শেষ দিবসের (কিয়ামত-দিবস) প্রতি ঈমান


শেষ দিবস সেই দিন, যেদিন সমগ্র মানবজাতিকে তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য পুনরুত্থিত করা হবে এবং তারা স্বীয় কৃতকর্ম অনুযায়ী পুরস্কার বা শাস্তি লাভ করবে। এই দিনটিকে শেষ দিবস বলার কারণ, এটা সেই অন্তিম দিন যার পর কোনো দিন হবে না। এরপরে জান্নাতিরা স্থায়ীভাবে জান্নাতে বসবাস করবে আর জাহান্নামিরাও স্থায়ীভাবে জাহান্নামে বসবাস করবে। [১]

 

কিয়ামতদিবসের প্রতি ঈমানের অর্থ : এই দৃঢ় বিশ্বাস যে, এমন প্রত্যেক জিনিস, মৃত্যুর পর যার সংঘঠনের কথা আল্লাহ্‌ তাআলা তাঁর গ্রন্থ আল-কুর্‌আনে এবং রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম তাঁর বাণীতে আমাদের জানিয়েছেন, সেগুলো নিশ্চয়ই সংঘটিত ও প্রতিষ্ঠিত হবে। এই ঈমানের অন্তর্ভুক্ত কিয়ামতদিবস সংঘটিত হওয়ার পূর্বমুহূর্তের নিদর্শনসমূহের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন; মৃত্যু এবং মানুষের মৃত্যুশয্যায় শায়িত থাকা অবস্থায় যে পরিস্থিতি তৈরি হয়, তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন; মৃত্যুর পরে যা ঘটবে, অর্থাৎ কবরের শাস্তি, যন্ত্রণা বা প্রশান্তির প্রতি বিশ্বাস স্থাপন; শিঙ্গায় ফুৎকার ও পুনরুত্থান এবং পুনরুত্থান-দিবসের ভীতির প্রতি বিশ্বাস স্থাপন; জমায়েত ও হিসাব-নিকাশের বিবরণের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন; জান্নাত ও তার সুখ-সম্ভোগের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন, যার শীর্ষে আছে আল্লাহ্‌ তাআলার মুখদর্শন; এবং জাহান্নাম ও তার যন্ত্রণার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন যার মধ্যে কঠিনতম জিনিস হলো আল্লাহ্‌র দর্শন হতে বঞ্চনা। আর এই বিশ্বাসসমূহ হতে যে অর্থ বোধগম্য হয়, সেই অনুযায়ী কার্যসম্পাদন কিয়ামতদিবসের প্রতি ঈমানের অন্তর্ভুক্ত। [আ’লামুস্‌ সুনানিল্‌ মানশুরাহ্‌ : ১১০, শারহুল উসুলিস্‌ সালাসাহ্‌ (শায়খ স্বালিহ্‌ বিন উসাইমিন) : ৯৮-১০২] [২]  

 

বিষয়সূচি

 

কুর্‌আন

প্রত্যেক মানুষকে বিশ্বাস করতে হবে যে, এই পার্থিব জীবন একদিন নিঃশেষ হবেই। আল্লাহ্‌ তাআলা বলছেন : “ভূপৃষ্ঠে যা কিছু আছে সবই নশ্বর”। (কুর্‌আন ৫৫:২৬) যখন আল্লাহ্‌ তাআলা এই পৃথিবীকে ধ্বংস করতে চাইবেন তখন তিনি ফেরেশতা ‘ইস্রাফিল’-কে শিঙ্গায় ফুৎকার দিতে বলবেন। সেই মুহূর্তেই পৃথিবীর সবকিছু ধংস হয়ে যাবে। অতঃপর তিনি আবার তাঁকে তাতে ফুৎকার দিতে বলবেন। ফলস্বরূপ আদম (আঃ) থেকে শুরু করে সারা বিশ্বের সমস্ত মানুষ তাদের কবর থেকে উত্থিত হবে। আল্লাহ্‌ তাআলা বলছেন : “সেদিন শিঙ্গায় ফুৎকার দেওয়া হবে, ফলে আকাশমণ্ডলি ও পৃথিবীর সকলে মুর্ছিত হয়ে মারা পড়বে। অতঃপর আবার শিঙ্গায় ফুৎকার দেওয়া হবে, ফলে তারা দণ্ডায়মান হয়ে তাকাতে থাকবে”। (কুর্‌আন ৩৯:৬৮)

 

কিয়ামতদিবসের প্রতি ঈমানের তিনটি অংশ

১। পুনরুত্থানের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন

যখন দ্বিতীয়বার শিঙ্গায় ফুৎকার দেওয়া হবে তখন পুনরুত্থান ঘটবে। এরপর সমগ্র মানবজাতি পুনরুত্থিত হবে এবং আল্লাহ্‌ তাআলার প্রশ্নের সম্মুখীন হবে। আল্লাহ্‌ সুব্‌হানাহু ওয়া তাআলা বলছেন : “যেভাবে আমি সৃষ্টির সূচনা করেছিলাম, সেভাবে পুনরায় সৃষ্টি করবো। প্রতিশ্রুতি পালন আমার কর্তব্য, আমি এটা পালন করবোই”। (কূর্‌আন ২১:১০৪)

 

পুনরুত্থান একটি সত্য ঘটনা যা কুর্‌আন, হাদিস ও মুস্‌লিমদের ঐক্য (ইজমা’) হতে প্রমাণিত। আল্লাহ্‌ তাআলা বলছেন : “এরপর তোমরা অবশ্যই মৃত্যুবরণ করবে। অতঃপর কিয়ামতের দিন তোমাদেরকে অবশ্যই পুনরুত্থিত করা হবে”। (কুর্‌আন ২৩:১৫-১৬)

 

কিয়ামতের দিন সংঘটিত হবে, এবিষয়ে মুসলমানরা একমত। এটা আল্লাহ্‌ তাআলার প্রজ্ঞা যে, তিনি প্রথমে মানবজাতিকে তাঁর নির্দেশাবলির জানানো দেওয়ার জন্য নবিদের প্রেরণ করেছেন, তারপর এই বিধান জারি করেছেন যে, একদিন তাদের কৃতকর্মের হিসাব-নিকাশ হবে। তিনি বলছেন : “তোমরা মনে করেছিলে যে, আমি তোমাদেরকে অনর্থক (কোনো উদ্দেশ্য ছাড়াই) সৃষ্টি করেছি এবং আমার নিকট তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে না”। (কুর্‌আন ২৩:১১৫) “নিশ্চয়ই (হে মুহাম্মাদ !) যিনি তোমার প্রতি কুর্‌আনের দায়িত্বভার অর্পণ করেছেন তিনি তোমাকে অবশ্যই স্বদেশে ফিরিয়ে আনবেন। বলো, আমার প্রতিপালক ভালো জানেন কে সৎপথের নির্দেশ এনেছে এবং কে বিভ্রান্তিতে আছে”। (কুর্‌আন ২৮:৮৫)

 

২। হিসাব-নিকাশের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন

পরকালে বান্দা তার কৃতকর্মের জন্য পুরস্কৃত হবে অথবা শাস্তিপ্রাপ্ত হবে। এই সত্যটি কুর্‌আন, সুন্নাহ্‌ ও মুস্‌লিম-ঐক্য (ইজমা’) দ্বারা প্রমাণিত। আল্লাহ্‌ তাআলা বলছেন : “নিশ্চয়ই তাদের প্রত্যবর্তন আমারই নিকট হবে এবং তাদের হিসাব-নিকাশের দায়িত্ব্ব আমার ওপর”। (কুর্‌আন ৮৮:২৫-২৬) “কেউ সৎকাজ করলে সে তার দশগুণ প্রতিদান পাবে এবং অসৎকাজ করলে, তাকে শুধু তার সমপরিমান প্রতিফল দেওয়া হবে। আর তারা অত্যাচারিত হবে না”। (কুর্‌আন ৬:১৬০) “কিয়ামতদিবসে আমি স্থাপন করবো ন্যায় বিচারের দাঁড়িপাল্লাসমূহ; সুতরাং কারো প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না। কর্ম যদি সরিষার দানা পরিমাণও হয়, তবুও আমি তা উপস্থিত করবো। আর হিসাব গ্রহণকারীরূপে আমিই যথেষ্ট”। (কুর্‌আন ২১:৪৭)

 

রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : “আল্লাহ্‌ তাআলা ঈমানদারকে তাঁর খুব কাছে নিয়ে আসবেন এবং তাকে (তার দুষ্কর্মের জন্য অন্যদের সামনে) তিরস্কৃত হবার হাত থেকে রক্ষা করবেন। তিনি জিজ্ঞাসা করবেন : “তোমার অমুক অমুক কাজের কথা মনে আছে ? তোমার অমুক অমুক কাজের কথা মনে আছে ?” সে বলবে : হ্যাঁ, আমার প্রতু ! যখন সে তার দুষ্কর্মের কথা স্বীকার করে নেবে এবং ভাববে যে, সে ধংসের উপকণ্ঠে রয়েছে, তখন তিনি (আল্লাহ্‌) বলবেন : “আমি পার্থিব জীবনে তোমাকে (অন্যদের সামনে তিরস্কৃত হবার হাত থেকে) রক্ষা করেছি। আজ আমি তোমার জন্য তাদেরকে ক্ষমা করে দিচ্ছি। অতঃপর তাকে তার কৃতকর্মের তথ্য দেওয়া হবে। আর অবিশ্বাসী ও মুনাফিকদেরকে তো প্রকাশ্যে ডাকা হবে। “এরাই তাদের প্রতিপালকের ওপর মিথ্যারোপ করেছিল (তাদের নবিদের প্রতি আল্লাহ্‌ তাআলার অবতীর্ণ করা পথনির্দেশিকা অনুসরণ করেনি)। তাই, অন্যায়কারীরা আল্লাহ্‌ তাআলার অভিসম্পাতের মধ্যে নিপতিত হবে”। (সহি বুখারি ও মুস্‌লিম)

 

 “যে ব্যক্তি কোনো সৎকর্ম করার ইচ্ছা করবে এবং সেটা করবে, আল্লাহ্‌ আআলা তার জন্য সে কাজটি (তার সওয়াব) দশগুণ থেকে সাতশো গুণ বরং আরও অনেক অনেক বেশি বাড়িয়ে দেবেন। আর যে ব্যক্তি কোনো পাপকার্য করার ইচ্ছা করবে এবং সেটা করবে, আল্লাহ্‌ তাআলা তার জন্য তার কেবল সেই পাপকার্যটিই লিপিবদ্ধ করবেন”। (সহি বুখারি ও মুস্‌লিম ২৩৭)

 

হিসাব-নিকাশের দিন আসবে, এবিষয়ে মুসলমানরা একমত। এটা আল্লাহ্‌ তাআলার প্রজ্ঞা যে, তিনি গ্রন্থ অবতীর্ণ করেছেন, নবি ও রসূলগণকে প্রেরণ করেছেন এবং আদেশবাণী দিয়েছেন যা তাঁরা গ্রহণ করেছেন, অনুসরণ করেছেন এবং আনুগত্য করেছেন। যে কেউ তাঁদের বিরোধিতা করবে, তার সঙ্গে জিহাদের নির্দেশ দিয়েছেন। তাদের রক্তপাতের অনুমতি দিয়েছেন। তবে এথেকে মুক্তি দিয়েছেন তাদের শিশুসন্তানদের, মহিলাদের এবং তাদের অধিকৃত দাস-দাসীদের। যদি হিসাব-নিকাশের দিন না থাকত তাহলে এই আদেশবাণী হত কেবল সময় অপচয়ের বিষয়। আল্লাহ্‌ তাআলা এমন আনন্দপূর্ণ খেলা হতে পবিত্র। “অতঃপর যাদের নিকট রসূল প্রেরণ করা হয়েছিল, তাদেরকে আমি অবশ্যই জিজ্ঞাসাবাদ করবো এবং অবশ্যই জিজ্ঞাসাবাদ করবো রসূলগণকেও। তারপর অবশ্যই আমি তাদের নিকট সজ্ঞানে তাদের কার্যাবলি বিবৃত করবো। আর আমি তো অনুপস্থিত ছিলাম না”। (কুর্‌আন ৭:৬-৭)

 

৩। জান্নাত ও জাহান্নামের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন

এদুয়ের মধ্যে যে যার উপযুক্ত হবে, সেটাই হবে তার সর্বশেষ ও চিরস্থায়ী আবাসস্থল। জান্নাত হলো পরম সুখ ও আনন্দের আস্তানা, যেটা আল্লাহ্‌ তাআলা প্রস্তুত করেছেন বিশ্বাসীদের জন্য। যাঁরা তাঁকে ভয় করেছে, তাঁর কাম্য বিষয়সমূহের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং তাঁর ও তাঁর নবির আনুগত্য করেছে। তারা ওই সমস্ত লোক, যারা আল্লাহ্‌র জন্য আন্তরিক ও একনিষ্ঠ এবং তাঁর রসূলের অনুগত। চোখ যেটা কখনো দেখে না, কান যেটা শুনতে পায় না এবং মাথায় যার ধারণা আসে না (যার আনন্দ আল্লাহ্‌ তাআলা মুমিনদের জন্য রেখেছেন)।

 

আল্লাহ্‌ তাআলা বলছেন : “নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে তারাই শ্রেষ্ঠতম সৃষ্টি। তাদের প্রতিপালকের নিকট আছে তাদের পুরস্কার স্থায়ী জান্নাত, যার নিম্নদেশে স্রোতস্বিনী প্রবাহিত। সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে। আল্লাহ্‌ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারাও তাঁর প্রতি। (এটা) তার জন্য যে তার প্রতিপালককে ভয় করে”। (কুর্‌আন ৯৮:৭-৮) “কেউ জানে না তার জন্য তার কৃতকর্মের বিনিময়ে নয়ন-প্রীতিকর পুরস্কার কী লুকিয়ে রাখা হয়েছে”। (কুর্‌আন ৩২:১৭)

 

আর জাহান্নাম শাস্তি ও যন্ত্রণার স্থান। আল্লাহ্‌ তাআলা অসৎ অবিশ্বাসীদের জন্য সেটা প্রস্তুত রেখেছেন। তারা ওই সমস্ত লোক, যারা আল্লাহ্‌ ও তাঁর নবিদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেনি। জাহান্নামে এমন ধরনের শাস্তি ও যন্ত্রণা রয়েছে যার কল্পনাও কেউ করতে পারে না। আল্লাহ্‌ তাআলা বলেন : “আর তোমরা সেই অগ্নিকুণ্ডের ভয় করো যা অবিশ্বাসীদের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে”। (কুর্‌আন ৩:১৩১) “আমি অত্যাচারীদের জন্য প্রস্তুত রেখেছি অগ্নি, যার বেষ্টনী তাদেরকে পরিবেষ্টন করে থাকবে। যদি তারা পানীয় চায় তাহলে তাদেরকে ফুটন্ত ধাতুর ন্যায় পানি দেওয়া হবে যা তাদের মুখমণ্ডলকে বিদগ্ধ করবে। এটা নিকৃষ্ট পানি এবং জাহান্নাম কত নিকৃষ্ট আশ্রয়”।[৩] (কুর্‌আন ১৮:২৯)

 

কিয়মাতদিবসের প্রতি ঈমান – বিশদ বিবরণ

কিয়ামতদিবসের প্রতি বিশ্বাস অন্যসব বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস তৈরি করে। এসংক্রান্ত যেসব বিষয়ে আল্লাহ্‌ তাআলা ও তাঁর নবি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে অবহিত করেছেন তা নিম্নরূপ :

 

১। বারযাখি জীবনের প্রতি বিশ্বাস :

এই জীবনের সময়সীমা হচ্ছে মৃত্যুর পর হতে কিয়মতের দিন পর্যন্ত। এই জীবনে বিশ্বাসীরা আনন্দময় জীবন যাপন করবে; অপরপক্ষে অবিশ্বাসীরা শাস্তিভোগ করবে। আল্লাহ্‌ তাআলা বলছেন : “সকাল-সন্ধা তাদেরকে আগুনের সামনে উপস্থিত করা হবে এবং যেদিন কিয়ামত ঘটবে (সেদিন ফেরেশতাদেরকে বলা হবে) ফিরআউন-সম্প্রদায়কে কঠিন শাস্তিতে নিক্ষেপ করো”।(কুর্‌আন ৪০:৪৬)

 

২। পুনরুত্থানের প্রতি বিশ্বাস :

আল্লাহ্‌ তাআলা মানবজাতিকে নগ্নশরীর, নগ্নপদ শ্বশ্রুবিহীন করে পুনরুত্থিত করবেন। আল্লাহ্‌ তাআলা বলছেন : “কাফিরদের ধারণা যে, তারা পুনরুত্থিত হবে না। তুমি বলো, অবশ্যই হবে, আমার প্রতিপালকের শপথ ! তোমরা অবশ্যই পুনরুত্থিত হবে। অতঃপর, তোমরা যা করতে সে সম্বন্ধে তোমাদেরকে অবহিত করা হবে। এটা আল্লাহ্‌র পক্ষে অতি সহজ”।(কুর্‌আন ৬৪:৭)

 

৩। হাশরের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন :

আল্লাহ্‌ তাআলা সমস্ত সৃষ্টিকে একত্রিত করবেন এবং হিসাবের জন্য তাদেরকে ডাক দেবেন। আল্লাহ্‌ তাআলা বলছেন : (স্মরণ করো সেদিনের কথা) যেদিন আমি পর্বতকে করবো সঞ্চালিত এবং তুমি পৃথিবীকে দেখবে একটি শূন্য প্রান্তর; সেদিন আমি তাদেরকে একত্রিত করবো এবং তাদের কাউকে অব্যাহতি দেবো না”।(কুর্‌আন ১৮:৪৭)  

 

৪। মহান আল্লাহ্‌র দরবারে মানুষকে উপস্থিত হতেই হবে- এর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন :

আল্লাহ্‌ সুব্‌নাহূ ওয়া তাআলা বলছেন : “আর তাদেরকে তোমার প্রতিপালকের নিকট উপস্থিত করা হবে সারিবদ্ধভাবে এবং বলা হবে : তোমাদেরকে প্রথমবার যেভাবে সৃষ্টি করেছিলাম সেভাবেই তোমরা উপস্থিত হয়েছো; অথচ তোমরা মনে করতে যে তোমাদের জন্য প্রতিশ্রুত সময় আমি উপস্থিত করবো না”।(কুর্‌আন ১৮:৪৮)

 

৫। মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সাক্ষ্য দেবে, এই বিশ্বাস করা :

আল্লাহ্‌ তাআলা বলছেন : পরিশেষে যখন তারা জাহান্নামের সন্নিকটে পৌঁছবে, তখন তাদের কর্ণ, চক্ষু ও ত্বক তাদের কৃতকর্ম সম্বন্ধে সাক্ষ্য দেবে। জাহান্নামিরা তাদের ত্বককে জিজ্ঞাসা করবে : তোমরা আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য কেন দিচ্ছ ? তারা বলবে : আল্লাহ্‌ তাআলা আমাদেরকে বাকশক্তি দিয়েছেন যিনি সবকিছুকে বাকশক্তি দিয়েছেন। তিনিই তোমাদেরকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন আর তাঁর দিকেই তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে। তোমরা কিছু গোপন করতে এই বিশ্বাসে যে, তোমাদের কর্ণ, চক্ষু ও ত্বক তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে না; এছাড়া তোমরা মনে করতে যে তোমরা যাকিছু করছো তার অনেক কিছুই আল্লাহ্‌ জানেন না”।কুর্‌আন ৪১:২০-২২)

 

৬। জিজ্ঞাসাবাদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন :

আল্লাহ্‌ তাআলা বলেন : “আর তাদেরকে থামাও, কারণ তাদেরকে প্রশ্ন করা হবে। তোমাদের কী হলো যে, তোমরা একে-অপরের সাহায্য করছো না ? বস্তুতঃ সেদিন তারা আত্মসমর্পণ করবে”।(কুর্‌আন ৩৭:২৪-২৬)

 

৭। পুলসিরাত আছে এবং প্রত্যেক ব্যক্তিকে এটা অতিক্রম করতে হবে, এইবিশ্বাস স্থাপন :

আল্লাহ্‌ তাআলা বলছেন : “এবং তোমাদের প্রত্যেকেই ওটা (পুলসিরাত) অতিক্রম করবে, এটা তোমার প্রতিপালকের অমোঘ সিদ্ধান্ত”।(কুর্‌আন ১৯:১৭)

 

৮। কৃতকর্মের ওজনের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন :

আল্লাহ্‌ তাআলা মানুষকে হিসাবের জন্য ডাকবেন। যারা যথার্থ ভালো কাজ করবে, আল্লাহ্‌ তাআলা তাদের সৎ কৃতকর্ম, তাদের ঈমান এবং নবিদের প্রতি তাদের আনুগত্যের জন্য পুরস্কৃত করবেন। আর যারা পাপকার্যে লিপ্ত থাকবে আল্লাহ্‌ তাদেরকে শাস্তি দেবেন। আল্লাহ্‌ সুব্‌হানাহু ওয়া তাআলা বলছেন : “কিয়ামতদিবসে আমি স্থাপন করবো ন্যায় বিচারের দাঁড়িপাল্লাসমূহ; সুতরাং কারো প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না। কর্ম যদি সরিষার দানা পরিমাণও হয়, তবুও আমি তা উপস্থিত করবো। আর হিসাব গ্রহণকারীরূপে আমিই যথেষ্ট”।(কুর্‌আন ২১:৪৭)

 

৯। আমলনামা দেওয়া হবে, এই বিশ্বাস করা :

আল্লাহ্‌ তাআলা বলছেন : “অনন্তর যাকে তার ডান হাতে তার আমলনামা দেওয়া হবে, তার হিসাব-নিকাশ নেওয়া হবে অতি সহজভাবে। এবং সে তার স্বজনদের নিকট আনন্দচিত্তে ফিরে যাবে। আর যাকে তার আমলনামা তার পৃষ্ঠের পশ্চাদ্‌ভাগে দেওয়া হবে, সে অচিরেই মৃত্যু কামনা করবে; এবং জ্বলন্ত অগ্নিতেই সে প্রবেশ করবে”।(কুর্‌আন ৮৪:৭-১২)

 

১০। চিরস্থায়ী ও শ্বাসত জীবনে মানুষকে জান্নাত বা জাহান্নাম দ্বারা পুরস্কৃত করা হবে- এর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন :

আল্লাহ্‌ তাআলা বলেন : “আহলে কিতাবদের মধ্যে যারা অস্বীকার করেছে এবং মুশ্‌রিকরা জাহান্নামের অগ্নিকূণ্ডে স্থায়ীভাবে অবস্থান করবে; তারাই নিকৃষ্টতম সৃষ্টি। নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে তারাই শ্রেষ্ঠতম সৃষ্টি। তাদের প্রতিপালকের নিকট আছে তাদের পুরস্কার স্থায়ী জান্নাত, যার নিম্নদেশে স্রোতস্বিনী প্রবাহিত। সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে। আল্লাহ্‌ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারাও তাঁর প্রতি। (এটা) তার জন্য যে তার প্রতিপালককে ভয় করে”। (কুর্‌আন ৯৮:৬-৮)  

 

১১। হাওযে কাওসার, মধ্যস্থতা ও অন্যান্য বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন যেগুলো সম্বন্ধে আল্লাহ্‌র রসূল (সঃ) আমাদেরকে অবহিত করেছেন :

 

কিয়ামতদিবসের প্রতি ঈমানের ফজিলত

১। এই বিশ্বাস মানুষকে সেই দিনটির জন্য প্রস্তুতি নিতে সাহায্য করবে, ফলস্বরূপ মানুষ তার জন্য প্রতিযোগিতামূলকভাবে সৎকাজ করবে, পাপকার্য বর্জন করবে এবং তাঁর শাস্তিকে ভয় করবে।

 

২। এই বিশ্বাস বিশ্বাসীদেরকে স্বস্তি দেয় যে, এই পৃথিবীতে তারা কিছু হারালে পরকালে আল্লাহ্‌ তাআলা তার প্রতিদানে উত্তম কিছু দান করবেন।

 

৩। এটা সত্যিকারের বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসীদের মাঝে পার্থক্য নির্ণয় করে দেয়। [৪]

 

আরও দেখুন 

আল্লাহ্‌, পরকালের অনন্য চিত্র, জান্নাত, জাহান্নাম, কিয়ামতের পূর্বাভাস, হারুত ও মারুত, পৃত্যুর পরবর্তী জীবন, জীবনের লক্ষ।

 

তথ্যসূত্র

[1] http://www.ahya.org/amm/modules.php?name=Content&pa=showpage&pid=25

[2] http://en.islamway.net/article/8553

[3] http://www.ahya.org/amm/modules.php?name=Content&pa=showpage&pid=25

[4] http://www.1ststepsinislam.com/en/belief-in-angels.aspx

340 Views
Correct us or Correct yourself
.
Comments
Top of page