ভালোবাসা, ভীতি ও প্রত্যাশার সাথে আল্লাহ্‌র ইবাদত


ইসলামে ইবাদতের ধারণা সম্বন্ধে একটি সুন্দরতম ও গুরুত্বপূর্ণতম জিনিস হলো সেই প্রকৃত ও অতুনলীয় পথ, যাতে আল্লাহ্‌র উপাসকের হৃদয়ে ভালোবাসা, ভীতি ও আশা, এই তিনটি অনুভূতি একত্রিত হয়। আল্লাহ্‌র ইবাদতে এই তিনটি গুণ কীভাবে একত্রে জমা করা যায়, সেই জ্ঞান সবচেয়ে জরুরি একটি জিনিস, যা অর্জন করা প্রত্যেক মুসলমানের একান্ত কর্তব্য। অন্তত এজন্য যে, যে দলই সুপথ হতে বিচ্যুত হয়েছে, সে বিচ্যুত হয়েছে ইবাদতের এই ক্ষেত্রে।

 

এবিষয়ে অন্যান্য ধর্মের বিপথগামিতা সবার সামনে স্পষ্ট। খ্রিষ্টানরা বলে : “ইশ্বর হলো ভালোবাসা ! যীশু হলো ভালোবাসা !” তারা এই সত্যিটাকে অস্বীকার করে দেয় যে, ইশ্বরকে ভয় করাও জরুরি। ইহুদিদের দেখুন, তাদের হৃদয় তো শুধু আশায় পরিপূর্ণ। তাদের আশা এই বিশ্বাসে যে, অগ্নি তাদেরকে স্পর্শ করবে না, কেননা তারা প্রতিশ্রুতিপ্রাপ্ত সম্প্রদায়।  

 

কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে এই তিনটি গুণের সবটাই বিদ্যমান না থাকলে কোনো ইবাদতই পূর্ণাঙ্গতা লাভ করে না : আল্লাহ্‌ তাআলার ভালোবাসা, তাঁর করুণার প্রত্যাশা এবং তাঁর শাস্তির ভীতি। কুরআনের প্রথম সূরা “সূরা ফাতিহা”র প্রথম তিনটি আয়াত নিয়ে ভাবুন, আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন।  

 

বিষয়সূচি

 

আয়াত ১ : যাবতীয় প্রশংসা সেই আল্লাহ্‌র যিনি নিখিল বিশ্বের প্রতিপালক

কুর্‌আনের এই প্রথম আয়াতেই বলা হলো, আমাদের মধ্যে আল্লাহ্‌র ভালোবাসা রয়েছে। সর্বদা আমরা এই আয়াতটি পড়ি এবং আল্লাহ্‌র জন্য আমাদের ভালোবাসার সাক্ষ্য দিই। কেন তুমি ভিক্ষা করছ ? এর কারণ এই আয়াতে রয়েছে। আমরা স্বীকার করছি যে, আল্লাহ্‌ তাআলা আমদের রব এবং সারা বিশ্বের রব। সাধারণভাবে রবের অনুবাদ করা হয় “প্রতিপালক”। কিন্তু এই অনুবাদ আল্লাহ্‌র এই নামের জন্য যথোপযুক্ত নয় এবং এর সমস্ত অর্থ এর মধ্যে পাওয়া যায় না। প্রকৃতপক্ষে রবের অর্থ হলো : আল্লাহ্‌ তাআলা সবকিছুর স্রষ্টা। তিনিই প্রতিটি জিনিসের প্রতিপালন ও দেখাশোনা করেন। তিনিই জীবন ও মরণ দান করেন। যে মঙ্গলময় জিনিসই আমাদের নিকট রয়েছে, তা তাঁর পক্ষ হতেই। প্রত্যেক জিনিস তাঁরই উপর নির্ভরশীল। কোনো কিছুই তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে ঘটে না। তদুপরি মুসলমানদের নিকট সেই রব একক সত্তা। তিনিই আমাদেরকে সত্যের পথ দেখিয়েছেন এবং সচ্চরিত্র ও সদাচরণ দান করেছেন।

 

অতএব, যখন আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ্‌ তাআলা আমাদের রব, অতঃপর স্বীকার করছি যে, তিনিই সেই একক সত্তা যিনি আমাদের উপর অসংখ্য অনুগ্রহ করেছেন। আমাদের উপর তাঁর অনুগ্রহ এত বেশি যে, যদি আমরা তা গণনা করার চেষ্টা করি তাহলে আমরা তা গণনা করতে ব্যর্থ হব। তাহলে তাঁকে ভালো না বেসে আমরা কীভাবে থাকতে পারি ? সর্বোপরি আমরা জানি, যখন কোনো ব্যক্তি আমাদেরকে সামান্য কোনো উপহার দেয় অথবা আমাদের উপর সামান্য দয়া দেখায় তখন তাদের জন্য আমাদের মধ্যে অসংখ্য ভালোবাসার উদ্রেক হয়। তাহলে চিন্তা করুন, যে প্রতিপালক আমাদের সবকিছু দিয়েছেন : সুন্দর পরিবার, থাকার স্থান, নিরাপত্তা, পানাহার, স্বাস্থ্য, আর সর্বোপরি ইসলাম ও সুন্নাতের পথনির্দেশিকা, এমন সত্তার জন্য আমাদের কতটুকু ভালোবাসা রাখা উচিত। আমাদের একান্ত কর্তব্য তাঁকে অপরিসীম ভালোবাসা, তাঁর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা এবং বলা যে, “যাবতীয় প্রশংসা কেবলমাত্র সেই আল্লাহ্‌র যিনি সারা বিশ্বের রব”।

 

আয়াত ২ : “রহমান (পরম করুণাময়) এবং রহিম (অসীম দয়ালু)”।

সূরা ফাতিহার প্রথম আয়াতে আল্লাহ্‌ তাআলা উল্লেখ করেছেন যে, তিনি রব। পরবর্তী আয়াতে তাঁর আরও দুটি সুন্দর নাম উল্লেখ করা হয়েছে : (ক) আর-রহমান ও (খ) আর-রহীম। আর-রহমানের অর্থ : তিনি পরম করুণাময়, অর্থাৎ তাঁর স্বভাব বা সত্তা দয়াময়। আর-রহীমের অর্থ : তিনি দয়া প্রদর্শনকারী। অন্য শব্দে, তাঁর কার্যসমূহ অনুগ্রহপূর্ণ। তিনি তাঁর সৃষ্টির প্রতি অনুগ্রহ প্রদর্শন করেন; এরকমই ব্যাখ্যা ইবনে কাইয়িম তাঁর পুস্তক “বাদায়িউল ফাওয়ায়িদ”র মধ্যে করেছেন।

 

যখন আমরা আল্লাহ্‌ তাআলার এই দুটি নাম উল্লেখ করি তখন আমাদের মধ্যে প্রত্যাশা জাগে। কারণ তিনি করুণাময় বলে নিজের বিবরণ দিয়েছেন। তাই আমরা আশা করি যে, তিনি আমাদের অপরাধসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আমাদের পাপ যত বেশিই হোক না কেন, আমাদের কখনও নিরাশ হওয়া উচিত নয়। কেননা আল্লাহ্‌ তাআলা আমাদের বলেছেন : “হে আমার বান্দারা যারা নিজেদের উপর অত্যাচার করেছ ! তোমরা আল্লাহ্‌র রহমত হতে নিরাশ হয়ো না, নিশ্চয়ই তিনি সমস্ত গোনাহ ক্ষমা করে দেবেন (শির্‌ক ব্যতীত)। নিশ্চয়ই তিনি মহাক্ষমাশীল, অসীম দয়ালু”। [সূরা যুমার ৩৯:৫৩]

 

আমাদের ইবাদতে ভয়-ভীতি রাখাও যে প্রয়োজন, তা সূরা ফাতিহার পরবর্তী আয়াতে দেখানো হয়েছে।

 

আয়াত ৩ : “প্রতিফল দিবসের অধিপতি”।

যখন আমরা এই আয়াতটি আবৃত্তি করি তখন হিসাব-দিবসের কথা আমাদের মনে পড়ে যায়। একটি ভয়াবহ দিন, যেদিন আমাদের সকলকেই আল্লাহ্‌ তাআলার সম্মুখে নগ্নশরীরে ও নগ্নপায়ে দাঁড়াতে হবে। কেউ কেউ সেদিন এতটাই ঘর্মসিক্ত হবে যে, তার ঘাম ভূপৃষ্ঠে সত্তর হাত পর্যন্ত বয়ে যাবে। মনে হবে যেন মানুষ হাবুডাবু খাচ্ছে, যদিও বাস্তবে তেমন হবে না। সেদিন প্রত্যেককেই আল্লাহ্‌র সম্মুখে দাঁড়াতে হবে এবং নিজের পাপের হিসাব দিতে হবে; যদিও তার ছোট্ট থেকে ছোট্ট কৃতকর্ম আল্লাহ্‌ তাআলার সামনে গোপন নেই। “যে বিন্দু পরিমাণ ভালো কাজ করবে যে তা দেখতে পাবে। এবং যে বিন্দু পরিমাণ মন্দ কাজ করবে সেও তা দেখতে পাবে”। [সূরা যিলযাল ৯৯:৭-৮]

 

সুতরাং, যখনই আমরা সূরা ফাতিহার এই তৃতীয় আয়তটি পাঠ করি তখনই আমাদের মনে পড়ে যায় এই বিচার ও হিসাব-নিকাশের কথা। আর সেটাই নিয়ে আসে আমাদের মধ্যে এই ভয়ানুভূতি যে, আমাদের দুষ্কর্মগুলি বিশাল আকার ধারণ করতে পারে আর আমরাই তার জন্য দায়ী হব। আল্লাহ্‌ তাআলা আমাদেরকে এই চরম পরিণতি হতে রক্ষা করুন !

 

তার পরবর্তী আয়াতে বলা হচ্ছে : “আমরা কেবল তোমারই ইবাদত করি”। অর্থাৎ আমরা আমাদের ইবাদতের জন্য শুধু আল্লাহকে বেছে নিই। তবে আমরা তাঁর ইবাদত কীভাবে করব ? ভালোবাসা, প্রত্যাশা এবং ভয়-ভীতির সাথে। আর এই সমস্ত গুণ অর্জন করার জন্য প্রয়োজন আল্লাহ্‌ তাআলার সহযোগিতা, তাই আমরা তারপর বলে থাকি : “আমরা শুধু তোমারই সাহায্য কামনা করি”। [সূরা ফাতিহা ১:৪]

 

ভারসম্য রক্ষা

আমাদের ইবাদতে ভালোবাসা, ভীতি এবং প্রত্যাশার প্রয়োজন, একথা বোঝার পর এখন প্রশ্ন ওঠে যে, আমাদের ইবাদতে এই সমস্ত গুণ কী অনুপাতে থাকা উচিত ? আমাদের উত্তরের জন্য আমরা আবার কুরআনের দিকে প্রত্যাবর্তন করছি।

 

 “ভীতি ও প্রত্যাশাসহ তাঁকে ডাকো”। [সূরা আ’রাফ ৭:৫৬] “তারা শয্যা ত্যাগ করে তাদের প্রতিপালককে ভীতি ও আশা সহকারে আহ্বান করে”। [সূরা সাজ্‌দাহ্‌ ৩২:১৬]

 

অতএব, ভীতি এবং প্রত্যাশা গুণদুটি আমাদের হৃদয়ে সমান অনুপাতে থাকা উচিত। আনাস (রাঃ) বর্ণনা করছেন : রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম একটি যুবকের নিকট গেলেন, সেসময় সে মৃত্যুশয্যায়। রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন : “কেমন আছ তুমি ?” ছেলেটি উত্তর দিল : “আল্লাহ্‌র প্রতি প্রত্যাশা এবং আমার পাপের ভয়, এই দুটি জিনিসের মাঝে আমি অবস্থান করছি”। রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বললেন : “এদুটি গুণ যে বান্দারই হৃদয়ে একত্রিত হয়ে যায়, আল্লাহ্‌ তাআলা তার প্রত্যাশা পূরণ করেন এবং যে বিষয়ে সে ভীতি অনুভব করে তা থেকে তাকে রক্ষা করেন”। (আল্‌বানি হাদিসটিকে সহি বলেছেন, দেখুন : আহ্‌কামুল জানা-ইয, হাঃ ২)

 

এজন্য যখনই আমরা কোনো ভালো কাজ করব, আমরা আশা রাখবো যে, আল্লাহ্‌ তাআলা এটা গ্রহণ করবেন; কিন্তু সেই একই সময় আমাদের এই আশঙ্কাও রাখতে হবে যে, হয়তো এটা যথেষ্ট নয়, কিংবা ভালো কাজটি গ্রহণীয় নয়। অনুরূপ যখন আমাদের কোনো পাপ হয়ে যায় তখন এই আশা রাখতে হবে যে, আল্লাহ্‌ তাআলা আমাদের তওবা গ্রহণ করবেন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করে দেবেন, কিন্তু এ ভয়ও রাখতে হবে যে, হয়তো এর জন্য আমাদেরকে হিসাব দিতে হবে।

 

দাওয়াতেও এই ভারসম্য রক্ষা করতে হবে (নিঃসন্দেহে দাওয়াতও একটি ইবাদত)। সুতরাং আমরা যখন অন্যদেরকে সত্যের প্রতি আহ্বান করব তখন আমরা তাদের এমন অনুভূতি দেব না যে, তাদের আর কোনো চিন্তা নেই। আর এমনও কোনো নির্দেশনা দেব না যে, তারা চিরস্থায়ী দণ্ডপ্রাপ্ত। বরং আমরা উৎসাহ ও সতর্কবার্তা দুটোই দেব। আমরা তাদেরকে জাহান্নামের ভয়াবহতার কথাও বলব আর জান্নাতের সুখের কথাও বলব। ঠিক যেমন আল্লাহ্‌ তাআলা আমাদেরকে কুর্‌আনের মধ্যে বলছেন : “নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক দ্রুত শাস্তি প্রদানকারী; আর নিশ্চয়ই তিনি মহাক্ষমাশীল ও অসীম দয়ালু”। [সূরা আ’রাফ ৭:১৬৭]

 

আবু হুরাইরা (রাঃ) বর্ণনা করছেন : আমি রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি : “বানি ইসরাইলের মধ্যে দুটি লোক ছিল। একই রকম উদ্দেশ্য নিয়ে তারা প্রচেষ্টা চালাচ্ছিল। তাদের মধ্যে একজন পাপ করত এবং অপরজন এই পৃথিবীতে ভালো কাজের জন্য শ্রম ব্যয় করত। যে লোকটি নিজেকে ইবাদতের মধ্যে মগ্ন রাখত সে অন্যজনকে সর্বদা পাপ করতে দেখত। সে বলত : এথেকে বিরত থেকো। একদা সে তাকে পাপ করতে দেখে বলল : এটা বর্জন করো। সে বলল : আমাকে আমার প্রভুর সঙ্গে একা ছেড়ে দাও। তোমাকে কি আমার প্রহরী করে পাঠানো হয়েছে ? সে বলল : আল্লাহ্‌র শপথ, আল্লাহ্‌ তোমাকে ক্ষমা করবেন না আর তোমাকে জান্নাতও দেবেন না। অতঃপর তারা উভয়ই মৃত্যুবরণ করল। তারা দুজনই একসঙ্গে বিশ্বের প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাৎ করল। যে লোকটি ইবাদতে কঠোর প্রচেষ্টা চালাত, তাকে আল্লাহ্‌ তাআলা জিজ্ঞাসা করলেন : আমার সম্পর্কে তোমার জ্ঞান আছে কি ? আমার নিয়ন্ত্রণে যাকিছু রয়েছে তার উপর তোমার কোনো ক্ষমতা আছে কি ? যে লোকটি পাপ করত তাকে আল্লাহ্‌ তাআলা বললেন : যাও, আমার দয়ায় তুমি জান্নাতে প্রবেশ করো। অপরজন সম্পর্কে তিনি নির্দেশ দিলেন : তাকে জাহান্নামে নিয়ে যাও”। আবু হুরাইরা (রাঃ) বলছেন : সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার জীবন, সে এমন একটি কথা বলেছিল যা তার ইহ-পরকাল দুই ধ্বংস করে দিয়েছে। (আবু দাউদ : ৪৯০১, আল্‌বানি হাদিসটিকে সহি বলেছেন)

 

তাই আমরা কারো সম্পর্কে বলব না যে, সে বিনাশপ্রাপ্ত বা দণ্ডপ্রাপ্ত বা এধরনের কিছু, কারণ এটা মহাপাপ। কিন্তু যারা অত্যন্ত পাপ করে তাদের ব্যাপারে আমরা ভয় করব, কারণ কুর্‌আনে তাদেরকে শাস্তির ধমক দেয়া হয়েছে। এটা আল্লাহর উপর নির্ভর করছে, তিনি তাদেরকে শাস্তির জন্য বেছে নেবেন নাকি তাদেরকে ক্ষমা করে দেবেন।

 

ইবনে কাইয়িম (রহঃ) বলছেন : “আল্লাহ্‌র অভিমুখে মু’মিনের যাত্রাপথে তার হৃদয় একটি পাখীর ন্যায়। ভালোবাসা তার মাথা আর ভীতি ও প্রত্যাশা তার ডানা। তাই, যখন মাথা এবং ডানা দুটোই সুস্থ থাকবে তখন পাখী ঠিকভাবে উড়তে পারবে। যদি তার মাথা কাটা পড়ে তাহলে সে মারা পড়বে আর যদি তার ডানা নষ্ট হয়ে যায় তাহলে নিশ্চিত সে শিকার হবে”।

 

উপসংহার

এখান থেকে স্পষ্ট যে, ইবাদতের এই তিনটি গুণের মধ্যে যেকোনোটির ভারসাম্যহীনতা মানুষকে প্রকৃত পথনির্দেশিকা হতে বিপথগামী ও পথভ্রষ্ট করে দিতে পারে। অতএব, প্রত্যেক মুসলমানের জন্য তার হৃদয়ে এই জিনিসই সুগ্রথিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেমন পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভীতি এবং প্রত্যাশা সমান অনুপাতে থাকবে, কিন্তু ভালোবাসা থাকবে অনেক উঁচু। যেমন ফুযাইল ইবনে আয়ায বলেছিলেন : “ভালোবাসা ভীতি অপেক্ষা উত্তম। ভীতি আমাদের পাপ করতে দেয় না, আর ভালোবাসা বর্ণিত সকল কার্যক্রম উদার চিত্তে করবার প্রতি আমাদেরকে উদ্বুদ্ধ করে”।

 

তথ্যসূত্র

http://www.salafipublications.com/sps/sp.cfm?subsecID=IBD01&articleID=IBD010006&articlePages=1,

http://abdurrahman.org/salah/worshippingallahoutof.html

উৎস : “আদ-দাওয়াহ্‌ ইলাল্লাহ্‌” পত্রিকা  

192 Views
Correct us or Correct yourself
.
Comments
Top of page