রজব


ইসলামের নিরিখে রজব মাস হারাম মাসগুলির মধ্যে অন্যতম একটি। এই মাসটি ইসলামি পঞ্জিকার সপ্তম মাস। ইসলামি বা হিজরি পঞ্জিকা হলো একটি চান্দ্র পঞ্জিকা। এতে ১২টি মাস আছে, যেগুলির ভিত্তি চাঁদের গতি। ইসলামি ক্যালেন্ডারের প্রতিটি বছর সৌর বছরের তুলনায় ১০ দিন কমেই পূর্ণ হয়। তাই এই বর্ষপঞ্জী পরিবর্তিত হতে থাকে, পক্ষান্তরে গ্রেগোরিয়ান পঞ্জিকায় কোনো পরিবর্তন হয় না। 

 

বিষয়সূচি

 

কুরআন

ইসলামি পঞ্জিকায় বারোটই মাস আছে, যেমন পবিত্র কুরআনে উল্লেখ আছে : “নিশ্চয়ইআল্লাহর বিধান ও গণনায় মাস বারোটিআসমানসমূহ ও পৃথিবীরসৃষ্টির দিন থেকে। তন্মধ্যে চারটি সম্মানিত (অর্থাৎ ইসলামি বর্ষপঞ্জীর ১ম, ৭তম, ১১শ ও ১২শ মাস)। এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন; সুতরাং এর মধ্যে তোমরা নিজেদের প্রতি অত্যাচার করো না”। [সূরা তওবা ৯:৩৬]

 

হাদিস

হারাম বা মহিমান্বিত মাসগুলি হলো : রজব, যুলকা’দা, যুলহিজ্জাহ্‌ এবং মুহাররাম। আবু বাকরাহ্‌ (রা.) বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : “বছরে বারো মাস, তন্মধ্যে চারটি হারাম (মহিমান্বিত), তিনটি যথাক্রমে যুলকা’দা, যুলহিজ্জাহ্‌, মুহাররাম এবং চতুর্থটি হলো রজব, যা জুমাদাল উখরা ও শা’বান মাসের মধ্যবর্তী মাস”। (বুখারি : ৩১৯৭, ৪৭০৮ ও ৫৫৫০; মুসলিম : ১৬৭৯ ও আবুদাউদ : ১৯৪৭)

 

গুরুত্ব

দুটি কারণে এই মাসকে হারাম (মহিমান্বিত) বলা হয়েছে :  

১। শত্রুপক্ষ যুদ্ধের সূচনা না করলে এই মাসে যুদ্ধ করা অবৈধ।

২। এই মাসে হারামের সীমাতিক্রম করা অন্য সময়ের তুলনায় অধিক নিকৃষ্ট।

 

তাই তো আল্লাহ্‌ তাআলা এই মাসগুলিতে পাপ করতে নিষেধ করেছেন : “সুতরাং এর মধ্যে তোমরা নিজেদের প্রতি অত্যাচার করো না”। [সূরা তওবা ৯:৩৬]

 

যদিও সীমাতিক্রম ও পাপ করা সর্বদা ও সর্বত্র হারাম ও নিষিদ্ধ, কিন্তু এই মাসগুলিতে আরও নিকৃষ্ট ও কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

 

বিদ্বানগণের অভিমত

আস্‌সা’দি (রহ.) বলেন (পৃ. ৩৭৩) :

“সুতরাং এর মধ্যে তোমরা নিজেদের প্রতি অত্যাচার করো না”-এর মধ্যে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয়েছে তাথেকে দুটি অর্থ নেওয়া যেতে পারে। (১) এর দ্বারা বারোমাসের প্রতি নির্দেশ করা হয়েছে। আল্লাহ্‌ বলছেন : তিনি স্বীয় বান্দাদের জন্য এগুলোকে সময়ের মানদণ্ড তৈরি করেছেন, যেন তারা সেই অনুযায়ী তাঁর ইবাদত করতে পারে, তাঁর অনুগ্রহের জন্য তাঁর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করতে পারে এবং জনসেবা করতে পারে, সুতরাং এর মধ্যে নিজেদের উপর অত্যাচার করা থেকে সাবধান। (২) এই সর্বনাম দ্বারা এই চারটি মহিমান্বিত মাসের প্রতি নির্দেশ করা হয়েছে। বিশেষ এই মাসসমূহে পাপকার্যে লিপ্ত হতে নিষেধ করেছেন। যেহেতু পাপকার্য সর্বদাই নিষিদ্ধ তাই এই সময় তো আরও কঠোরভাবে নিষিদ্ধ, বরং এই সময় পাপকার্য করা অন্য সবসময় থেকে অধিক নিকৃষ্ট। 

 

আরও দেখুন

রমজান; সফর; রবিউল আওয়াল; যুলহিজ্জাহ্‌; ইসলামি বর্ষপঞ্জী; তাওহিদের আকিদা;

 

তথ্যসূত্র

http://islamqa.info/en/75394

 

332 Views
Correct us or Correct yourself
.
Comments
Top of page