স্বালাত – ইসলামের দ্বিতীয়তম স্তম্ভ


স্বালাত ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে দ্বিতীয়তম। ইসলামে স্বালাত একটি ফরজ কাজ, যা প্রত্যহ পাঁচবার প্রতিষ্ঠা করা আবশ্যক। স্বালাতের উদ্দেশ্য আল্লাহ্‌ তাআলার প্রতি মস্তিষ্ককে কেন্দ্রীভুত করা। সেটাকে তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগস্বরূপ মনে করা হয়, যা আরাধনা ও কৃতজ্ঞতার বিষয়টি স্পষ্ট করে। স্বালাত একটি অপরিহার্য অনুশীলন। স্বালাত ইসলামের বৃহত্তম ভিত্তিসমূহের অন্তর্ভুক্ত। ঈমানের কার্যসমূহের মধ্যে তার স্থান সর্বোচ্চে এবং আল্লাহ্‌ তাআলা পর্যন্ত পৌঁছার নিকটতম পথ। স্বালাত পড়া হয় আরবি ভাষায় এবং তা কুর্‌আনের বিভিন্ন আয়াতের সমন্বয়ে গঠিত। স্বালাত তওবাকারীদের জন্য আশ্রয়স্থল, ভীত-সন্ত্রস্তদের জন্য নিরাপদ স্থান, কঠোর-কায়িক পরিশ্রমীর জন্য সর্বোত্তম সম্পদ এবং উপাসনাকারীদের হৃদয়ের প্রশান্তি। 

 

বিষয়সূচি

 

আভিধানিক অর্থ

স্বালাত ইসলামের মধ্যে দস্তুর-মাফিক দুআর নাম। স্বালাত ধর্মের বাধ্যতামূলক অধিকারগুলির মধ্যে অন্যতম একটি, যা মুসলিম কর্তৃক প্রত্যহ পাঁচবার সম্পাদিত হয়। আস-স্বালাহ একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ দুআ (প্রার্থনা)।

 

ইসলামি পরিভাষা

ইসলামি পরিভাষায় এর অর্থ : কিছু নির্দিষ্ট ও বিবৃত বচন ও কর্মের মাধ্যমে আল্লাহ্‌ তাআলার ইবাদত করা, যা শুরু হয় তাক্‌বির দিয়ে (“আল্লাহু আক্‌বার” (আল্লাহ্‌ সুমহান) বাক্যটি দিয়ে) এবং সমাপ্ত হয় সালাম দিয়ে (অর্থাৎ “আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহ্‌মাতুল্লাহ” (তোমাদের প্রতি আল্লাহ্‌ শান্তি ও করুণা বর্ষিত হোক) বাক্যটি দিয়ে)।

 

স্বালাতের আটটি অর্থ

১। প্রথমের পরবর্তী, অর্থাৎ দ্বিতীয় স্থান – আরবি কবিগণ শব্দটি এই অর্থে ব্যবহার করেছেন।

 

২। দরুদে ইব্রাহিম, (সহি বুখারি ৬/৩২০-৩২২)।

 

৩। প্রার্থনা (কুর্‌আন ৯:১০৩)।

 

৪। প্রজ্জ্বলিত শিখাবিশিষ্ট আগুনে কিছু প্রবিষ্ট করা। (কুর্‌আন ১১১:৩)

 

৫। আল্লাহ্‌র বিশেষ অনুগ্রহ। (কুর্‌আন ৩৩:৫৬)

 

৬। উপাসনালয়। (কুর্‌আন ২২:৪০)

 

৭। সুউচ্চ সম্মানসূচক প্রশংসা ও আল্লাহ্‌র নিকট তাঁর বিশেষ অনুগ্রহ কামনা করা। (কুর্‌আন ৩৩:৫৬)

 

৮। দেহের নিন্মাঙ্গের কর্ম বা গতি।

 

৯। নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের শেখানো ইবাদত ও স্বালাত।

 

হাদিস অস্বীকারকারীদের জন্য সতর্কবাণী

যদি কেউ  أَقِيمُوا الصَّلَاةَ(সূরা বাকারা ২:৪৩) আয়াতটি পাঠ করে এবং এর মধ্যে উল্লেখিত স্বালাত শব্দটির অর্থ হাদিস বর্জন করে তার উল্লেখিত নয়টি আভিধানিক অর্থগুলির মধ্যে সন্ধান করে, যেমন“প্রজ্জ্বলিত অগ্নিকুণ্ডে প্রবিষ্ট করা” (سَيَصْلَىٰ نَارًا ذَاتَ لَهَبٍসূরা লাহাব ১১১:৩) অথবা“দেহের নিম্নাঙ্গের গতি”, তাহলে সেই লোকটি নিশ্চিত বিপথগামী হবে; কেননা হাদিসের মধ্যে নবি (সঃ) স্বালাতের যেভাবে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, সেভাবে সে তা বোঝে না।মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : “স্বল্লু কামা রআয়তুমুনি উস্বল্লি” অর্থাৎ তোমরা স্বালাত প্রতিষ্ঠা করো ঠিক সেভাবে, যেভাবে আমাকে স্বালাত আদায় করতে দেখছ।(সহি বুখারি : ৬০৪)

 

সুতরাংকুর্‌আনকে বুঝতে হবে নবি মুহাম্মাদ (সঃ)-এর পথে অর্থাৎ হাদিসের আলোকে। যদি কেউ নবি মুহাম্মাদ (সঃ)-এর সুন্নাতকে বর্জন করে এবং কেবল কুর্‌আনের আভিধানিক অর্থের মাধ্যমে ইসলামকে বুঝতে চাই, তাহলে নিশ্চিত সে পথভ্রষ্ট হবে। 

 

কুর্‌আন

 “(হে মুহাম্মাদ !) তুমি তোমার প্রতি প্রত্যাদিষ্ট কিতাব আবৃত্তি করো এবং স্বালাত প্রতিষ্ঠা করো। নিশ্চয়ই স্বালাত বিরত রাখে অশ্লীল ও মন্দ কার্য হতে। আর আল্লাহ্‌র স্মরণই সর্বশ্রেষ্ঠ। তোমরা যাকিছু করো আল্লাহ্‌ তা জানেন”। [সূরা আন্‌কাবুত ২৯:৪৫]

 

স্বালাত মু’মিনের মধ্যে প্রভু-সচেতনতা সৃষ্টি করে ও পরিপুষ্ট করে এবং তাকে পাপে নিমগ্ন হতে বাধা দেয়। বিশেষত যদি একজন মু’মিন নিয়মিত ও নির্ভুলরূপে স্বালাত প্রতিষ্ঠা করে, তাহলে সে পাপ করার বিষয়ে নিরুৎসাহী থাকবে, কারণ তারা স্বালাত সম্পর্কে ভাববে যে, তারা এক্ষণি স্বালাত আদায় করেছে এবং পরবর্তী স্বালাত তারা আদায় করবে।

 

কুর্‌আনে উল্লেখিত একমাত্র আয়াত, যাতে পাঁচ ওয়াক্ত স্বালাতের কথা অভিব্যক্ত হয় : “সুতরাং তারা যা বলে সেবিষয়ে তুমি ধৈর্যধারণ করো এবং সূর্যোদয়ের পূর্বে ও সূর্যাস্তের পূর্বে তোমার প্রতিপালকের সপ্রশংসা পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করো এবং রাত্রিকালে ও দিনের প্রান্তসমূহে পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করো, যাতে তুমি সন্তুষ্ট হতে পারো”। [সূরা ত্বাহা ২০:১৩০]   

 

হাদিস

 “প্রত্যহ পাঁচ ওয়াক্তের স্বালাত ও জুম্‌আর স্বালাত পরবর্তী জুমআহ্‌র স্বালাত আসা পর্যন্ত সেগুলোর মধ্যবর্তী সময়ে ঘটে যাওয়া সমস্ত পাপরাশির প্রায়শ্চিত্ত”। (সহি মুস্‌লিম : ৪৪৮)

 

নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলেন : “নিশ্চয়ই (মু’মিন) ব্যক্তি এবং শির্‌ক (বহু দেববাদ) ও কুফ্‌রের মধ্যে পার্থক্য হলো স্বালাত পরিত্যাগ করা”। (সহি মুস্‌লিম : ৫২; সুনানে ইবনে মাজাহ্‌, ২য় খণ্ড, ৫ম অধ্যায়, হাঃ ১০৭৮)

 

স্বালাতের গুরুত্ব

স্বালাত ইসলামের বৃহত্তম ভিত্তিসমূহের অন্তর্ভুক্ত, ঈমানের কর্মসমূহের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং আল্লাহ্‌র নৈকট্যলাভের নিকটতম পথ। স্বালাত একজন মুসলিম আর একজন অমুস্‌লিমের মাঝে পার্থক্য নিরুপণ করে। স্বালাত তওবাকারীদের (অনুশোচনাকারীদের) জন্য আশ্রয়স্থল, ভীত-সন্ত্রস্তদের জন্য নিরাপদ স্থান, কঠোর-কায়িক পরিশ্রমীর জন্য সর্বোত্তম সম্পদ এবং উপাসনাকারীদের হৃদয়ের প্রশান্তি।  এর আলো হৃদয়ে জমে থাকা মরিচা পরিষ্কার করে, এর রহস্যসমূহ অন্তঃকরণের নিভৃত কোণে প্রবেশ করে এবং এর পথনির্দেশক স্তম্ভগুলি সর্বোচ্চ লক্ষ ও আকাঙ্ক্ষার পথপ্রদর্শন করে।

 

স্বালাত ইবাদতের চুড়ান্ত রূপ

আল্লাহ্‌ তাআলার ইবাদত ও নৈকট্যলাভের জন্য সমস্ত অনুশীলনের মধ্যে তিনি সর্বোৎকৃষ্ট ও পূর্ণাঙ্গতম ধারায় স্বালাতকে সুবিন্যস্ত করেছেন। এতে প্রকাশ হয় আল্লাহ্‌র মহিমা ও প্রশংসা, যাতে নিয়োজিত হয় শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ। জিহ্বা আবৃত্তি করে, হাত-পা নড়াচড়া করে, এবং এটা আমন্ত্রণ জানায় মস্তিষ্ক ও অন্য সমস্ত ইন্দ্রিয়কে তথা সর্বাঙ্গকে।  

 

ইবাদতের এই মহা-অনুশীলনটি সম্পাদন করে যে ফল পাওয়া যায়, তাতে প্রত্যেকটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অংশ গ্রহণ করে, এমনকি গোপন ইন্দ্রিয়গুলিও। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো, স্বালাতের মধ্যে পরম উপাসনায় অংশ নিয়ে হৃদয় সমৃদ্ধ হয়।

 

প্রশংসা, আরাধনা, তাস্‌বিহ ও তাক্‌বির, অনুরূপ সত্যের ঘোষণা ইত্যাদি নিয়ে স্বালাত গঠিত। এর মধ্যে রয়েছে মহান প্রভু ও স্রষ্টার সম্মুখে দাসত্ব ও বিনয় সহকারে কিয়াম (দাঁড়ানো), সৃষ্টির প্রতি তাঁর তত্ত্বাবধান, মনোযোগ ও যত্নের অনুভূতি। এর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে আল্লাহ্‌ তাআলার সামনে বিনয় ও নম্রতা প্রকাশ এবং তাঁরই বাণী ব্যবহার করে তাঁর নিকট প্রার্থনার মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য অর্জন। অতঃপর তাঁর উদ্দেশ্যে বিনয়, বশ্যতা-স্বীকার এবং স্বীয় মুখাপেক্ষার স্বীকারোক্তি সহকারে সেজদা। এস্থানে সে তার দেহের সবচেয়ে সম্মাননীয় অঙ্গ (তার মুখমণ্ডল) ভূপৃষ্ঠে রেখে দেয় স্বীয় প্রতিপালকের মুখাপেক্ষী ও অনুগত হয়ে এবং তাঁর মহত্ত্ব ও ক্ষমতা স্বীকার করে। এই অবস্থায় তার হৃদয় থাকে বিনয়ী, শরীর থাকে অনুগত এবং ইন্দ্রিয়গুলি থাকে (আল্লাহ্‌র প্রতি) মনোনিবিষ্ট। (মিফ্‌তাহু দ্বারিস্‌ সাআ'দাহ্‌ ২/২৩০-২৩১)

 

আল্লাহ্‌র একটি উপহার

স্বালাত স্বীয় বিশ্বাসী বান্দাদের প্রতি আল্লাহ্‌ তাআলার অনুগ্রহ। তিনি তাঁর সত্যবাদী ও নিষ্ঠাবান নবির মাধ্যমে তাদেরকে এর পথ দেখিয়েছেন, তাদেরকে এর সঙ্গে পরিচিত করেছেন এবং তাদেরকে একটি উপহারস্বরূপ এটা দান করেছেন; যেন তারা এর মাধ্যমে তাঁর অনুগ্রহ ও অনুকম্পা অর্জন করতে পারে।   

 

স্বালাতের মধ্যে তাঁর যে উদ্দেশ্য নিহিত আছে, তা হলো : তিনি তাদের জন্য যে মর্যাদা ও সম্মান প্রস্তুত রেখেছেন, তাদেরকে তার উপযুক্ত করে তোলা এবং তাঁর নিকটবর্তী স্থান জয় করতে তাদেরকে সাহায্য করা। এবিষয়ে তিনি তাদের মুখাপেক্ষী নয়, বরং এটা তাঁর পরম মহানুভবতা।

 

স্বালাতের মাধ্যমে আল্লাহ্‌ তাআলা বিশ্বাসীগণকে তাদের হৃদয় ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দ্বারা তাদের দাসত্ব প্রকাশের পথপ্রদর্শন করেছেন। হৃদয়ই আল্লাহ্‌ তাআলাকে বেশি জানে, তাই সেই এর দ্বারা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়। সে আল্লাহ্‌ তাআলার বেশি বেশি নৈকট্যলাভের অধিক উদগ্রীব হবে এবং তাঁর দিকে সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাবর্তন করবে। এই অবস্থায় সে অনুভব করবে আনন্দ ও প্রশান্তি। সে আস্বাদন করবে তাঁর ভালোবাসা। এই স্বালাত কিয়ামতদিবসে আল্লাহ্‌ তাআলার সামনে দীর্ঘ দাঁড়ানোর একটি অবিরত স্মারকের কাজ দেয়।   

 

পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ স্বালাতের সময়

প্রত্যহ পাঁচ ওয়াক্তের স্বালাত প্রত্যেক নর ও নারী মুস্‌লিমের জন্য ফরজ। আমরা কোনোক্রমেই ইসলামি স্বালাত বর্জন করতে পারি না। স্বালাত মুসলিম হিসেবে আমাদের পরিচিতির একটা অংশ।

 

পাঁচ ওয়াক্ত স্বালাতের সময়গুলি হলো :  

  • সুবহে সাদিক ও সূর্যোদয়ের মধ্যবর্তী সময়।
     
  • সূর্যের মধ্যাকাশ অতিক্রম করার পর।
     
  • মধ্য বিকাল ও সূর্যাস্তের মধ্যবর্তী সময়।
     
  • সূর্যাস্ত ও দিনের শেষ আলোর মধ্যবর্তী সময়।
     
  • অন্ধকার ও মধ্যরাত্রীর মধ্যবর্তী সময়।

 

সাধারণ পথনির্দেশিকা

১। কিব্‌লার দিক এবং আপনার অবস্থানরত স্থানে স্বালাতের সময় জানুন (নিকটবর্তী সুন্নি মসজিদে যোগাযোগ করুন)।

 

২। গতিবিধি ও ছোটো ছোটো বাক্যগুলি শিখুন। স্বালাতের মধ্যে যা পাঠ করতে হয়, তা অনুশীলন করুন।

 

৩। কুর্‌আনের প্রথম অধ্যায়ের (সূরা ফাতিহা) আবৃত্তি শেখার জন্য সাধনা করুন।

 

স্বালাতের সুফল  

১। স্বালাতআল-ফাহ্‌শা (সর্বপ্রকার মহাপাপ ও অবৈধ যৌনাচার) এবং আল-মুন্‌কার (অবিশ্বাস, শির্‌ক ও সর্বপ্রকার অবৈধ কর্ম) হতে বিরত রাখে। (কুর্‌আন ২৯:৪৫)

 

২। ঈমানের সাক্ষ্যবাণীর পর সর্বোত্তম কর্ম। (দেখুন :আব্দুল্লাহ্‌ ইবনে মাস্‌উদ (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদিস, বুখারি : ৯/৬২৫ ও মুস্‌লিম)

 

৩। পাপরাশিকে ধুয়ে ফেলে। (হাদিসটি জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত, মুস্‌লিম : ১/১৪১০)

 

৪। পাপের প্রায়শ্চিত্ত। (হাদিসটি আবু হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, মুস্‌লিম : ১/৪৫০)

 

৫। এর আদায়কারীদের জন্য ইহ-জীবন ও পরলৌকিক জীবনে একটি আলোকবর্তিকা। (হাদিসটি ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, মুস্‌নাদে আহ্‌মাদ : ২/১৬৯, এর সনদটি সহি)।

 

৬। মর্যাদা সমুন্নত করে এবং পাপ মুছে ফেলে। (হাদিসটি সাওবান (রাঃ) হতে বর্ণিত, মুস্‌লিম : ১/৯৮৯)

 

৭। রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে জান্নাতে প্রবেশ করার একটি বৃহত্তম উপায়। (হাদিসটি রাবিআ’হ্‌ (রাঃ) হতে বর্ণিত, মুস্‌লিম : ১/৯৯০)

 

৮। দুই স্বালাতের মধ্যবর্তী সময়ে ঘটে যাওয়া পাপসমূহ ক্ষমা করে দেয়া হয়। (হাদিসটি উস্‌মান (রাঃ) হতে বর্ণিত, মুস্‌লিম : ১/৪৩৮)

 

৯। ফেরেশ্তাগণ আল্লাহ্‌ তাআলার নিকট স্বালাত আদায়কারী লোকদের জন্য ক্ষমা ও অনুগ্রহ প্রার্থনা করবেন। (হাদিসটি আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, বুখারি : ৩/৩৩০ ও মুস্‌লিম)

 

১০। একটি স্বালাত আদায় করার পর পরবর্তী স্বালাতের জন্য অপেক্ষা করা হলো রিবাত (অর্থাৎ আনুগত্যের কার্যের ওপর অবিচল ও মগ্ন থাকা)। (হাদিসটি আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, মুসলিম : ২৫১)

 

১১। যে ব্যক্তি স্বালাত প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে মসজিদে গমন করে, সে ওখান থেকে প্রত্যাবর্তন পর্যন্ত স্বালাতের মধ্যেই থাকে। (হাদিসটি আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, সহি ইবনে খুযাইমা; আল্‌বানি হাদিসটিকে সহি বলেছেন)।

 

আরও দেখুন

আল্লাহ্‌ কে; নবি মুহাম্মাদ (সঃ), ইসলামের স্তম্ভসমূহ, হজ্জ।

 

তথ্যসূত্র

স্বালিহ্‌ আস-স্বালিহ প্রণীত পুস্তক : স্বালাত
http://understand-islam.net/salat/05.html

alhameedy.wordpress.com

435 Views
Correct us or Correct yourself
.
Comments
Top of page