মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম সর্বোত্তম আদর্শ


নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম সমগ্র মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। তাঁর অসামান্য গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্যসমূহের মধ্যে এও ছিল যে, তিনি ছিলেন একজন অসাধারণ স্বামী, একজন পূর্ণাঙ্গ পিতা এবং একজন অতুলনীয় নানা। এছাড়া তিনি ছিলেন একজন মহারাষ্ট্রনায়ক, বিচারক এবং ধর্মীয় নেতা। কিন্তু তাঁর সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য ছিল এই সত্যটি যে, তিনি ছিলেন কথা ও কর্মে সমগ্র মানবজাতির জন্য অনুকম্পাস্বরূপ।

 

তিনি তাঁর পারিপার্শ্বিক সমস্ত মানুষের মধ্যে ন্যায়-নিষ্ঠা, ভালোবাসা ও মর্যাদার আলো জ্বালিয়ে ছিলেন। তিনি ভ্রাতৃত্বের শক্তি এতটাই ছড়িয়ে দিয়েছিলেন যে, মানব-ইতিহাসে ওটা একটা দৃষ্টান্ত হয়ে থেকে গেছে। এই সমস্ত মহৎ বৈশিষ্ট্য মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ্‌ তাআলা তাঁকে দান করেছিলেন এবং তিনি স্বীয় অনুগত দূতকে প্রস্তুত করেছিলেন সত্য ধর্মের প্রতি মানুষকে আহ্বান করার জন্য। এসব কথা স্বীকার করা একজন মানুষের ঈমানের অংশ। 

 

বিষয়সূচি

 

কুর্‌আন

মহাগ্রন্থ আল-কুর্‌আন রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামকে মু’মিনগণের জন্য দয়ালু ও অনুগ্রহশীলরূপে বর্ণনা করেছে। আল্লাহ্‌ তাআলা বলছেন : “তোমাদের নিকট আগমন করেছেন তোমাদেরই মধ্যকার এমন একজন রসূল যাঁর কাছে তোমাদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া অতি কষ্টদায়ক; তোমাদের ব্যাপারে উদ্বিগ্ন এবং মু’মিনগণের প্রতি বড়োই স্নেহশীল ও অনুগ্রহপরায়ণ”। [সূরা তাওবা ৯:১২৮]

 

“আর আমি তোমাকে সমগ্র বিশ্বের জন্য অনুকম্পাস্বরূপ প্রেরণ করেছি”। [সূরা আন্বিয়া ২১:১০৭]

 

শিশুদের প্রতি অনুগ্রহ

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি কিছু শিশুর পার্শ্ব দিয়ে পথ অতিক্রম করার সময় তাদেরকে সালাম করে বললেন : নবি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম-ও তা করতেন। (সহি বুখারি : ৬২৪৭, সহি মুস্‌লিম : ২১৬৮)

 

ইবনে আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করছেন : রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম যেকোনো মৌসুমী ফসলের প্রথম শস্য হাতে নিতেন, সেটাকে চোখের উপর অতঃপর ঠোঁটের উপর রেখে বলতেন : “হে প্রভু ! যেমন তুমি আমাদেরকে এর প্রারম্ভ দেখালে, অনুরূপ তুমি আমাদেরকে এর শেষ দেখিও”। অতঃপর তিনি সেটা তাঁর পার্শ্বের কোনো শিশুকে দিয়ে দিতেন। (ত্বাবারানি : ১১০৫৯)

 

যখন তাঁর অতিথীরা শিশুদের সঙ্গে নিয়ে আসত, তখন রসূলুল্লাহ্‌সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে নিজের কাছে ডেকে নিতেন এবং তাদেরকে নিজের কোলে বসাতেন। একদা একটি শিশু তাঁর কাপড়ে পেশাব করে দিয়েছিল। তিনি সেই জায়গায় কেবল পানি ছিটিয়ে ছিলেন, তা ধৌত করেননি। (সহি বুখারি : ২২৩)

 

নারীদের প্রতি অনুগ্রহ

সা’দ বিন আবি ওয়াক্কাস (রাঃ) বর্ণনা করছেন : একদা উমার রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট আসার অনুমতি চাইলেন। সেসময় তাঁর সঙ্গে কতিপয় কুরাইশী মহিলা কথাবর্তা বলছিলেন। তাঁরা উচ্চস্বরে তাঁর নিকট অধিক অর্থনৈতিক সুবিধা কামনা করছিলেন। যখন উমার (রাঃ) অনুমতি চাইলেন, তখন তাঁরা উঠে দ্রুত পর্দার আড়ালে চলে গেলেন। অতঃপর রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম তাঁকে অনুমতি প্রদান করলেন। তখন তিনি মৃদু হাসছিলেন। উমার (রাঃ) বললেন : আল্লাহ্‌ আপনাকে সদা সহাস্য রাখুন ! রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বললেন : “আমি এই মহিলাদের প্রতি অবাক হই, যারা আমার নিকট ছিল। যেমনই তারা তোমার আওয়াজ শুনেছে, দ্রুত পর্দার আড়ালে চলে গেছে”। উমার (রাঃ) বললেন : আপনাকেই তাদের বেশি ভয় পাওয়া উচিত ছিল। অতঃপর তিনি সেই মহিলাদের উদ্দেশ্যে বললেন : হে আত্মশত্রু মহিলাগণ ! তোমরা আমাকে ভয় করছ আর রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামকে ভয় করছ না ? তাঁরা উত্তর দিলেন : হ্যাঁ, কারণ রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম অপেক্ষা তুমি অধিক কর্কশভাষী ও কঠোরহৃদয়। তখন রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম (উমারকে) বললেন : “সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে রয়েছে আমার জীবন ! যে পথে তুমি যাও, সেপথে শয়তানও চলে না; বরং সেপথ ছেড়ে তারা অন্য পথে চলে যায়”। (সহি বুখারি : ৩২৯৪, সহি মুস্‌লিম : ২৩৯৬)

 

একদা নবি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম আয়েশার ঘরে চাদরে মুখ ঢেকে ঘুমাচ্ছিলেন। সেটা ঈদের দিন ছিল,। কয়েকটি শিশু মেয়ে গান গাইছিল। আবু বক্‌র (রাঃ) ঘরে ঢুকে তাদেরকে ধমক দিলেন। রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বললেন : “তাদেরকে গাইতে দাও, আজ তাদের ঈদের দিন”। (সহি বুখারি ৩৫২৯)

 

তিনি বলেন : “ঈমানের বিষয়ে সর্বোত্তম মুসলমান সেই ব্যক্তি, যার চরিত্র সর্বোত্তম এবং তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি সেই, যে স্বীয় পত্নীদের সঙ্গে উত্তম আচরণ দেখায়”। (তিরমিযি : ৩৮৯৫)

 

তিনি বলেন : “যে ব্যক্তি দুটি কন্যার তাদের বয়ঃসন্ধি পর্যন্ত লালন-পালন করবে, পরকালে সে আমার এতটাই নিকটবর্তী হবে যতটা আমার দুটি আঙ্গুল পরস্পরের নিকটবর্তী”। (সহি মুস্‌লিম : ২৬৩১)

 

তিনি বলেন : “একজন মু’মিন নারীকে একজন মু’মিন পুরুষের ঘৃণা করা উচিত নয়; যদি তার কোনো স্বভাব তার অপছন্দ লাগে তাহলে তার অন্য কোনো স্বভাবে সে আনন্দ পাবে”। (সহি মুস্‌লিম : ১৪৬৯)

 

তিনি বলেন : “আমি স্বালাত দীর্ঘায়িত করার ইচ্ছা নিয়ে তা আরম্ভ করি। অতঃপর শিশুর কান্নার আওয়াজ আমার কানে আসে, ফলে তা সংক্ষিপ্ত করি কেবল এই আশঙ্কায় যে, তার মা কষ্ট পাবে”। (সহি বুখারি : ৮৬৮)

 

দ্বিতীয় খলিফা উমার (রাঃ) মোহরের পরিমাণ নির্দিষ্ট করতে চেয়েছিলেন। অধিকাংশ মুসলমান তাঁর সাথে সম্মত হয়েছিলেন। কিন্তু একজন বৃদ্ধা দরিদ্র মহিলা অসম্মতি প্রকাশ করেন। উমার (রাঃ) তাঁকে চুপ করিয়ে দেননি। বরং তিনি তাঁর মতামত শুনলেন যা প্রমাণিত ছিল। অতঃপর উমার (রাঃ) বললেন : “মহিলাটি সঠিক আর উমার বেঠিক”। (তাফসির ইবনে কাসির, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ২১৩, সূরা নিসার ২০নং আয়াতের তাফসির)  

 

অনাথ, দরিদ্র ও বিধবাদের প্রতি অনুগ্রহ

তাঁর এই ধরনের অনুগ্রহ ছিল যে, তিনি বিধবা বা দরিদ্র লোকদের সঙ্গে বিচরণ করতে ঘৃণা বোধ করতেন না এবং তাদের প্রয়োজন নিবারণ করতেন। তিনি দুর্বল ও অসুস্থ মুসলমানদের পরিদর্শন করতেন এবং তাদের জানাযায় শরিক হতেন। তিনি তাদের সঙ্গে উত্তম ও ঔদার্যপূর্ণ আচরণ করতেন। তিনি মানুষকে তাদের দেখাশোনা ও তাদের সঙ্গে উত্তম আচরণ করবার নির্দেশ দিতেন। এছাড়া তিনি তাদের শুভ পরিণতির কথা এই বলে ঘোষণা করতেন যে, “জান্নাতে আমি এবং অনাথদের প্রতিপালনকারী এরকম কাছাকাছি থাকব (এই বলে তিনি তর্জনি ও মধ্যমা আঙ্গুল দুটি দ্বারা ইঙ্গিত করলেন এবং এ দুটির মাঝে কিঞ্চিত ফাঁক রাখলেন)। (সহি বুখারি : ৫৩০৪)

 

ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : “মুসলমান মুসলমানের ভাই। সে তার উপর অত্যাচার করবে না এবং তাকে অত্যাচারীর হাতে সোপর্দ করবে না। যে কেউ তার ভাইয়ের অভাব পূরণ করবে, আল্লাহ্‌ তাআলা তার অভাব পূরণ করবেন। যে কেউ তার ভাইকে বিপদমুক্ত করবে, আল্লাহ্‌ তাআলা কিয়ামতের দিন তাকে বিপদমুক্ত করবেন। যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের দোষ ঢেকে রাখবে, আল্লাহ্‌ তাআলা কিয়ামতের দিন তার দোষ ঢেকে রাখবেন”। (সহি বুখারি : ২৪৪২,  সহি মুস্‌লিম : ২৫৮০)

 

আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : “যে ব্যক্তি বিধবা বা দরিদ্র লোকের জন্য খাদ্যজোগাড়ে চেষ্টারত, সে আল্লাহর পথে জিহাদকারী ব্যক্তির ন্যায়, কিংবা সারারাত স্বালাত প্রতিষ্ঠাকারী ও সারাদিন সিয়াম পালনকারী ব্যক্তির ন্যায়”। (সহি বুখারি : ৫৩৫৩)

 

গৃহকর্মীর প্রতি অনুগ্রহ

একদা জনৈক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে জিজ্ঞাসা করলেন : হে আল্লাহ্‌র রসূল ! কতবার ক্রীদাসদের ভুলত্রুটি ক্ষমা করব ? প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম নীরব থাকলেন। লোকটি তিনবার তার প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি করলেন। রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম তৃতীয়বার উত্তর দিলেন : “তাদেরকে প্রত্যহ সত্তরবার ক্ষমা করো”। (আবুদাউদ : ৫১৬৪)

 

এক ব্যক্তির দুটি ক্রীতদাস ছিল, কিন্তু সে কারো প্রতিই সন্তুষ্ট ছিল না। সে তাদের মারতো এবং গালাগালি করতো, কিন্তু তারা তাদের আচরণ পরিবর্তন করেনি। সে রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট অভিযোগ করল এবং সেবিষয়ে তাঁর উপদেশ চাইল। রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বললেন : “যদি শাস্তি তাদের ভুলের অনুপাতে হয় তাহলে ঠিক আছে, অন্যথায় আল্লাহ্‌ তাআলা তাকে তার বাড়াবাড়ির শাস্তি দেবেন। এই কথা শোনে লোকটি চিন্তিত হয়ে পড়ল এবং কাঁদতে আরম্ভ করল। রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম কুর্‌আনের বাণী পাঠ করলেন : “কিয়ামতদিবসে আমি ন্যায় বিচারের মানদণ্ড স্থাপন করবো”। [সূরা আন্বিয়া ২১:৪৭] এবং নীরক্ষণ করলেন যে, সে কুর্‌আন পড়েনি। অতঃপর সে বললো : হে রসূলুল্লাহ্‌ ! যদি আমার মালিকানা থেকে তাদেরকে স্বাধীন করে দেই, তাহলেই ভালো। আপনি সাক্ষী থাকুন, তারা এখন মুক্ত”। (তিরমিযি : ৩১৬৫)

 

পশুপক্ষীর প্রতি অনুগ্রহ

আয়েশা (রাঃ) বর্ণনা করছেন যে, একদা একটি ঘোড়ার উপর আরোহণ করতে তাঁর অসুবিধা হচ্ছিল, তাই তিনি বারবার তার লাগামে টান দিচ্ছিলেন। রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বললেন : “তোমার মধ্যে নম্রতা থাকা উচিত”। (সহি মুস্‌লিম : ২৫৯৮)

 

একদা রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম একটি উঁটের পার্শ্ব দিয়ে অতিক্রম করলেন। দেখলেন তার পিঠ তার পেটের সাথে লেগে গেছে। এটা দেখে রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বললেন : “পশুসম্পত্তির ব্যাপারে তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। ভদ্রভাবে তোমরা তাতে আরোহণ করো এবং যখন তাদের অবস্থা ভালো থাকবে তখন তাদের খাও”। (আবুদাউদ : ২৫৪৮)

 

একবার তিনি এক আনসারির বাগানে প্রবেশ করলেন। সেখানে একটা উঁট ছিল। রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম দেখলেন যে, উঁটটি আওয়াজ দিচ্ছে এবং তার চোখ দিয়ে পানি প্রবাহিত হতে শুরু করেছে। এটা দেখে রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম সেটার নিকটে গেলেন এবং তার কানে হাত বুলিয়ে দিলেন, ফলে সে শান্ত হলো। অতঃপর রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বললেন : “এই উঁটটির মালিক কে ? কার এই উঁটটি ?” একজন আনসারি যুবক বললো : রসূলুল্লাহ্‌ ! এটা আমার। অতঃপর তিনি বললেন : “তুমি কি এই জন্তুটির ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করছ না, যার মালিক আল্লাহ্‌ তাআলা তোমাকে বানিয়েছেন ? এ আমার নিকট অভিযোগ করেছে যে, তুমি তাকে অনাহারে রাখছ এবং তার দ্বারা অতিরিক্ত কাজ নিয়ে ও তার শক্তির বাইরে তাকে ব্যবহার করে তাকে কষ্ট দিচ্ছ”। (আবুদাউদ : ২৫৪৯)

 

তিনি কিছু লোককে জন্তুর উপর বসে থাকতে দেখলেন। তিনি বললেন : “তাদের রক্ষা করো, তাদের উপর আরোহণ করার সময় আওয়াজ দাও এবং যখন তাদেরকে ছেড়ে দেবে তখন রাস্তার পার্শ্বে ও বাজারে বসে গল্প করার জন্য তাদেরকে চেয়াররূপে ব্যবহার করো না। হতে পারে একটি বাহক জন্তু তার আরোহী অপেক্ষা উত্তম। হতে পারে সে তার আরোহী অপেক্ষা আল্লাহকে অধিক স্মরণ করছে”। (মুস্‌নাদে আহ্‌মাদ : ১৫৬২৯)

 

নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম একবার বললেন : “একটি বিড়ালের কারণে একজন মহিলাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়েছিল। সে তাকে বেঁধে রাখতো কিন্তু তাকে খেতে দিত না আর জমিনে কিছু খাওয়ার জন্য তাকে ছেড়েও দিত না”। (সহি মুস্‌লিম : ৯০৪)

 

নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম এমন ব্যক্তির বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দিয়েছেন যার জন্য একটি পাখী তার বাচ্চাদের ব্যাপারে আতঙ্ক বোধ করে। কেউ একটি পাখীর দুটি বাচ্চা ধরেছিল। পাখীটি তার বাচ্চাদের অন্বেষণে আতঙ্কে পড়েছিল। রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন : “কে এর বাচ্চাগুলোকে নিয়ে একে কষ্টে ফেলেছে ?” অতঃপর তিনি তাদেরকে বাচ্চাগুলি ফিরিয়ে দেয়ার নির্দেশ দিলেন। (আবুদাউদ : ২৬৭৫)

 

রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম একদা একটি উইঢিবির পার্শ্ব দিয়ে পথ অতিক্রম করছিলেন। সেই ঢিবিতে আগুন জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছিল। এটা দেখে রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন : “কে এতে আগুন জ্বালিয়েছে ?” যে এই কাণ্ড ঘটিয়েছিল, তার সম্পর্কে যখন তাঁকে জানানো হলো তখন তিনি বললেন : “কাউকে আগুন দ্বারা শাস্তি দেয়ার অধিকার কেবল আগুনের প্রভুর রয়েছে”। (আবুদাউদ : ২৬৭৫)

 

নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বিশেষ কোনো কারণ ছাড়া শুধুমাত্র আনন্দ উপভোগ করার জন্য কোনো পাখীকে মারতে নিষেধ করেছেন। রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলেন : “যে কেউ কোনো পাখীকে মারবে, কিয়ামতদিবসে সেই পাখীটি এসে বলবে : হে প্রভু ! এই লোকটি আমাকে শুধু প্রমোদের জন্য মেরেছিল, আমার দ্বারা উপকৃত হওয়ার জন্য নয়”। (সুনানে নাসায়ি : ৪৪৪৬)

 

তিনি একটি লোককে একটি মেষশাবক যবেহ করার জন্য প্রস্তুতি নিতে দেখলেন। সে তাকে শুইয়ে দিয়েছিল অথচ তখনও সে তার ছুরিতে শাণ দিচ্ছিল। এটা দেখে রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বললেন : তুমি এটাকে দুবার হত্যা করতে চাইছ ? একে শুইয়ে দেয়ার আগেই তুমি তোমার ছুরিতে শাণ দিয়ে নাও”। (ত্বাবারানি : ৪/৫৩)

 

তথ্যসূত্র

http://www.quranandscience.com/his-characteristics/178-prophet-muhammads-mercy.html

198 Views
Correct us or Correct yourself
.
Comments
Top of page