং পাথর, শহর ও গাছপালা যারাই সেই ধ্বনি শুনেছিল সবাই সাড়া দিয়েছিল। কিয়ামত পর্যন্ত যাদের জন্য আল্লাহ্‌ হজ্জ স্থির করে রেখেছেন তারা সকলেই জবাব দিয়েছিল : “লাব্বাইক আল্লা-হুম্মা লাব্বাইক”। এমনই বর্ণিত আছে ইবনে আব্বাস এবং মুজাহিদ, ইকরিমা, সাঈদ, ইবনে জুবাইর প্রমুখ হতে। ইবনে জারির ও ইবনে আবি হাতিম এটা বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন।

 

আল্লাহ্‌ তাআলা হজ্জ ও তার কার্যক্রমকে তার বিশদ বিবরণসহ সর্বপ্রথম প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন নবি ইব্রাহিম (আঃ)-এর সময়। তিনিই ছিলেন একমাত্র ব্যক্তি, যাঁকে আল্লাহ্‌ তাআলা স্বীয় পুত্র ইসমাইল (আঃ)-কে সঙ্গে নিয়ে মক্কায় আল্লাহ্‌র ঘর কা'বা শরিফ নির্মাণের দায়িত্ব প্রদান করেছিলেন। আল্লাহ্‌ তাআলা কা'বা ও তার নির্মাণের কথা এভাবে বর্ণনা করেছেন : “আর স্মরণ করো, যখন আমি ইব্রাহিমের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম কা’বা ঘরের স্থান, (তখন বলেছিলাম) আমার সাথে কাউকে শরিক করো না এবং আমার ঘরকে তাওয়াফকারী, স্বালাত প্রতিষ্ঠাকারী, রুকু ও সেজদাকারীদের জন্য পবিত্র রেখো”। (সূরা হাজ্জ ২২:২৬)

 

কা’বা নির্মাণের পর ইব্রাহিম (আঃ) হজ্জ সম্পাদনের জন্য মক্কা আসতেন। এবং তাঁর ইনতিকালের পর এই কাজ অব্যাহত রেখেছিলেন তাঁর পুত্র ইসমাইল (আঃ)। কিন্তু কালক্রমে হজ্জের আচার-অনুষ্ঠানের স্বরূপ ও লক্ষ দুটোই বদলে যায়। যেহেতূ আরবে প্রতিমাপূজা বিস্তার লাভ করেছিল, তাই কা’বা তার পবিত্রতা হারিয়ে ফেলেছিল এবং তার মধ্যে স্থান পেয়েছিল প্রতিমূর্তি। তার দেওয়ালগুলি কবিতা ও চিত্র দিয়ে ঢাকা পড়েছিল। তন্মধ্যে একটা চিত্র ইসা এবং তাঁর মা মারিয়ম (আঃ)-এরও ছিল। অবশেষে কা’বার মধ্যে রাখা হয়েছিল ৩৬০টি প্রতিমূর্তি। এমনকি তাল্‌বিয়া “লাব্বাইক আল্লা-হুম্মা লাব্বাইক”-কে বিকৃত করে দেওয়া হয়েছিল। কুরবানির যবেহকৃত পশুগুলির রক্ত কা’বার দেওয়ালগুলিতে মাখানো হত এবং মাংস ঝুলিয়ে দেওয়া হত কা’বার চারিদিকে স্তম্ভের ওপর। এভাবে তারা সম্পূর্ণরূপে তাদের পূর্বপুরুষ ও নবি ইব্রাহিম (আঃ)-এর শিক্ষাকে পরিত্যাগ করেছিল।

 

এই দুঃখজনক অবস্থা অব্যাহত ছিল প্রায় ২৫০০ বছর। কিন্তু এই দীর্ঘকাল পর নবি ইব্রাহিম (আঃ)-এর প্রার্থনা গ্রহণের সময় এলো যেমন ক্কুরআনের সূরা বাকারা ২:১২৯-তেউল্লেখ আছে।

 

অতঃপর সর্বশেষ নবি সেই শহরেই জন্মগ্রহণ করলেন যেখানে নবি ইব্রাহিম (আঃ) শতশত বছর পূর্বে এই বীনিত দুআ করেছিলেন। ২৩ বছর ধরে নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম তাওহিদের (একেশ্বরবাদ) সেই বাণী প্রচার করলেন, যে বাণী নিয়ে এসেছিলেন নবি ইব্রাহিম এবং অন্যান্য সমস্ত নবি ও রসূল এবং তিনি ভূপৃষ্ঠে আল্লাহ্‌র আইন প্রতিষ্ঠিত করলেন। নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম নগ্নাবস্থায় কা’বার তাওয়াফ বন্ধ করলেন এবং অবিশ্বাসীগণ এই ধর্মাচারকে যুক্তিসঙ্গত করার জন্য যে বিতর্ক দাঁড় করেছিল, আল্লাহ্‌ তাআলা কুরআনের মাধ্যমে কঠোরভাবে তা খণ্ডন করেন।

 

হজ্জের পুরো বিষয়টি মহাশক্তিশালী আল্লাহ্‌ তাআলার ইবাদতসংক্রান্ত ইব্রাহিম (আঃ) ও তাঁর পরিবারের কর্মের স্মারক। এটা প্রমাণ করে যে, নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম এই বিধিকে পরিবর্তিত করেননি, বরং এটাকে সমস্ত নোংরা ও অনিষ্টকর কর্মকাণ্ড হতে মুক্ত করে সংযমশীলতার একটি বাধ্যতামূলক কাজ করে দিয়েছেন। যাদ্বারা একজন মানুষ আল্লাহ্‌-চেতনা বাড়াতে পারে। তাছাড়া এটা ঈমানের পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে একটি, যা পালন করা প্রত্যেক ঈমানদার ব্যক্তির জন্য ফরজ, যদি সে শারীরিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম হয়। প্রকৃতপক্ষে হজ্জ হলো ঈমানের পূর্ণাঙ্গরূপ, কারণ এর মধ্যে একত্রিত হয়ে যায় অন্যান্য ফরজ কাজগুলির সমস্ত উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। যেমন : স্বালাত, ধৈর্য, জীবনের আমোদ-প্রমোদের অনুপস্থতি, উৎসর্গ, যাকাত এবং দুআ। আসলে শারীরিক হজ্জ আল্লাহ্‌ তাআলার সমীপে আধ্যাত্মিক হজ্জের ভূমিকা, যখন মানুষ পৃথিবীর সবকিছুকে বিদায় জানিয়ে তাঁর সামনে তাঁর বীনিত বান্দাস্বরূপ নিজেকে উপস্থিত করে বলে : “হে আমার প্রভু ! এখানে আমি তোমার সামনেই রয়েছি”।

 

জীবনে একবার শর্তসাপেক্ষে হজ্জের আবশ্যিকতা

হজ্জ জীবনে একবার একটি ধর্মীয় কর্তব্য এমন প্রত্যেক মুসলমানের জন্য যে এর সামর্থ্য রাখে। অধিকাংশ বিদ্বানের মতানুযায়ী হজ্জ ফরজ হয়েছিল হিজরতে নবম বছরে (নবিসাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের মক্কা হতে মদিনায় হিজরত), প্রতিনিধিবর্গের (আল-ওয়াফূদ) বছর, যেবছর কুরআনের এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছিল : “মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, তার জন্য আল্লাহ্‌র উদ্দেশ্যে ওই গৃহের হজ্জ করা অবশ্য কর্তব্য”। (সূরা আল-ইম্‌রান ৩:৯৭) এই আয়াতটি হজ্জপালনের আবশ্যিকতা সাব্যস্ত করেছে।

 

বহু হাদিসে এটাকে ইসলামের একটি ভিত ও স্তম্ভস্বরূপ উল্লেখ করা হয়েছে। আর এবিষয়ে মুসলমানরা একমত। উলামাদের উক্তি ও তাঁদের ঐক্যমত অনুযায়ী এটাই একমাত্র ইবাদত যা প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের জন্য জীবনে মাত্র একবার ফরজ।

 

আবু হুরাইরা (রাঃ) বলেন : রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম একটি খুত্ববা দিলেন। তাতে তিনি বললেন : “হে লোকসকল ! আল্লাহ্‌ তাআলা তোমাদের ওপর হজ্জ ফরজ করেছেন, সুতরাং তোমরা হজ্জ করো”। জনৈক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলেন : হে আল্লাহ্‌র রসূল ! এটা কি প্রতিবছর ? তিনি নীরব থকলেন, এমনকি লোকটি তিনবার জিজ্ঞাসা করল। অতঃপর তিনি উত্তর দিলেন : “যদি আমি হ্যাঁ বলতাম তাহলে এটা প্রতিবছর ফরজ হয়ে যেত আর তোমরা তাতে সক্ষম হতে না”। অতঃপর তিনি বললেন : আমি তোমাদেরকে যার ওপর ছেড়েছি, তার থেকে বেশি বলতে আমাকে বাধ্য করো না, কারণ তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেরা তাদের নবিদেরকে বেশিবেশি প্রশ্ন করার জন্য এবং তাদের সঙ্গে বিতর্ক করার জন্য ধ্বংস হয়েছে। যদি আমি তোমাদেরকে কিছু করতে বলি তাহলে তোমরা তা সাধ্যানুপাতে করো, আর যদি কিছু করতে নিষেধ করি তাহলে তা বর্জন করো”। (সহি মুস্‌লিম : ১৩৩৭)

 

ইবনে আব্বাস (রাঃ) এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলছেন : “যে ব্যক্তি হজ্জের আবশ্যিকতা অস্বীকার করবে সে হবে অবিশ্বাসী, আর আল্লাহ্‌ তাআলা প্রয়োজনের অনেক উর্ধ্বে”।

 

হাফিয আবু বক্‌র ইসমাইলি বর্ণনা করছেন, উমার বিন খাত্তাব বলেন : “যে ব্যক্তি হজ্জের সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তা করল না, তার এবং একজন ইহুদি বা খ্রিষ্টানের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই”।

 

হজ্জ ফরজ হওয়ার পূর্বশর্তসমূহ

এটা এমন প্রত্যেক স্বাধীন প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের জন্য জীবনে একবার ফরজ, যে এর সামর্থ্য রাখে।

 

১। ইসলাম

ইসলাম আবশ্যিকতার একটি পূর্বশর্ত। একথা বলেন ইবনুল হাজিব এবং মুখতাসারের প্রণেতা বলেন : এটা এর বৈধতার পূর্বশর্ত। প্রথমটির মতে অবিশ্বাস এর আবশ্যিকতার পথে বাধা এবং দ্বিতীয়টির মতে এর বৈধতার পথে বাধা।

 

২। যোগ্যতা

এমন একজন যে শারীরিকভাবে সুস্থ এবং আল্লাহ্‌ তাআলার গৃহে পৌঁছাবার সক্ষমতা রাখে।

 

৩। স্বাধীনতা

তৃতীয় পুর্বশর্ত হলো স্বাধীনতা, কোনো দাসের জন্য হজ্জ ফরজ নয়।

 

৪। সাবালকত্ব

চতুর্থ পূর্বশর্ত সাবালকত্ব। সাবালকত্বের পূর্বশর্তটি হজ্জের সঙ্গে সীমাবদ্ধ নয়।

 

৫। মানসিক সুস্থতা

লোকটিকে মানসিকভাবে সুস্থ হতে হবে। এমন ব্যক্তির জন্য হজ্জ ফরজ নয় যে পাগল বা বিচারবুদ্ধিহীন।

 

৬। মহিলার জন্য

একজন মহিলার বিষয় : তাকে সঙ্গে একজন মাহ্‌রাম রাখতেই হবে। যেমন : স্বামী, তার কোনো পুরুষ সহোদর, পিতা, পুত্র, ভাই, চাচা। এটা একটা তার ওপর হজ্জ ফরজ হওয়ার পূর্বশর্ত। ইবনে উসাইমিনের (রহঃ) অভিমত, (এই শর্তটি পাওয়া গেলেই) তার হজ্জ বৈধ হবে, অন্যথায় সে যদি একা হজ্জ করতে যায় তাহলে সে গোনাহ্‌গার হবে।

 

৭। যদি হজ্জে-বাদাল হয়

একজন মুসলমানকে কোনো মৃত ব্যক্তির পক্ষ হতে হজ্জ করার পূর্বে নিজের জন্য হজ্জ করতেই হবে। আর যদি সে কোনো জীবিত লোকের পক্ষ হতে হজ্জ করে তাহলে সে যেন সুস্বাস্থের অধিকারী না হয়।

 

পরিসংখ্যান

সাউদি আরব সরকারের হজ্জমন্ত্রকের হিসেবে, প্রতিবছর ৭০টি দেশ হতে প্রায় ৩০ লক্ষ মুসলমান হজ্জের আবশ্যিকতা পালনের উদ্দেশ্যে মক্কার সফর করে।

 

কোনো ইবাদতের গ্রহণযোগ্যতার শর্ত

যেকোনো ইবাদত কেবল তখনই গ্রহণযোগ্য হয় যখন নিম্নোক্ত বিষয়গুলি সত্য হয় :

১। একজন শুধুমাত্র আল্লাহ্‌ তাআলার জন্য এটা করে এবং পরকালে প্রতিদান পাওয়ার আশা নিয়ে। মানুষের মধ্যেই দৃষ্ট হবে বা পৃথিবীতেই অর্জিত হবে, এই উদ্দেশ্যে এটা করা যায় না।

২। একজন কথা ও কর্মে নবীর আদর্শের অনুসরণ করে। এটা সুন্নাতের জ্ঞান ছাড়া সুসম্পন্ন হয় না। 

 

হজ্জের লক্ষ

  • আল্লাহ্‌র আদেশ ও আইনের এটা আনুগত্য। এটা সুদৃঢ় করে উম্মতের একতাকে এবং এটা কোনো প্রভেদ বা রেহাই ছাড়া একটি সিস্টেমকে অনুসরণ করে। আল্লাহ্‌ তাআলার নির্দেশ পালনের মাধ্যমে একজন মানুষ সংযমশীলতা বাড়াতে পারে এবং তার হৃদয়কে করে তুলতে পারে আল্লাহ্‌ তাআলার প্রতীকসমূহকে সন্মান জানানোর উপযুক্ত। আল্লাহ্‌ সুব্‌হানহু ওয়া তাআলা বলছেন : “আর কেউ আল্লাহ্‌র প্রতীকসমূহের সন্মান করলে এটা তো তার হৃদয়ের সংযমশীলতারই বহিঃপ্রকাশ”। (সূরা হাজ্জ ২২:৩২)
     
  • হজ্জ তাওহিদের প্রতীক। এর প্রথম মুহূর্ত হতে হাজী ইহ্‌রামের মধ্যে ঢুকে পড়ে। এটা মহাশক্তিশালীর (আল্লাহ্‌) একত্ববাদের বাস্তবায়ন ও ঘোষণা। আল্লাহ্‌ তাআলার কোনো অংশীদার নেই, তিনি একক তাঁর অস্তিত্বে, তাঁর গুণাবলিতে এবং তাঁর কার্যক্রমে।
     
  • হজ্জ মুসলমানদেরকে অবিশ্বাসীদের থেকে পৃথক করে দেয়। আল্লাহ্‌ তাআলা বলছেন : “হে বিশ্বাসীগণ (আল্লাহ্‌র একত্ববাদ ও তাঁর রসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের প্রতি) ! মুশ্‌রিকরা (বহু-দেবতায় বিশ্বাসীরা, অগ্নিপূজকরা, মূর্তিপূজকরা, আল্লাহ্‌র একত্ববাদে ও মুহাম্মাদের রিসালায় অবিশ্বাসীরা) তো অপবিত্র। সুতারাং এবছরের পর তারা যেন মস্‌জিদে হারামের নিকট না আসে। আর যদি তোমরা দারিদ্র্যের ভয় করো তাহলে আল্লাহ্‌ ইচ্ছা করলে তাঁর নিজ করুণায় তোমাদেরকে অভাবমুক্ত করে দেবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। (সূরা তাওবা ৯:২৮)
     
  • হজ্জের সেই দৃশ্য পরকালের স্মারক যখন সমস্ত মানুষ আরাফার একস্থানে এবং অন্যত্র কোনো প্রভেদ বা ব্যতিক্রম ছাড়াই একত্রিত হয়। এস্থানে সকলেই সমান আর কেউ কারো থেকে শ্রেষ্ঠ নয়।
     
  • হজ্জ ঐক্যের প্রতীক,। হাজীরা একই রকম কাপড় পরিধান করে, একই রকম ধর্মাচার পালন করে। তাদের ক্বিবলা এক। তারা একই জায়গা পরিদর্শন করে। এভাবে শ্রেষ্ঠত্বের অনুভূতি থাকে না। কেউ রাজা বা প্রজা নয়, কেউ বিত্তবান বা বিত্তহীন নয়, আমরা সকলেই সমান। অধিকার ও দায়িত্বে সমান।
     
  • যে ব্যক্তি হজ্জ করে তার পাপরাশি ক্ষমা করে দেওয়া হয়। কেননা নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : “যে ব্যক্তি হজ্জ করে এবং কোনো অশ্লীল কথা বলে না কিংবা পাপ করে না সে পাপরাশি হতে পবিত্র হয়ে ফিরে আসে ঠিক সেদিনের মতো যেদিন তার মা তাকে জন্ম দিয়েছিল”। (সহি বুখারি)

 

সাম্য ও ঐক্যের একটি দৃষ্টান্তমূলক বহিঃপ্রকাশ ঘটে তখন যখন বিভিন্ন দেশের, সভ্যতার, সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্তরের মুসলমান, সকলেই সেলায়বিহীন দুটুকরো কাপড় পরিধান করে। সকলেই একই কার্যাদি সম্পন্ন করে। ধনী ও দরিদ্রের মাঝে, ফর্সা ও কৃষ্ণবর্ণের মাঝে কোনো তফাৎ থাকে না। সকলেই আনুগত্য ও বিনয় সহকারে আল্লাহ্‌ তাআলার সম্মুখে দাঁড়ায়।

 

হজ্জ মুসলমানদেরকে একটি অতুলনীয় সুযোগ করে দেয় পরস্পরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার, পরস্পরকে বোঝার, ভালোবাসা-বৃদ্ধির, কাছাকাছি হওয়ার, সম্পর্ককে উন্নত ও সুদৃঢ় করার। হজ্জকালীন আল্লাহ্‌র অনুকম্পার বহিঃপ্রকাশ এইভাবে ঘটে যে, একজন মানুষ ভালো কাজ করার ধারাবাহিক সুযোগ পায়। সর্বোত্তম পথে একজনের মুসলিম ভ্রাতৃবর্গের সেবা করে। আর দরিদ্র ও অভাবী মানুষের সহযোগিতা আল্লাহ্‌ তাআলার মহাউপহার অর্জনের অন্যতম মাধ্যম।

 

হজ্জ কুর্‌আনের আলোকে

কুর্‌আনের বহু আয়াতে উল্লেখ আছে, হজ্জ মুসলমানদের জন্য অত্যাবশ্যক কর্তব্য ও ফরজ কাজ। নিম্নে কুর্‌আনের কয়েকটি আয়াত :

নিশ্চয়ই স্বাফা ও মারওয়া আল্লাহ্‌র নিদর্শনসমূহের অন্যতম। সুতরাং যে কা’বাগৃহের হজ্জ বা উম্‌রা সম্পাদন করে, তার জন্য এই দুটি প্রদক্ষীণ করলে কোনো পাপ নেই। আর কোনো ব্যক্তি স্বেচ্ছায় কোনো পুণ্যকাজ করলে, আল্লাহ্‌ গুণগ্রাহী, সর্বজ্ঞাতা”। (সূরা বাকারা ২:১৫৮)

 

“আর আল্লাহ্‌র উদ্দেশ্যে হজ্জ ও উম্‌রা (নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নির্দেশিত পথে এর সমস্ত পবিত্র অনুশীলন) পূর্ণভাবে সম্পাদন করো”। (সূরা বাকারা ২:১৯৬, ১৯৭, ১৯৮)

 

“আর আল্লাহ্‌ তাআলার উদ্দেশ্যে কা’বাগৃহের হজ্জ ওই সমস্ত লোকের জন্য আবশ্যিক কর্তব্য যারা সেখানে পৌঁছানোর সামর্থ্য রাখে (যানবাহন, খাদ্যদ্রব্য ও বসবাসের খরচ বহন করতে পারে) এবং যে ব্যক্তি অবিশ্বাস করবে (অর্থাৎ মক্কার হজ্জকে অস্বীকার করে), (সে জেনে রাখুক) আল্লাহ্‌ তাআলা সৃষ্টিজগতের প্রতি অমুখাপেক্ষী”। (সূরা আল-ইম্‌রান ৩:৯৭)

 

 “এবং মানুষের মাঝে হজ্জের ঘোষণা দাও, তারা তোমার কাছে আসবে পায়ে হেঁটে ও সর্বপ্রকার ক্ষীণকায় উঁটের পিঠে আরোহণ করে, তারা আসবে দূর-দূরান্তর পথ অতিক্রম করে”। (সূরা হাজ্জ ২২:২৭)

 

সুন্নাহ্‌র আলোকে হজ্জ

বিভিন্ন হাদিসে উল্লেখ আছে, হজ্জ মুসলমানদের ওপর ফরজ এবং তার প্রতিদান জান্নাত ব্যতীত আর কিছু নয়। নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের কতিপয় হাদিস নিম্নে উল্লেখ করা হলো :

ইবনেউমার(রাঃ) বর্ণনাকরছেন, আল্লাহ্‌রনবি(সঃ) বলেন: “ইসলামপাঁচটিস্তম্ভেরওপরপ্রতিষ্ঠিত:

১।এইসাক্ষদেওয়াযেআল্লাহ্‌ তাআলাব্যতীতকোনোউপাস্যনেইএবংমুহাম্মাদসাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের আল্লাহ্‌ররসূল,

২।স্বালাতপ্রতিষ্ঠাকরাকর্তব্যপরায়নতার সঙ্গেওযথার্থরূপে

৩।যাকাতপ্রদানকরা,

৪।(কা’বাগৃহের) হজ্জএবং

৫।রমযানেরসওমপালন”।(সহিবুখারি:, সহিমুসলিম:)

 

আল্লাহ্‌র রসূল (সঃ) বলেন : “যে ব্যক্তি কোনো সুস্পষ্ট, কোনো অত্যাচারী শাসক বা এমন কোনো অসুখ যা তাকে ঘরে অবস্থান করতে বাধ্য করে, এগুলো দ্বারা হজ্জ-সম্পাদন হতে বাধাপ্রাপ্ত না হয় এবং হজ্জ সম্পাদন না করেই মৃত্যুবরণ করে তাহলে তার ইচ্ছা, সে খ্রিষ্টান হয়ে মরুক বা ইহুদি হয়ে”। (তিরমিযি ২৫৩৫, আবু উমামা (রাঃ) হাদিসটি বর্ণনা করেছেন)।

 

আবু হুরাইরা (রাঃ) বর্ণনা করছেন, আমি রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি : “যে ব্যক্তি হজ্জ করে এবং কোনো অশ্লীল কথা বলে না কিংবা পাপ করে না সে পাপরাশি হতে পবিত্র হয়ে ফিরে আসে ঠিক সেদিনের মতো যেদিন তার মা তাকে জন্ম দিয়েছিল”। (সহি বুখারি)

 

আয়েশা (রাঃ) নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন : “আমরা দেখছি জিহাদ সর্বোত্তম কাজ, আমাদের কি জিহাদ করা উচিত নয় ?” নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম উত্তর দিলেন : “বরং সর্বোত্তম জিহাদ হজ্জে মাব্‌রুর"” অতঃপর আয়েশা (রাঃ) বলেন : রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট একথা শোনার পর আমি কখনো হজ্জ ত্যাগ করেনি”। (সহি বুখারি ও সহি মুস্‌লিম)

 

আবু হুরাইরা (রাঃ) বর্ণনা করছেন, আমি রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি : “যে ব্যক্তি আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ্জ করে এবং কোনো যৌনাচার করে না, পাপ করে না অথবা অনর্থ ঝগড়া করে না, সে (পাপরাশি হতে পবিত্র হয়ে) ফিরে আসে ঠিক সেদিনের মতো যেদিন তার মা তাকে জন্ম দিয়েছিল”। (সহি বুখারি : ১৪৪৯, সহি মুস্‌লিম : ১৩৫০)

 

আবু হুরাইরা (রাঃ) বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলেন : “উম্‌রা এর এবং পূর্ববর্তী উম্‌রার মাঝের সময়কালের জন্য প্রায়শ্চিত্ত, আর একটি গ্রহণযোগ্য হজ্জের প্রতিদান জান্নাত ব্যতীত আর কিছু নেই”। (সহি বুখারি  : ১৬৮৩, সহি মুস্‌লিম : ১৩৪৯)

 

আরও দেখুন

শাহাদাহ্‌, স্বালাহ্‌, যাকাত, সওম, ঈমানের স্তম্ভসমূহ, আল্লাহ্‌ কে?, নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম।

 

তথ্যসূত্র

  • হজ্জ ও উম্‌রার নিয়মাবলি (শায়খ নাসিরুদ্দিন আল্‌বানি),
  • হজ্জ ও উম্‌রার অনুশীলন কীভাবে সম্পাদন করবে (শায়খ স্বালিহুল উসাইমিন),
  • হজ্জ ও তাওহিদ (ডাঃ স্বালেহ্‌ আস্‌-স্বালেহ্‌),
  • হজ্জ-গাইড (শায়খ আরশাদ বাশির মাদানি)।

 

626 Views
Correct us or Correct yourself
.
Comments
Top of page