বিশিষ্ট অমুসলিমগণ নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে কী বলেছেন ?


আল্লহ্‌র নবি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের একটি পরিচিতি, তিনি ১৪০০ বৎসর পূর্বে সমগ্র মানবজাতিকে সৎপথের অনুসরণের প্রতি আহ্বান করার জন্য আবির্ভূত হয়েছিলেন। এ ক্ষেত্রে কোথায় বা কখন, সাদা কি কালো এমন কোনো প্রশ্ন ওঠে না। তাঁর বাণী মুসলিম, অমুসলিম, নর-নারী নির্বিশেষে সবার জন্য ছিল। তাঁর বাণীই ছিল সর্বশেষ ও চিরস্থায়ী। তাঁর পরে কোনো নবি আসবেন না। তিনিই ছিলেন সর্বশেষ ও চুড়ান্ত নবি। পরকালীন সাফল্য অর্জন শুধুমাত্র তাঁর প্রদর্শিত পথেই সম্ভব। সুতরাং পশ্চিমা উৎসের পক্ষপাতপুষ্ট না হয়ে উদার মস্তিষ্কে তাঁর সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করুন।

 

প্রখ্যাত ও বিশেষ পরিসরে কিংবা পেশার ক্ষেত্রে সম্মাননীয় অমুসলিম ব্যক্তিবর্গ নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের জীবনচরিত অধ্যায়ন করার পর এই কথাগুলো বলেছেন। নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের জীবনের বিভিন্ন পর্যায় পর্যালোচনা করার পরই তাঁদের এই মন্তব্য।

 

বিষয়সূচি

 

বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের তালিকা যাঁরা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন

 মহনদাস করমচাঁদ গান্ধী
তিনি ভারতীয়দের প্রিয়পাত্র। ভারত-স্বাধীনতায় তাঁর বিশাল অবদানের জন্য “জাতির পিতা” নামে অভিহিত। তিনি বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন অহিংস আন্দোলন পরিচালিত করেছিলেন।

 

কোনো তরবারি নয়, বরংযোগ্য নেতৃত্ব

“এমন একজন উৎকৃষ্টতম ব্যক্তি সম্পর্কে আমার জানতে ইচ্ছে করছিল যিনি আজও লক্ষাধিক মানুষের মনের উপর অবিতর্কিত প্রভাব বিস্তার করেন…। আমি আরও বিশ্বাসী হয়ে উঠি যে, তৎকালীন জীবনের রাজপথে ইসলাম যে স্থান অধিকার করেছিল তা তরবারির বলে ঘটেনি। এটা ছিল অনমনীয়বিনয়, নবির অবিমিশ্র আত্মবিলোপ, স্বীয় অঙ্গীকার পূরণ, স্বীয় বন্ধু ও অনুগামীদেরপ্রতি তাঁর তীব্র নিষ্ঠা, তাঁর সাহসিকতা, তাঁর নির্ভীকতা, আল্লাহ্‌ ও নিজের কার্যের উপর পূর্ণ আস্থা। তরবারী নয়, বরং এই সমস্ত মহৎ গুণগুলি তাঁদের সামনে সবকিছু এনে দিয়েছিল এবং সমস্ত বাধাবিপত্তি দূরীভূত করেছিল। যখন আমি “নবির জীবনী”র দ্বিতীয় খণ্ডটি বন্ধ করলাম তখন আমি খুব দুঃখিত ছিলাম, কারণ এই মহৎ জীবনটি সম্পর্কে অধিক কিছু জানার সুযোগ আমি আর পায়নি”। (ইয়াং ইণ্ডিয়া ১৯২৪)

 

  স্যার জর্জ বার্নার্ড শ

একজন নাট্যকার এবং লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিক্সের একজন সহপ্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি সাহিত্যের উপর অসামান্য কৃতিত্বের জন্য অস্কার এবং নোবেল দুটি পুরস্কারই জয় করেছিলেন।


মানবতার ত্রাণকর্তা

“বিশ্বে মুহাম্মাদের মন-মানসিকতাসম্পন্ন একজন মানুষের ভীষণ প্রয়োজন। মধ্যযুগের ধর্মীয় মানুষ তাদের অজ্ঞতা ও কুসংস্কারের কারণে একটি খুব অন্ধকার পথে তাঁর চিত্রাঙ্কন করেছিল; ফলে তারা তাঁকে খ্রিষ্ট-শত্রু বিবেচনা করত। কিন্তু এই মনুষ্যটির ইতিহাস তন্নতন্ন করে অধ্যায়ন করার পর আমি তাঁকে একজন বিস্ময়কর এবং অলৌকিক মনুষ্য পেয়েছি। পরিশেষে আমি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে, তিনি কখনোই খ্রিষ্ঠানদের শত্রু ছিলেন না, বরং তাঁকে তো মানবতার ত্রাণকর্তা বলা উচিত। আমি মনে করি, যদি তাঁকে বর্তমান বিশ্বের নিয়ন্ত্রণভার দেওয়া হত তাহলে তিনি শান্তি, শৃঙ্খলা ও প্রসন্নতা বিরাজিত করতেন যা বিশ্বের একান্ত কাম্য”।

 

আমি মুহাম্মাদের ধর্মের বিস্ময়কর জীবণীশক্তির জন্য সর্বদাই তার উচ্চ মূল্যায়ন করেছি। আমার মনে হয়, এটাই একমাত্র ধর্ম যার মধ্যে পৃথিবীর চিত্রে এমন পরিবর্তন সাধন করার ক্ষমতা রয়েছে যা প্রত্যেক যুগের জন্য সুসামঞ্জস্যপূর্ণ। আমি এই বিস্ময়কর ব্যক্তিটিকে গবেষণা করেছি। আমার ধারণায় তিনি খ্রিষ্টানবিরোধী হতেই পারেন না। তাঁকে মানবতার ত্রাণকর্তা বলা উচিত”। (দ্যা জিনুইন ইসলাম)

 

 জওহারলাল নেহেরু
ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি এবং ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী


সাম্য এবং গণতন্ত্রের শিক্ষা দিয়েছেন

কিছু অন্য ধর্মের প্রতিষ্ঠাতাদেরমতোই মুহাম্মাদও ছিলেন বহু প্রচলিত সামাজিক রীতিনীতির বিরোধী। তিনি অমায়িকত্ব ও অকপটতা এবং গণতন্ত্র ও সাম্যের সুগন্ধিবিশিষ্ট যে ধর্ম প্রচার করছিলেন তা দীর্ঘ দিন যাবত সর্বতোভাবে স্বৈরাচারী শাসক এবং সমানভাবে স্বৈরাচারী ও উদ্ধত ধর্মযাজকদের শাসনাধীন প্রতিবেশি রাষ্ট্রগুলির জনগণকে আকৃষ্ট করেছিল”।  (গ্লিম্প্‌স অফ ওয়ার্ল্ড হিস্টরি)

 

 আলফোন্স ডে লামার্টিন

তিনি ছিলেনএকজন ফরাসি লেখক, কবি ও রাজনীতিবিদ যিনিদ্বিতীয় প্রজাতন্ত্রের ভিত্তিস্থাপনেগুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।  


সর্বশ্রেষ্ঠ মনুষ্য

“যদি লক্ষের মহত্ত্ব, উপকরণের ক্ষদ্রতা এবং আশ্চর্যজনক ফলাফল, এই তিনটি মানব-প্রতিভার মানদণ্ড হয় তাহলে এমন কার সাহস রয়েছে যে মুহাম্মাদের সঙ্গে ইতিহাসের অন্য কাউকে তুলনা করতে পারে ? অধিকাংশ বিখ্যাত মনুষ্যগণ কেবল সৈন্যবাহিনী, আইন এবং সাম্রাজ্য তৈরি করেছে। সর্বোপরি তাঁরা বস্তুবাদ ক্ষমতা থেকে বেশি কিছু অর্জন করতে পারেননি যা বেশিরভাগ সময় তাঁদের চোখের সামনেই চুর্ণবিচুর্ণ হয়ে গেছে। এই মনুষ্যটি শুধু সৈন্যবাহিনী, আইন, সাম্রাজ্য, জনগণ, রাজবংশকেই পরিচালিত করেননি, বরং তৎকালীন অধ্যুষিত বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশের লক্ষাধিক মানুষকে পরিচালিত করেছিলেন; এছাড়া তিনি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন যজ্ঞবেদি, দেবতা, ধর্ম, মতবাদ, বিশ্বাস এবংআধ্যাত্মিকতাকে”। (তুরস্কের ইতিহাস)

 

 স্বামী বিবেকানন্দ
বিখ্যাত দার্শনিক ও আধুনিক ভারতের ধর্মপ্রচারক,রামকৃষ্ণ মিশন ও রামকৃষ্ণ মঠের প্রতিষ্ঠাতা


ভালোবাসা ও সাম্যের শিক্ষা প্রদান করেছেন

“যেহেতু হিন্দুরা হিব্রু বা আরবীয়দের থেকেও প্রাচীন জাতি, তাই তারা এতে উপনীত হওয়ার সম্মান অর্জন করতে পারে; কিন্তু ব্যবহারিক অদ্বৈতবাদ সার্বজনীনভাবে হিন্দুদের মধ্যে কখনো বিকশিত হয়নি যা সমগ্র মানবজাতিকে একাত্মার মতো দেখে এবং ব্যবহার করে। অপরপক্ষে আমার অভিজ্ঞতা হলো : যদি কখনো কোনো ধর্মের মধ্যে প্রশংসনীয় রূপে এই সাম্য পাওয়া গেছে তাহলে তা হচ্ছে ইসলাম আর শুধু ইসলাম।

অতএব আমি সুনিশ্চিত যে, বেদান্তবাদের তত্ত্বগুলি যতই সুন্দর ও বিস্ময়কর হোক, সেগুলো ব্যবহারিক ইসলামের সহযোগিতা ছাড়া বিশাল সংখ্যক মানুষের নিকট সম্পূর্ণ মূল্যহীন”।

“ইসলাম জনগণের জন্য একটি বার্তাস্বরূপ এসেছিল। প্রথম বার্তা ছিল সাম্য। একটিই ধর্ম - ভালোবাসা। জাতি, বর্ণ বা অন্য কিছুর প্রশ্ন ওঠে না। এতে যোগ দাও ! ওই ব্যবহারিক বৈশিষ্ট্যটিই নিয়ে এসেছিল দিনটি। মহা বার্তাটি ছিল একদম সাধারণ। এক এশ্বরে বিশ্বাস করো, যিনি আকাশ ও পৃথিবীর স্রষ্টা। কিছুই তাঁর সৃষ্টির বাইরে নেই। কোনো প্রশ্ন করো না”। (স্বামী বিবেকানন্দেরসম্পূর্ণ রচনা)

 

 টমাস কার্লাইল

ভিক্টোরিয়ান যুগেএকজনস্কটিশ লেখক, প্রবন্ধ-লেখক, ইতিহাসবিদ এবংশিক্ষক


নায়ক নবি

“এই কুৎসার প্রতি কর্ণপাত করা যে কোনো ব্যক্তির জন্য নেহাতই লজ্জার বিষয় যে, ইসলাম মিথ্যা এবং মুহাম্মাদ ছিলেন একজন মিথ্যাবাদী এবং প্রতারক। আমরা দেখেছি, তিনি ছিলেন দৃঢ সংকল্পের সাথে স্বীয় নীতির উপর অবিচল, দয়ালু ও মহানুভব, সহানুভূতিশীল, সৎ, ধর্মপরায়ণ, প্রকৃত মানবিক, কঠোর পরিশ্রমী এবং আন্তরিক। এই সমস্ত গুণাবলি ছাড়াও তিনি ছিলেন অন্যদের সাথে কোমল, ধৈর্যশীল, অনুগ্রহশীল, প্রসন্ন এবং প্রশংসনীয় আর হয়তো তিনি তাঁর সহচরদের সাথে ইয়ারকি ও রসিকতাও করতেন। তিনি ছিলেন ন্যায়পরায়ণ, সত্যবাদী, প্রাণবন্ত, পবিত্র মহানুভব এবং উদারচিত্ত; তাঁর মুখমণ্ডল ছিল উজ্জ্বল, দেখে মনে হত যেন রাতের অন্ধকার দূরীকরণের জন্য তাঁর মধ্যে আলো রয়েছে। তিনি ছিলেন প্রাকৃতিকভাবে মহান ব্যক্তি, যিনি কোনো শিক্ষকের নিকট কোনো বিদ্যালয়ে শিক্ষা বা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেননি, কারণ তাঁর এগুলো কিছুই প্রয়োজন ছিল না”।

“তাঁর বিনয় : মুকুটপরিহিত কোনো সম্রাটের এতটা আনুগত্য করা হয়নি যতটা আনুগত্য করা হয়েছিল সাধারণ পোষাক পরিহিত এই মনুষ্যটির। রুক্ষ ও প্রকৃত পরীক্ষার ২৩টি বছরের সময়কালে আমি এমন কিছু দেখছি যা একজন যথার্থ হিরোর জন্য একান্ত প্রয়োজন”। (Heroes, Hero Worship  and the Heroic in History)

 

  কে.এস. রামকৃষ্ণ রাও 
দর্শনের অধ্যাপক, মহীশূর বিশ্ববিদ্যালয়, ভারত


প্রতিটি ক্ষেত্রেইনায়ক

“মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের ব্যক্তিত্বের পূর্ণ সত্যতা উপলব্ধি করা ভীষণ কঠিন। আমি শুধু তার একটি আভাস উপলব্ধি করতে পারি। চিত্রানুগ দৃশ্যের একটি কী সুন্দর নাটকীয় অনুক্রম ! নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম :  মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম) যোদ্ধা; মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম) ব্যবসায়ী; মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম) কূটনীতিজ্ঞ;  মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম) বক্তা; মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম) সংস্কারক; মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম) অনাথদের আশ্রয়; মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম) ক্রীতদাসদের অবিভাবক; মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম) নারীদের মুক্তিদাতা; মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম) বিচারক; মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম) সিদ্ধপুরুষ। এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় এবং মানুষের সমস্ত কর্মবিভাগে তিনি ছিলেন একজন বীর নায়ক”। (মুহাম্মাদ, ইসলামের নবি)

 

 রেভারেন্ড বোওয়ার্থ স্মিথ
একজন আমেরিকিপ্রোটেস্ট্যান্ট এপিসকোপাল বিশপ


উচ্চ এবংনিম্ন উভয় স্তরে বিনয়ী

“তিনি রাষ্ট্র তথা চার্চের প্রধান, তিনি ছিলেন সম্রাট এবং ধর্মযাজক উভয়ই; কিন্তু ধর্মযাজকের দাবি ছাড়াই ধর্মযাজক এবং সম্রাটের সৈন্যদল, স্থায়ী সৈন্যবাহিনী, কোনো দেহরক্ষী, কোনো পুলিশ বাহিনী, কোনো নির্দিষ্ট রাজস্ব ছাড়াই সম্রাট ছিলেন। যদি কখনো কেউ সঠিক ঐশ্বী আইন দ্বারা রাজত্ব করে থাকেন তাহলে তিনি ছিলেন মুহাম্মাদ, কারণ তাদের পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই তাঁর সর্বশক্তি ছিল। তিনি শক্তির প্রলেপের কোনো পরোয়া করেননি। তাঁর ব্যক্তিজীবনের সরলতা নিহিত ছিল তাঁর জনজীবনের সঙ্গে থাকার মধ্যেই”।

“সর্বোপরি, কত বিস্ময়কর বিষয় ! বিভিন্ন পরিস্থিতিতে মুহাম্মাদ নিজের থেকে পৃথক। মরুভূমির মেষপালক, সিরিয়ার বনিক, হিরা পর্বতে নির্জন, সংখ্যালঘুর সংস্কারক, মদিনায় নির্বাসিত, স্বীকৃত বিজেতা, ফরাসি কায়সার এবং গ্রীক হিরাক্লিয়াসের সমকক্ষ, আমরা এখনো বাস্তবিক ঐক্য সন্ধান করতে পারি। আমার সন্দেহ হয়, তিনি ব্যতীত আর অন্য কোনো ব্যক্তি এমন আছে কিনা যার বাহ্যিক অবস্থা এত পরিবর্তনশীল অথচ তাদের সম্মুখীন হওয়ার সময় তিনি নিজে কখনো পরিবর্তিত হননি”। (Muhammad and Muhammadanism)

 

 অ্যানি বেসান্ত  
বিশিষ্ট ব্রিটিশ ব্রহ্মজ্ঞানী, নারী অধিকার কর্মী, লেখক, বাগ্মী ও ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি।  


আল্লাহ্‌র মহান দূত

“যে কেউ আরবের মহান নবির জীবনচরিত এবং চরিত্র নিয়ে গবেষণা করে এবং তাঁর শিক্ষাদান এবং জীবনধারা সম্পর্কে জানে সে আল্লাহ্‌ প্রেরিত একজন মহান দূত এই সম্মাননীয় নবির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করবে না, এটা অসম্ভব”।

“স্বীয় ধর্মবিশ্বাসের জন্য উৎপীড়ন ও নিগ্রহ ভোগার প্রস্তুতি, যাঁরা তাঁর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছিলেন এবং তাঁকে নেতা বলে স্বীকার করেছিলেন তাঁদের উচ্চ নৈতিক চরিত্র এবং তাঁর চুড়ান্ত সাফল্যের মহিমা, এ সমস্ত আলোচনা তাঁর মৌলিক অখণ্ডতা প্রমাণ করে। মুহাম্মাদকে একজন ভণ্ড ভাবলে সমাধানের তুলনায় সমস্যাই বেশি তৈরি হবে। তাছাড়া পশ্চিমে ইতিহাসের কোনো মহান ব্যক্তিই মুহাম্মাদের ন্যায় উচ্চ-মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হননি”। (মুহাম্মাদের জীবনচরিত ও শিক্ষা)

 

 ইউরি এভনেরি
ইজ্রাইলি লেখক, নেসেট সদস্য এবং গাশ শালোম শান্তি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা


সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা দিয়েছিলেন

“মুসলিম স্পেন ছিল ইহুদিদের একটি স্বর্গস্বরূপ। মুসলিম বিশ্বে কখনো কোনো ইহুদি হত্যাকাণ্ড ঘটেনি। ইহুদিদের বিরুদ্ধে দাঙ্গা-হাঙ্গামাও ছিল প্রায় নায়ের বরাবর। মুহাম্মাদ আহলে কিতাবদের (ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের) সঙ্গে সহিষ্ণুতাপূর্ণ আচরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তাদের পরিস্থিতি তৎকালীন ইউরোপীয় ইহুদিদের তুলনায় এত স্বাচ্ছন্দময় ছিল যার কোনো তুলনা হয়”।

“ক্যাথোলিক স্পেন হতে বহিষ্কৃত প্রায় সমস্ত ইহুদি মুসলিম রাষ্ট্রগুলিতেই আস্তানা গেড়ে ছিল এবং উন্নতি লাভ করেছিল। মুসলিম শাসনের শতাধিক বছর পরও গ্রিক ও সার্বিআ দেশের প্রায় লোকই খ্রিষ্টান ছিল। এই বাস্তব সত্যিটা থেকে স্পষ্ট যে, মুসলমানগণ নিজেদের ধর্ম ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের উপর বলপূর্বক চাপিয়ে দেয়নি”। (Anti Semitism: A Practical Manual)

 

 স্যামুয়েল পারসন্স স্কট
ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ ও লেখক


সত্যি ইশ্বরের একজন নবি

“যে সমস্ত গৌরবময় বিষয় ইসলামের ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করেছিল তার পূর্ণ উৎপত্তি মানুষের শৌর্য, নৈতিক উৎকর্ষ, জ্ঞান ও বুদ্ধি এবং প্রতিভা হতে। যদি এটা স্বীকৃত হয় তাহলে সম্মান ও সুখ্যাতিত বৃহত্তম পরিমাণ ওই ব্যক্তির জন্য যিনি এর পরিকল্পনা তৈরি করেছিলেন, এর প্রভাব বিস্তার করেছিলেন এবং এমন কতিপয় বিধিনিয়ম প্রণয়ন করেছিলেন যা এর সাফল্যকে নিশ্চিত করে। যে কোনো বিষয়ে ধর্মের উদ্দেশ্য যদি নৈতিকতার মুদ্রণ, অনিষ্টের মূলৎপাটন, মানব-প্রফুল্লতার সৃজন, মানব-প্রতিভার প্রসারণ হয়, অতঃপর সৎকর্মের ফলাফল যদি সেই মহাদিবসে যথার্থ হয় যেদিন সমগ্র মানবজাতিকে চুড়ান্ত হিসাব-নিকাশের জন্য সমবেত করা হবে তাহলে মুহাম্মাদকে সত্যিই ইশ্বরের একজন নবি হিসেবে স্বীকার করা অনর্থ বা অযৌক্তিক হবে না”। (History of the Moorish Empire in Europe)

 

 বিচারপতি পিয়েরে ক্রেবিটেস
আন্তর্জাতিক আদালতেরবিখ্যাত আমেরিকান আইনজ্ঞ ও প্রধান বিচারপতি


নারী অধিকারেরসর্বশ্রেষ্ঠ সমর্থক

“সম্ভবত বিশ্বে মুহাম্মা্দই ছিলেন নারী অধিকারের সর্বশ্রেষ্ঠ সমর্থক”।

“নারীর কল্যাণে মুহাম্মাদের অসামান্য অবদান সম্পত্তির অধিকারের মধ্যে বর্তমান যা তিনি স্বীয় সাহাবাবর্গের পত্নীদেরকে দিয়েছিলেন। একজন স্ত্রীর বিচার-বিভাগীয় স্তর (এমন প্রযুক্তিগত পরিভাষা মার্জনীয়) ঠিক স্বামীর স্তরের মতোই। মুসলিম স্ত্রী তার নিজস্ব সম্পত্তিতে একটি পাখীর ন্যায় মুক্ত ও স্বাধীন। আইন তাকে অনুমতি দেয়, সে তার নিজস্ব আর্থিক সম্পদ তার স্বামীর সঙ্গে কোনো পরামর্শ না করেই নিজের ইচ্ছা মতো ব্যয় করতে পারে। এ সমস্ত বিষয়ে একদম কোনো আগন্তুক অপেক্ষা অধিক এতটুকু অধিকার তার (স্বামীর) নেই।

সাধারণত একজন স্ত্রী কথা বলার সময় তার স্বামীর নাম নেয় না। একজন মুসলিম মেয়ে আয়েশা বিনতে উমার দশবার বিবাহ করতে পারে, কিন্তু তার নিজস্বতা তার বিভিন্ন স্বামী দ্বারা শোষিত হয় না। সে কোনো চাঁদ নয় যা প্রতিফলিত আলোর মাধ্যমে জ্বলজ্বল করে। সে একটি তারকা গ্রহ, তার নিজস্ব একটি নাম এবং একটি বৈধ ব্যক্তিত্ব রয়েছে”। (Things Muhammad Did For Women / মুহাম্মাদ নারীদের জন্য যা করেছেন)

 

 এডওয়ার্ড মোন্টেট
ফরাসি ইতিহাসবিদ


উচ্চাঙ্গেরযুক্তিবাদী শিক্ষক

ইসলাম একটি ধর্ম যা শব্দতত্ত্বগত এবং ঐতিহাসিকভাবে ব্যাপক অর্থে মূলত যুক্তিসঙ্গত বলে বিবেচিত। --- নবির শিক্ষাসমূহ, কুরআন মৌলিক আদ্যস্থলস্বরূপ নিজের স্থান অপরিবর্তনীয়ভাবে ধারণ করে আছে, এবং তাতে ঈশ্বরেরএকত্ববাদেরমতবাদ সবসময় একটি জাঁকজমক ও মহিমা,  একটি অপরিবর্তনশীল বিশুদ্ধতা এবং দৃঢ বিশ্বাসসহকারে ঘোষণা করা হয়েছে, যা ইসলামের বাইরে খুঁজে পাওয়া ভীষণ কঠিন। একটি আকিদা এতো সুনির্দিষ্ট, যাবতীয় ধর্মশাস্ত্রীয় জটিলতার এতো উর্ধ্বে এবং সাধারণভাবে এতো বোধগম্য যে, আশা করা যায়, বরং নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, এর মধ্যে মানুষের মস্তিষ্কে তার পথ জয় করার অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে”। (মুসলিমদের বিরুদ্ধে খ্রিষ্টান-চক্রান্ত) 

 

 এডওয়ার্ড গিবন
ইংরেজ ইতিহাসবিদ ও সংসদেরসদস্য


তিনি নৈতিক ক্ষমতায় সাফল্য অর্জন করেছিলেন

“মহোমেটের বিচারবুদ্ধি রাজপদের আড়ম্বর ও জাঁকজমককে অবজ্ঞা করেছে। আল্লাহ্‌র নবি পরিবারের গৃহকর্মে সহযোগিতা করেছেন; আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছেন; মেঝে ঝাড়ু দিয়েছেন; ভেড়ীর দুধ দোহন করেছেন এবং স্বহস্তে নিজের জুতো ও পোশাক মেরামত করেছেন। একজন সন্যাসীর প্রায়শ্চিত্ত ও মেধার অবজ্ঞা করে এবং কোনো অহংকার না দেখিয়ে তিনি একজন আরবীয়র সাধারণ খাবারে যোগদান করতেন”।

“মহোমেটের জীবনের শ্রেষ্ঠতম সাফল্য ছিল নিছক নৈতিক বলের প্রভাব”।

“… আমি এক আল্লাহ্‌তে বিশ্বাস করি, এবং বিশ্বাস করি যে, আল্লাহ্‌র নবি মহোমেট হচ্ছেন সাধারণ এবং ইসলামের অপরিবর্তনীয় ব্যক্তিত্ব। কোনো দৃশ্যমান মূর্তি দ্বারা কখনো দেবতার সদ্‌বুদ্ধিসম্পন্ন চিত্রের মর্যাদাহানী হয়নি; নবির মর্যাদা কখনো মানব-গুণমান লঙ্ঘন করেনি এবং তাঁর জীবন্ত নৈতিক শিক্ষা তাঁর শিষ্যদের কৃতজ্ঞতাকে ধর্ম ও যুক্তির সীমার মধ্যে সংযত রেখেছিল”। (The Decline And Fall Of The Roman Empire / রোম-সাম্রাজ্যের পতন)

 

 উইলিয়াম জেম্‌স ডুরান্ট
একজন উর্বর আমেরিকান লেখক, ইতিহাসবিদ এবং দার্শনিক


সফলতম সংস্কারক

যদি প্রভাব দ্বারা আমরা মহত্ত্ব বিচার করি তাহলে ইতিহাসের অসাধারণ শক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গের মধ্যে অন্যতম একজন ছিলেন তিনি। বর্বরতার মধ্যে তাপ ও নিরন্ন বর্জ দ্বারা উৎপীড়িত একজন লোকের আধ্যাত্মিক ও নৈতিক মানোন্নতির দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনি। তিনি অন্য যে কোনো সংস্কারকের তুলনায় অধিক পূর্ণ সফলকাম হয়েছিলেন, কদাচিৎ কোনো ব্যক্তি এতো পূর্ণাঙ্গভাবে নিজের স্বপ্ন পূরণ করেছে……। যখন তিনি (তাঁর মিশন) আরম্ভ করেন তখন আরব ছিল পৌত্তলিক উপজাতিগুলির একটি মরুভূমি ধ্বংসস্তুপ এবং যখন তিনি মৃত্যুবরণ করেন তখন তা ছিল একটি জাতি।

৫৬৫ খ্রিষ্টাব্দে জাস্টিনিয়ান, একটি মহা সাম্রাজ্যের শাসক, মৃত্যুবরণ করেন। পাঁচ বছর পরেই আরব উপদ্বীপের একটি দুস্থ পরিবারে মুহাম্মাদ জন্মগ্রহণ করেন, সেখানে বিক্ষিপ্তভাবে বসবাস করত যাযাবর উপজাতিরা যাদের সমগ্র সম্পদ সেন্ট সোফিয়ার আশ্রয়স্থল সজ্জিত করতে পারত না। ওই সময় কেউ স্বপ্নেও দেখেনি যে, এক শতাব্দীর মধ্যে এই যাযাবররা বাইজান্টাইন এশিয়ার অর্ধেক, সমগ্র পারস্য ও মিশর, উত্তর আফরিকার অধিকাংশ জয় করবে এবং স্পেনের পথে যাত্রা করবে। অর্ধেক ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের বিজয় এবং রূপান্তরের মধ্যে আরব উপদ্বীপের আকস্মিক প্রকাশ ছিল মধ্যযুগীয় ইতিহাসের সবচেয়ে অসাধারণ ঘটনা। (The Story of Civilization / সভ্যতার গল্প)

 

 আলফ্রেড মার্টিন
আমেরিকি দার্শনিক ও ইতিহাসবিদ


ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ সংস্কারক

“সফল নবি – আরবের বিদ্যমান সমাজ-ব্যবস্থায় মুহাম্মাদ যেভাবে তাঁর মহিমান্বিত ধারণাগুলি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ধর্মের ইতিহাসে তার থেকে উল্লেখযোগ্য আর কিছু নেই। তাঁর অনন্ত মহিমা সম্পর্কে এটা বলতেই হয় যে, তাঁর সময় ও স্থানের জাতিগুলিকে জীবনের একটি উচ্চতর স্তরে উন্নীত করার ক্ষেত্রে তিনি যে সাফল্য লাভ করেছিলেন তা মধ্যযুগীয় ইহুদি বা খ্রিষ্টান- কোনো সম্প্রদায়ই করতে পারেনি। তাছাড়া ওই শিষ্টাচারসম্পন্ন কর্ম সম্পাদনায় মুহাম্মাদ তাঁর অমূল্য পরিষেবা শুধু আরবজতিকেই দেননি, বরং তা দিয়েছিলেন সমগ্র বিশ্বকে। (The Great Religious Teachers of the East / প্রাচ্যের শ্রেষ্ঠ ধর্মীয় শিক্ষকগণ)

 

 লিউ টলস্টয়
রাশিয়ান লেখক, চিন্তাবিদ ও সংস্কারক


শত্রুদের শ্রদ্ধা জয় করেছেন

“আমি ওই সমস্ত লোকের একজন যাঁরা নবি মুহাম্মাদ কর্তৃক প্রভাবিত ছিলেন, যাঁকে অদ্বিতীয় প্রভু তাঁর আত্মা, হৃদয় ও মস্তিষ্কে স্বীয় চুড়ান্ত বাণী প্রত্যাদেশ করার জন্য মনোনীত করেছিলেন। তিনি তাঁকে সর্বশেষ রসূল মনোনীত করেছিলেন; সুতরাং তাঁর পরে কোনো নবি আগমন করবে না। তাঁর পূর্বে সমস্ত নবি বিশ্বসমাজ-নির্মাণের কার্য সম্পাদনের জন্য আল্লাহ্‌ কর্তৃক প্রেরিত হয়েছিলেন আর তাকে পূর্ণতা দেওয়ার জন্য প্রেরিত হয়েছিলেন মুহাম্মাদ; একথা সমস্ত নবি স্বীকার করেছিলেন যা এর সন্দেহাতীত প্রমাণ যে, তিনি ইসলাম নিয়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন সর্বত্র সমগ্র মানবতার জন্য সমাজ-নির্মাণের চুড়ান্ত রূপ দেওয়ার জন্য”।

“নবি মুহাম্মাদ ব্যতীত অন্য কোনো নবি শত্রুদের শ্রদ্ধা জয় করতে পারেননি। কারণ, তাঁদের অনেকেই পরবর্তীতে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। অবাক লাগে যে, যাঁরা তাঁকে নিজেদের শত্রু হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন তাঁরা জানতেন যে, তিনি বিশ্বস্ত এবং সত্যের প্রতি তিনি তাঁদেরকে আহ্বান করছেন; তাই তাঁরা হৃদয়ের নিভৃত কোণ হতে তাঁকে শ্রদ্ধা করতেন, কিন্তু তাঁরা এই শ্রদ্ধা গোপন রাখতেন, কারণ তাঁরা স্বধর্মত্যাগের অভিযোগে অভিযুক্ত হতে চাইতেন না”। (Selected Sayings Of The Prophet / নবির নির্বাচিত বাণী)

 

 ফিলিপ কে. হিট্টি
ইসলামের বিষয়ে ম্যারোটাইন খ্রিষ্টান পণ্ডিত যিনি আরব সংস্কৃতি অধ্যায়নের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে পরিচিত করেছিলেন


বিনয় ও নম্রতার শ্রেষ্ঠতম দৃষ্টান্ত  

নশ্বর জীবনেরএকটি সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যেমুহাম্মাদ (সঃ) অনাশ্বাসজনক বস্তুবাদ হতে একটি জাতি তৈরি করেছিলেন যা পূর্বে কখনো একত্রিত হয়নি; একটি রাষ্ট্রে যা তখনো শুধু একটি ভৌগোলিক অভিব্যক্তি ছিল, তিনি প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন একটি ধর্ম যা বিস্তীর্ণ এলাকায় খ্রিষ্টান ও ইহুদি ধর্মকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল এবং একটি সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন যা দ্রুত উৎকৃষ্ট প্রদেশ তৎকালীন সভ্য বিশ্বকে তার বিস্তীর্ণ সীমানার অন্তর্ভুক্ত করেছিল”। 

 “উচ্চাঙ্গের মহিমাসম্পন্ন হয়েও মুহাম্মাদ তাঁর প্রচ্ছন্নতার কালে একটি বিনয়ী জীবন কাটিয়ে ছিলেন সাম্প্রতিক আরব ও সিরিয়ার সেকেলে গৃহগুলির ন্যায় একটি মৃন্ময় গৃহে, যাতে ছিল কয়েকটি কক্ষ, ছিল একটি আঙ্গিনা এবং তা শুধু ওটা দিয়েই প্রবেশযোগ্য ছিল। অধিকাংশ সময় নিজের বস্ত্র স্বহস্তে মেরামত করতে তাঁকে দেখা গেছে এবং তিনি সর্বদা মানুষের সংস্পর্শেই থাকতেন”।(আরবের ইতিহাস)  

 

 ওয়াশিংটন আরভিং

একজন আমেরিকি লেখক, জীবনীকার ও ইতিহাসবিদ


পরম শক্তি থাকা সত্ত্বেও বিনয়ী

 “ব্যক্তিগত আচার-আচরণে তিনি ছিলেন ন্যায়পরায়ণ। বন্ধু ও আগন্তুক, বিত্তবান ও বিত্তহীন, ক্ষমতাশালী ও দুর্বল সকলের সাথে তিনি ন্যায় ব্যবহার প্রদর্শন করতেন। অমায়িকভাবে তিনি সাধারণ মানুষকে আপ্যায়ন করতেন এবং তাদের অভিযোগ শুনতেন, ফলে তিনি ছিলেন তাদের প্রিয়পাত্র।

তাঁর সামরিক বিজয় গর্ব বা বৃথা গৌরব জাগরিত করত না। তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ ক্ষমতার সময়ে সেই একই বিনয়ী আচার-ব্যবহার অবলম্বন করতেন যা তিনি করতেন তাঁর সংকটপূর্ণ সময়ে। রাজকীয় অবস্থার প্রভাব থেকে তিনি এতটাই দূরে ছিলেন যে, যদি কোনো কক্ষে প্রবেশকালীন তাঁকে কোনো অস্বাভাবিক শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা হত তাহলে তিনি অসন্তুষ্ট হতেন। যদি কোনো সার্বজনীন আধিপত্য তাঁর লক্ষ ছিল তাহলে তা ছিল ঈমানের আধিপত্য; কারণ যে পার্থিব শাসন তাঁর হাতে অর্পণ করা হয়েছিল তা তিনি কোনো বাহ্যাড়ম্বর ছাড়াই প্রয়োগ করতেন এবং নিজের পরিবারের মধ্যে তা চিরস্থায়ী করে রাখার প্রতি তিনি কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি”। (Mahomet and His Successors / মহোমেট এবং তাঁর উত্তরসূরীগণ)   

 

 মাইকেল ওয়ল্‌ফ আমেরিকান কবি,  লেখক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা


সাফল্যের উচ্চ শিখরেও বিনয়ী

“তিনি তাদেরকে নির্দেশ দিতেন পরস্পপরের সঙ্গে ভালো হতে এবং একে অপরের অধিকার লঙ্ঘন না করতে। নর ও নারীদের উচিত পরস্পরের সাথে মানবিক আচরণ করা, ভাই ও বোনদের উচিত একে অপরের সাথে উত্তম আচরণ করা এবং মুসলমানদের উচিত পরস্পরের সঙ্গে ভ্রাতৃ ও ভগ্নীসুলভ আচরণ করা। আরও হয়তো সবচেয়ে গুরুত্বের সাথে তিনি দাঁড়ি টানতে চেয়েছিলেন প্রতিশোধ-প্রবণতা, রক্তপ্রবাহ, গৃহবিবাদের প্রতি যা তাঁর জন্মের পর হতে এই সংস্কৃতির এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। মুহাম্মাদ তাঁর শেষ ভাষণে তাঁর কৃতিত্বের তালিকা তৈরি করেননি। এই মনুষ্যটি মানুষকে এক করেছিলেন। তিনি তাদেরকে একত্ববাদের শিক্ষা দিয়েছিলেন। তিনি তাদেরকে শান্তির মধ্যে আনয়ন করেছিলেন। এতদ্‌সত্ত্বেও তিনি এগুলোকে তাঁর কৃতিত্বস্বরূপ চিহ্নিত করেন না। পক্ষান্তরে তিনি স্বীয় সম্প্রদায়কে জিজ্ঞাসা করছেন : “আমি কি আমার প্রতি এবং তোমাদের প্রতি আমার মিশন সম্পন্ন করেছি ?” আপনি তাঁর বাণীতে একটি পূর্ণাঙ্গ মিশনের কামনার কথা শুনবেন। ইনি একজন ধর্মবিশ্বাস-সম্পন্ন মানুষ যিনি তাঁর কর্মফলের বিষয়ে অনিশ্চিত। এহেন গুরুত্বপূর্ণ মানবিক মুহূর্তে তাঁর জানা দরকার, আর তিনি জিজ্ঞাসা করছেন এবং মানুষ স্বীকার করছেন যে, হ্যাঁ, তাঁরা তিনবার বলছেন : “হ্যাঁ, আপনি আপনার দায়িত্ব পালন করেছেন…”। (মুহাম্মদ : নবীরউত্তরাধিকার)

বার্নাবি রোগার্সন বিখ্যাত ব্রিটিশ লেখক,  প্রকাশক ও ইতিহাসবিদ


একজন লোকের মধ্যে বৈচিত্রময় প্রতিভা  

“ইসলামের প্রতিটি জিনিসের মধ্যে তিনি মানবমর্যাদার প্রতিমূর্তি তৈরি করেছিলেন। মুহাম্মাদ, আল্লাহ্‌র নবি, আদম থেকে শুরু করে ইব্রাহিম, মুসা, ইসার মতো যে সমস্ত মানুষ আল্লাহ্‌র বাণী মানবজাতির নিকট পৌঁছানোর চেষ্টাসাধনা করেছিলেন তাদের দীর্ঘ সারীর সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ ব্যক্তি। এমনকি যখন তিনি সম্পূর্ণ ধর্মনিরপেক্ষ দৃষ্টভঙ্গি দেখলেন তখন তিনি সুপার হিরো হয়ে যান। তিনি ছিলেন খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতা, বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম সম্রাটদের মধ্যে অন্যতম একজন; আধুনিক আরব, নতুন সাহিত্য এবং বিশ্ব ভাষার প্রতিষ্ঠাতা; একজন নতুন জাতীয় পরিচিতি, আরবের প্রতিষ্ঠাতা; এবং ইসলামের মতো একটি বিশ্বব্যাপী সংস্কৃতির প্রবর্তক যার ধারকের সংখ্যা এখন ১২০০ মিলিয়ন এবং সেই সংখ্যা দ্রুত বেড়ে চলেছে। আলেকজান্ডার দ্যা গ্রেট, ডাইওজিনেস, অ্যারিস্টেটলঅথবা সম্রাট কন্সট্যান্টাইন, সেন্ট পাল এবং সেন্ট ফ্রাঙ্কিসের মিলিত ইউরোপীয় সভ্যতার সমস্ত প্রকৃত উত্তম বৈশিষ্ট্য তাঁর মধ্যে ছিল, আর এখান থেকেই আপনি মনুষ্যটির পরিমাপ বোঝার কাজ আরম্ভ করতে পারেন”। (নবি মুহাম্মাদ – একটি জীবনী)

 

 জান উলফগ্যাং ভন গোথে

জার্মান লেখক, চিত্রশিল্পী, জীববিজ্ঞানী, পলিমেথ, তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী।আধুনিক জার্মান সাহিত্যের প্রতিভা হিসেবে বিবেচিত।


সর্বোৎকৃষ্ট আদর্শ

“আমরা ইউরোপীয়রা আমাদের যাবতীয় চিন্তাধারা নিয়ে ওই জায়গায় পৌঁছতে পারব না যেখানে পৌঁছে ছিলেন মুহাম্মাদ। কেউ তাঁর থেকে অগ্রবর্তী হতে পারবে না। আমি মানব-ইতিহাসে একটি দৃষ্টান্ত অন্বেষণ করেছি আর মুহাম্মাদের আকারে সেই দৃষ্টান্তটি পেয়েছি, আর সত্য তো প্রকাশ হবেই। সত্যি বলতে কি, মুহাম্মাদ একত্ববাদ বা একেশ্বরবাদের সামনে সমগ্র মানবজাতিকে অবনত করতে সফল হয়েছেন”।

“আমি ইতিহাসেজুড়ে একজন আদর্শ ব্যক্তি অনুসন্ধান করলাম, কিন্তু নবি মুহাম্মাদ ব্যতীত আর কাউকে তেমন পেলাম না”।

পশ্চিমা দেশগুলির উপর আল্লাহ্‌র সূর্য মহোমেট-কণ্ঠের অবদান। (সিগ্রিড হাঙ্ক)

 

 স্যার উইলিয়াম মুইর

বিখ্যাত পণ্ডিত ও স্কটিশ ঔপনিবেশিক প্রশাসক


সর্বাধিক দয়ালু এবং পরিচালক

একটি অসাধারণ বৈশিষ্ট্য ছিল বিনয় ও শ্রদ্ধা। মুহাম্মাদ তাঁর সবচেয়ে নগণ্য শিষ্যের সঙ্গেও বিনয়ী ও ভব্য ব্যবহার করতেন। বিনয় ও সহৃদয়তা, ধৈর্য, স্বার্থ বিসর্জনএবং উদারতাপ্রভৃতি তাঁর আচরণকে পরিব্যাপ্ত করেছিল এবং তাঁর আশেপাশের সমস্ত লোকের প্রীতি ও অনুরাগ জয় করেছিল। তিনি “না” বলতে অপছন্দ করতেন। যদি তিনি কোনো আবেদনকারীকে সম্মতিসূচক উত্তর দিতে অক্ষম হতেন তাহলে তিনি নীরব থাকতেন। কোনো নিম্নপদস্থ ব্যক্তির বাড়িতে নিমন্ত্রণ পেলে তিনি অস্বীকার করতেন কিংবা তাঁকে কোনো সামান্য উপহার দেওয়া হলে তিনি প্রত্যাখ্যান করতেন, এমন দৃষ্টান্ত জানা নেই। তিনি অতিথীবৃন্দের মধ্যে প্রত্যক ব্যক্তিকে এ কথা ভাবানোর অসাধারণ ধীশক্তি রাখতেন যে, প্রত্যেকই উপযুক্ত অতিথী। সাফল্যের জন্য আনন্দ করছে এমন ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হলে তিনি সাগ্রহে ও আন্তরিকতার সাথে তাকে হাত দিয়ে বাহবাহ জানাতেন। শোকার্ত ও কষ্টক্লিষ্ট ব্যক্তির সাথে তিনি সদয় ও সহানুভূতিশীল ছিলেন। ছোট্টো শিশুদের সাথে তিনি মার্জিত ও বন্ধুসুলভ থাকতেন। খেলার সময় তাদের দলকে শান্তির অভিবাদন জানিয়ে সম্বোধন করতে লজ্জাবোধ করতেন না। তিনি তাঁর খাবার অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে খেতেন, এমনকি দুর্ভিক্ষের সময়ও। তিনি প্রত্যেক ব্যক্তির ব্যক্তিগত স্বস্তির জন্য উৎসুক থাকতেন। একটি কল্যাণকামী ও হিতৈষী স্বভাব তাঁর চরিত্রের সমস্ত চিত্রকে ব্যাপ্ত করেছিল। (মুহাম্মাদের জীবন)

 

 ডেভিড স্যামুয়েল মারগোলিয়থ বিলাতী যাজক,প্রাচ্যবিদ, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপকও লেখক


পশুকুলের প্রতিও দয়াশীল

“নিম্নমানের সৃষ্টি পর্যন্ত তাঁর মানবতা পরিব্যাপ্ত ছিল। তিনি লক্ষবিদদের জন্য লক্ষবস্তু হিসেবে জীবিত পাখির ব্যবহারকে নিষিদ্ধ করেছেন। যারা উষ্ট্রীর সাথে দুর্ব্যবহার করতেন তিনি তাদের প্রতিবাদ করেছেন। তাঁর কতিপয় সাহাবি একটি উইঢিবিতে অগ্নি সংযোগ করেছিলেন, তিনি তাঁদেরকে তা নিভাতে বাধ্য করেছিলেন। পৌত্তলিকতার প্রতিষ্ঠানসহ পুরানো কুসংস্কারের সঙ্গে সংযুক্ত নিষ্টুরতার গবাকান্ত কর্মকাণ্ডকে তিনি নির্মূল করেছিলেন।

ক্ষুধা-তৃষ্ণা নিবারণের জন্য কোনো মৃত ব্যক্তি উঁটকে তার সমাধির উপর আর বেঁধে রাখা হত না। পশুপালের একটি বিশেষ অংশের রক্ত প্রবাহিত করে খারাপ নজরকে আর প্রসন্ন করা হত না। ষাঁড়ের লেজের সাথে জ্বলন্ত মশাল বেঁধে এবং গবাদি পশুর মধ্যে সেগুলোকে ছেড়ে দিয়ে আর বৃষ্টি কামনা করা হত না। অশ্বের চেহারায় আঘাত করা হত না। ঘাধার চেহারায় তপ্ত লৌহের দাগ দেওয়া হত না বা আঘাত করা হত না। এমনকি মোরগ এবং উঁটকে অভিশাপ করাকে প্রতিনিবৃত্ত করা হত। (মুহাম্মাদ এবং ইসলামের উত্থান)

 

 ডাঃ গুস্তাভ ওয়েল একজন জার্মানি প্রাচ্যবিদ, লেখক ও অনুবাদক


সীমাতীত হিতৈষী

“মুহাম্মাদ ছিলেন তাঁর উম্মতের জন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর চরিত্র ছিল বিশুদ্ধ ও নির্মল। তাঁর গৃহ, তাঁর পোশাক, তাঁর খাবার – সবই ছিল বিরল বিনম্রতার প্রতীক। তিনি এতটাই বিনয়ী ছিলেন যে, স্বীয় সাহাবাবর্গ হতে তিনি শ্রদ্ধা-সম্মানের কোনো প্রতীক গ্রহণ করতেন না এবং ভৃত্যকে দিয়ে এমন কোনো কাজ করাতেন না যা তিনি নিজে করতে পারতেন। তিনি সর্বত্র সবার সংস্পর্শে থাকতেন। তিনি রোগীদের পরিদর্শন করতেন এবং তাদের জন্য সহানুভূতিশীল ছিলেন। তাঁর দয়াশীলতা ও মহানুভবতা এতটাই সীমাতীত ছিল যে, সম্প্রদায়ের কল্যাণের জন্য তিনি উদ্বিগ্ন থাকতেন”। (History of the Islamic Peoples / ইসলামপন্থী লোকদের ইতিহাস)

 

 স্ট্যানলি লেন পুলে ব্রিটিশ প্রাচ্যবিদ, প্রত্নতত্ত্ববিদ ও আরবির অধ্যাপক


জীবনে কাউকে কখনো আঘাত করেননি

“তিনি শিশুদের প্রতি অত্যন্ত স্নেহপরায়ণ ছিলেন। তিনি তাদেরকে পথের মধ্যে থামিয়ে তাদের মাথায় হাত বুলাতেন। তিনি জীবনে কাউকে কখনো আঘাত করেননি। যখন কাউকে অভিশাপ করার কথা তাঁকে বলা হত তখন তিনি উত্তর দিতেন : “আমাকে অভিশাপ করার জন্য পাঠানো হয়নি, বরং আমাকে পাঠানো হয়েছে মানবজাতির জন্য অনুগ্রহস্বরূপ”। তিনি রোগী পরিদর্শন করতেন, শবযানের পিছনে হাঁটতেন, কোনো ভৃত্য খাবারের নিমন্ত্রণ জানালে তাও গ্রহণ করতেন, নিজস্ব বস্ত্র নিজেই ভালো করতেন, ছাগলের দুধ দোহন করতেন এবং নিজের সেবা নিজেই করতেন, অন্যের ঐতিহ্যের কথা তিনি সরাসরি বর্ণনা করতেন। তিনি কারো করতল হতে নিজের হাত কখনো প্রথমে টেনে নেননি এবং অন্যের ফিরে যাওয়ার পূর্বে তিনি ফিরতেন না।

তিনি যাদের পালন করতেন তাদের জন্য তিনি খুব বিশ্বস্ত অভিভাবক ছিলেন। কথোপকথনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত মধুরভাষী ও সর্বশ্রেষ্ঠ মনোজ্ঞ ও আনন্দদায়ক। যাঁরা তাঁকে দেখতেন তাঁরা আকস্মিক তাঁর ভক্ত হয়ে যেতেন; যাঁরা তাঁর নিকটস্থ হতেন তাঁরা তাঁকে ভালোবাসতেন; যাঁরা তাঁর সঙ্গে কথা বলতেন তাঁরা বলতেন যে, আমি পূর্বাপর কখনোই তাঁর মতো মানুষ দেখিনি। তিনি ছিলেন মৌন-স্বভাব ও স্বল্পভাষী, কিন্তু যখন তিনি কথা বলতেন তখন খুব স্পষ্ট ও জোরালো ভাবে ভাব প্রকাশ করতেন এবং তাঁর বক্তব্য কেউ ভুলত না। (Speeches and Table Talk of the Prophet Muhammad)

  জেম্‌স আলবার্ট মিচেনার ৪০টিরও বেশি শিরোনামের একজন আমেরিকি লেখক


কুসংস্কার মূলৎপাটিত করেছেন

“সবকিছুর মধ্যে তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ ব্যবহারিক। যখন তাঁর প্রিয় সন্তান ইব্রাহিমের ইনতিকাল হয়েছিলে তখন সূর্যগ্রহণ হয়েছিল এবং স্বয়ং আল্লাহ্‌র শোকপ্রকাশের গুজব দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল। তৎক্ষণাৎ মুহাম্মাদকে এই ঘোষণা করতে বলা হলো যে, সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণ প্রকৃতির একটি বিস্ময়কর জিনিস। কোনো মানুষের মৃত্যু বা জন্মের প্রতীক বা বৈশিষ্ট্য বলা নির্বুদ্ধিতার পরিচায়ক”।

“তাঁর পূর্ববর্তী প্রায় সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ নবির ন্যায় মুহাম্মাদ তাঁর দুর্বলতার কথা অনুভব করে আল্লাহ্‌র বার্তাবাহক স্বরূপ কাজ করতে লজ্জাবোধ করেননি। কিন্তু ফেরেশ্তা তাঁকে পড়ার নির্দেশ দিলেন। যতটা আমরা জানি, মুহাম্মাদ পড়তে বা লিখতে পারতেন না, কিন্তু তিনি প্রত্যাদিষ্ট বাক্যগুলি পাঠ করতে শুরু করেছিলেন যা দ্রুত পৃথিবীর একটি বড় অংশে বিপ্লব এনেছিল যে, “উপাস্য কেবল একজন””। (Islam: The Misunderstood Religion)

 

 অধ্যাপক আলফ্রেড ক্রোনার

জোহানেস গুটেনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়, জার্মানির ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক


 আশ্চর্যজনক বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের কথা বলেছেন

“এ ধরনের অনেক প্রশ্ন সম্পর্কে আমি ভাবছি, এও ভাবছি যে, মুহাম্মাদ কোথা থেকে এসেছেন। তিনি ছিলেন একজন বেদুইন। আমি মনে করি : বিশ্বের সাধারণ উৎপত্তির মতো বিষয়গুলি তিনি জানতে পারতেন, এটা অসম্ভব। কেননা বৈজ্ঞানিকগণ বিগত কয়েক বছরে বহু জটিল এবং উন্নত প্রযুক্তি-প্রণালির সাহায্যে এগুলো আবিষ্কার করতে পেরেছেন, ফলে এই বর্তমান অবস্থা”।

“আমার ধারণা, এমন এক ব্যক্তি যিনি ১৪০০ বছর পূর্বে নিউক্লিয়ার ফিজিক্সের কোনো জ্ঞান রাখতেন না, আকাশ ও পৃথিবীর উৎপত্তি এক – এ ধরনের বিষয় নিজস্ব মস্তিষ্ক হতে আবিষ্কার করতে পারতেন না, অথবা অন্য অনেক প্রশ্ন নিয়ে আমরা এখানে আলোচনা করেছি”। (Documentary:   “The Truth”)

 

 জন ডেভেনপোর্ৎ
একজন ইংরেজ শুদ্ধাচারী পাদরী এবং নিউ হ্যাভেনের আমেরিকি উপনিবেশের সহপ্রতিষ্ঠাতা


মুহাম্মাদের ইতিহাসের এই পর্যায়ে একটি ঘটনা ঘটেছিল। অকপট ও নিরপেক্ষ লোকদের অভিমত, এই ঘটনাই তাঁকে ওই সমস্ত ভণ্ডামির অপবাদ হতে মুক্ত করে দেয় যার জন্য তিনি আক্রান্ত হতেন। তাঁর একমাত্র পুত্র মৃত্যুবরণ করেছিলেন। তিনি মারিয়ার গর্ভ হতে জন্মলাভ করেছিলেন। এই মৃত্যু ছিল পিতার জন্য মর্মান্তিক ক্ষতি। এই যুবকের ঠিক মৃত্যুর মুহূর্তে সূর্যগ্রহণ হয়েছিল। সাধারণ মানুষ এই আশ্চর্যজনক ঘটনার মধ্যে একটি নিদর্শন দেখলেন যেন আকাশমণ্ডলি ও পৃথিবী সাধারণ দুঃখ-যন্ত্রণা ভাগ করে নিচ্ছে। কিন্তু তাঁর অজ্ঞ সঙ্গীদের কুসংস্কারাচ্ছন্ন অনুভূতিকে প্রশ্রয় না দিয়ে, তাঁদের তোষামোদপূর্ণ কথাবার্তার প্রতি কর্ণপাত না করে তিনি তাঁদেরকে একত্রিত করে বললেন : “হে বন্ধুগণ ! সূর্য ও নক্ষত্র আল্লাহ্‌র নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কোনো নশ্বর জীবের মৃত্যু বা জন্মের ঘোষণা করার জন্য সেগুলোর গ্রহণ বা বিলোপ ঘটে না”। (An apology for Mohammed and the Koran)

 

 ডঃ মরিস বুকাইলি

ফরাসি সার্জেন, বিজ্ঞানী, পণ্ডিত ও লেখক


তিনি আল্লাহ্‌র প্রত্যাদেশ পৌঁছিয়েছেন

এই গবেষণায় চিন্তাধারাগুলিএকটি বিশুদ্ধ বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রতিভাত হয়। তারা এই পরিণতিতে এনে উপনীত করে যে, সপ্তম শতাব্দীতে মানুষের জীবনধারার জন্য ধারণাতীত ছিল কুরআনের মধ্যে এত বৈচিত্রময় বিষয়ের বিবৃতি প্রদান যেগুলো সে সময়ের সাথে সম্পর্কিত ছিল না এবং এমন কিছু বিষয়ের সাথে তাদের পরিচিতি ঘটানো যা বহু শতাব্দী পর জানা গেছে। আমি মনে করি, কুরআন মানুষের ব্যাখ্যা হতে পারে না।  

মুহাম্মাদের যুগে জ্ঞানের যে স্তর ছিল তার প্রেক্ষিতে এটা কল্পনাতীত যে, বিজ্ঞানের সঙ্গে সম্পর্কিত অনেক বিবৃতি কোনো মানুষের কৃতিত্ব হতে পারে। তাছাড়া কুরআনকে শুধুমাত্র প্রত্যাদেশের অভিব্যক্তিস্বরূপ বিবেচনা করাই নয়, বরং তাকে একটি বিশেষ মর্যাদা দেওয়া সম্পূর্ণ রীতিসিদ্ধ, কারণ এর মধ্যে রয়েছে বিশুদ্ধতার নিশ্চয়তা আর রয়েছে এমন বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব, যখন তা আজ গবেষণা করা হয় তখন অভিব্যক্ত হয় যে, সেটা মানুষের দিক থেকে ব্যা্খ্যা দেওয়ার জন্য চ্যালেঞ্জস্বরূপ। (বাইবেল, কুরআন ও বিজ্ঞান)

 

 ডঃ ই মার্শাল জনসন

আমেরিকা যুক্ত রাষ্ট্রের টমাস জেফারসন বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানাটমি ও ডেভেলপমেন্টাল বায়োলজির অবসরপ্রাপ্ত আমেরিকি অধ্যাপক এবং ২০০ টিরও বেশি পুস্তকের লেখক।


তিনি অহি পাওয়ার পরেই কথা বলতেন

“কুরআন শুধু বাহ্যিক অবস্থারই বিবরণ দেয় না, বরং বিবরণ দেয় আভ্যান্তরীণ স্তরের, ভ্রুণের মধ্যকার স্তরের, এর সৃষ্টি ও উন্নয়নের স্তরেরও, আর তুলে ধরে সমসাময়িক বিজ্ঞান দ্বারা স্বীকৃত প্রধান ঘটনাগুলিও”।  

“একজন বৈজ্ঞানিক হিসেবে আমি কেবল ওই সমস্ত জিনিসের আলোচনা করতে পারি যেগুলো আমি নির্দিষ্টভাবে দেখতে পায়। আমি বুঝতে পারি ভ্রূণতত্ত্ব এবং উন্নয়নশীল জীববিদ্যা। আমি শুধু ওই সব কথা বুঝতে পারি যেগুলো কুরআন থেকে অনুবাদ করে আমাকে দেওয়া হয়। আজ আমি যা কিছু জানি তা জেনে এবং বিষয়গুলি বিবরণ করে যদি আমি সেই যুগে পক্ষান্তরিত হতাম তবুও ওই সমস্ত বিষয়ের বিবরণ দিতে আমি পারতাম না যেগুলোর বিবরণ দেওয়া হয়েছিল। এই একজন ব্যক্তি, অর্থাৎ মুহাম্মাদকে এই তত্ত্ব কিছু জায়গা হতে সংগ্রহ করতে হত, এই ধারণাটি খণ্ডন করার জন্য আসলে কোনো প্রমাণই আমি দেখছি না। সুতরাং তিনি যা কিছু বলতে পেরেছিলেন তার সঙ্গে ঐশ্বরিক হস্তক্ষেপ জড়িত ছিল, এই ধারণাটির সাথে সাংঘর্ষিক কিছুই এখানে আমি দেখছি না”। (Documentary: “The Truth”)     

 

 ডঃ কিথ এল মুর

কানাডিয়ান অধ্যাপক ও টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়েঅ্যানাটমি বিভাগেরচেয়ারম্যান।


তিনি আল্লাহ্‌র নবি

কুরআন বলছে : “নিশ্চয়ই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি মৃত্তিকার মূল উপাদান হতে। অতঃপর আমি তাকে শুক্রবিন্দু রূপে স্থাপন করি একটি নিরাপদ স্থানে। অতঃপর যথাক্রমে আমি শুক্রবিন্দুকে পরিণত করি রক্তপিণ্ডে, রক্তপিণ্ডকে পরিণত করি মাংসপিণ্ডে, মাংসপিণ্ডের মধ্যে তৈরি করি হাড়, এবং হাড়সমূহকে আবৃত করে দিই মাংস দ্বারা, অবশেষে আমি তাকে গড়ে তুলি অন্য এক সৃষ্টিরূপে; অতএব সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহ্‌ কত মহান !”

“সপ্তম শতাব্দীতে যে সব বিবৃতি দেওয়া হয়েছিল, ওগুলোর বৈজ্ঞানিক বিশুদ্ধতা দেখে আমি বিস্মিত”।

“আমার নিকট এটা স্পষ্ট যে, মুহাম্মাদের নিকট এই বিবৃতিগুলি আল্লাহ্‌র পক্ষ হতে এসেছিল, কারণ পরবর্তী বহু শতাব্দী পর্যন্ত এর বেশিরভাগ তত্ত্বই উম্মোচিত হয়নি। আমার সামনে এটা প্রমাণ করে যে, নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ ছিলেন আল্লাহ্‌ বা ইশ্বরের নবি”। (Embryology in the Koran and the Hadith)

 

 ডঃ টি ভি এন পারসাউড

কানাডিয়ান লেখক, অধ্যাপক এবং কানাডার মানিতোবা বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যানাটমি বিভাগের চেয়ারম্যান।


তিনি ঐশী অহি এনেছিলেন

“যেভাবে আমাকে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, সেই অনুযায়ী মুহাম্মাদ ছিলেন একজন অত্যন্ত সাধারণ মানুষ। তিনি পড়তে পারতেন না, লিখতে জানতেন না। প্রকৃতপক্ষে তিনি ছিলেন একজন নিরক্ষর। আমরা প্রায় চোদ্দশো বছর পূর্বের কথা বলছি। আপনার সম্মুখে এমন একজন নিরক্ষর রয়েছেন যিনি যথেষ্ট মতপ্রকাশ ও বিবৃতি প্রদান করেছেন এবং বৈজ্ঞানিক প্রকৃতি সম্পর্কে সেগুলো আশ্চর্যজনকভাবে সঠিক। আমি ব্যক্তিগতভাবে বুঝতে পারি না কীভাবে এটা ঘটনাক্রমে হতে পারে। অনেক সঠিক তত্ত্ব রয়েছে। আর এটা ছিল একটি ঐশী প্রত্যাদেশ যা তাঁকে এই বিবৃতির পথ দেখিয়ে ছিল, এ বিষয়ে আমার হৃদয়ে ডঃ মুরের মতোই কোনো জটিলতা ও সন্দেহ নেই”। (Documentary:  “The Truth”)

 

 অধ্যাপক টেজাতাত টেজাসেন 
চিয়াং মাই বিশ্ববিদ্যালয়, থাইল্যান্ড-এর অ্যানাটমি বিভাগের চেয়ারম্যান


আল্লাহ্‌র একজন সত্য নবি

“গত তিন বছরে আমি কুরআনের প্রতি মনোযোগ হয়েছি। আমার গবেষণা এবং এই সম্মেলন হতে আমি যা শিখলাম তা হতে আমার মধ্যে এই বিশ্বাস বদ্ধমূল হয়েছে যে, ১৪০০ বছর পূর্বে কুরআনে যা কিছু সংরক্ষিত করা হয়েছে সবকিছুই নিশ্চিত সত্য যা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রমাণ করা যেতে পারে। যেহেতু নবি মুহাম্মাদ পড়তে ও লিখতে পারতেন না, তাই তিনি একজন নবিই হবেন যিনি এই সত্য প্রচার করেছেন যা তাঁর প্রতি ওই একক সত্তার পক্ষ হতে একটি আলোকবর্তিকা স্বরূপ প্রত্যাদিষ্ট হয়েছিল যিনি একমাত্র উপযুক্ত স্রষ্টা। এই স্রষ্টাই আল্লাহ্‌ বা ইশ্বর। সুতরাং আমি মনে করি, এটা এ কথা বলার সময় যে, আল্লাহ্‌ ব্যতীত ইবাদতের যোগ্য কোনো সত্তা নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহ্‌র দূত (নবি)……। এখানে এসে সবচেয়ে মূল্যবান যে জিনিসটি আমি অর্জন করতে পেরেছি তা হলো : লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ্‌ মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ্‌, এবং একজন মুসলমান হতে পেরেছি”। (ভিডিওগ্রাফড স্টেটমেন্ট : সাউদি মেডিকাল কনফারেন্স – VIII)  

 

 মাইকেল এইচ হার্ট
একজন আমেরিকি জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানী ও ইতিহাসবিদ


ইতিহাসের সেবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি

“বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তালিকায় প্রথম নম্বরে নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নাম আমি উল্লেখ করেছি, এটা বহু মানুষকে বিস্মিত করতে পারে এবং অনেকেই প্রশ্ন করতে পারে, কিন্তু তিনিই ইতিহাসের একমাত্র ব্যক্তি যিনি ধর্মীয় এবং পার্থিব উভয় ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ সফল ছিলেন। সম্ভবত ইসলামের প্রতি মুহাম্মাদের সাপেক্ষ প্রভাব খ্রিষ্টধর্মের প্রতি যিশু খ্রিষ্ট এবং সেন্ট পালের মিলিত প্রভাবের তুলনায় অনেক বেশি ছিল। এটা পার্থিব এবং ধর্মীয় প্রভাবের একটি অদ্বিতীয় সংযোগ, তাই আমি মনে করি মানব-ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাবশালী একক ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত হওয়া মুহাম্মাদের অধিকার।

 

 (ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০০ মনীষীর জীবনী)

 

 

 

 

 

 

 প্রিঙ্গল কেনেডি
ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ, ব্যারিস্টার ও লেখক


ব্যাপকভাবে দুনিয়াকে প্রভাবিত করেছিলেন

আমাদের মধ্যে যাদের নিকট মানুষের পারিপার্শ্বিক অবস্থাই প্রায় সবকিছু, তাদের নিকট তিনি ছিলেন ওই সমস্ত বিষয়ের সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত যা মানুষ দ্বারা করা যাবে। যারা এই অভিমত পোষণ করে যে, সময় ও স্থানের অবস্থা, প্রতিটি জিনিসের পরিবেশ, মানব-মস্তিষ্কের ধারণক্ষমতার উপযোগিতা পৃথিবীর ইতিহাসে একটি ব্যক্তি-প্রচেষ্টা অপেক্ষা অধিক বৃহৎ পদক্ষেপ নিয়েছে, তারাও পূর্ণ অস্বীকার করতে পারে না যে, এই পদক্ষেপ যদি মুহাম্মাদ ব্যতীত নেওয়া হত তাহলে তা অনির্দিষ্টকালের জন্য দেরী হয়ে যেত।

একজন মানুষ এই অসাধারণ ব্যক্তিটি সম্পর্কে যে ধারণাই পোষণ করুক, ওই ব্যক্তি ধর্মপ্রাণ মুসলিম হোক যে তাঁকে আল্লাহ্‌র সর্বশেষ ও শ্রেষ্ঠতম বার্তাবাহক মনে করে অথবা একজন সাবেক দিনের ধর্মান্ধ খ্রিষ্টান হোক যে তাঁকে শয়তানের একজন দূত বলে গণ্য করে, যে যে ধারণাই পোষণ করুক না কেন, তাঁর জীবনধারা বিশ্বের ইতিহাসে যে প্রভাব বিস্তার করেছিল তার ব্যাপকতায় কোনো পার্থক্য আসবে না। (Arabian Society at the Time of Muhammad / মুহাম্মাদের সময় আরব সমাজ)

 

  জে এইচ ডেনিসন
আমেরিকি মনবৈজ্ঞানিক ও ব্যক্তিত্ব উন্নয়ন লেখক


তিনি বিশ্ব-সংস্কৃতি সংরক্ষিত করেছেন

পঞ্চম ও ষষ্ঠ শতাব্দীতে সভ্য বিশ্ব বিশৃঙ্খলার শেষপ্রান্তে দাঁড়িয়ে ছিল। যে সমস্ত পুরানো আবেগময় সংস্কৃতি সভ্যতাকে সম্ভবপর করে তুলেছিল, অতঃপর তারা মানুষকে ঐক্য এবং তাদের শাসকদের প্রতি সম্মানের চেতনা দিয়েছিল তা ভেঙে পড়েছিল। যথাস্থানে সঠিক কিছু পাওয়া যাচ্ছিল না। তখন মনে হচ্ছিল যে, যে বিশাল সভ্যতা গড়ে তুলতে সময় লেগেছিল চার হাজার বছর তা পতনের দ্বারপ্রান্তে উপনীত রয়েছে এবং মানবজাতি বরবর পরিস্থিতিতে প্রত্যাবর্তন করার উপক্রমে রয়েছে যেখানে প্রত্যেক উপজাতি ও গোষ্ঠী পরস্পপরের বিরোধী এবং আইন-শৃঙ্খলা অজানা। কোনো মানসিক সংস্কৃতি ছিল কি যার দ্বারা ঐক্যের প্রতি এবং সভ্যতা বাঁচাতে মানবজাতিকে একত্রিত করা যেত ? এটা ছিল আরবের মধ্যে ওই ব্যক্তি যিনি পূর্ব-দক্ষীনের সমগ্র পরিচিত বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য জন্মলাভ করেছিলেন। (Emotions as the Basis of Civilisation)

 

 জেম্‌স জর্জ রোচে ফর্লং
অযোধ্যা সরকারের প্রধান ইঞ্জিনিয়ার, ভারতীয় সেনাবাহিনীর মেজর জেনারল এবং র‌্যাশনালিষ্টপ্রেস অ্যাসোসিয়েশনের অবৈতনিক সহযোগী।


বিশ্ব-ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ নির্মাতা

“ন্যায়পর নবি, মহান আরবীয় ও তাঁর ধর্মবিশ্বাস, তাঁর সাধারণ ও ব্যক্তিগত চরিত্র, গুণ ও দোষ; তাঁর সময় ও পরিস্থিতির উপর দীর্ঘ সময় ধরে অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও অকপট অধ্যয়ন – চল্লিশ বছর ব্যাপী এবং মুহাম্মাদীদের সমস্ত গোষ্ঠী ও জাতির সংস্পর্শে থেকে একটি অধ্যয়নের পর আমরা স্বীকার করছি যে, নবি (সঃ) পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ প্রশাসক এবং ইতিহাস নির্মাতাদের তালিকার সর্বোচ্চ স্থানে উপনীত আছেন। অনুরূপ শিবির ও পরিষদে, মানুষের অভিভাবক, সাহসী ও অবাধ্য গোষ্ঠী অথবা স্থায়ী জাতিগুলির প্রশাসক ও সংগঠকরূপে মুহাম্মাদ রাষ্ট্রনায়ক, বন্ধু ও শত্রুদের শ্রদ্ধা অর্জন করেছিলেন, এবং যাঁরাই তাঁকে গোপনে ও প্রকাশ্যে জানার সুযোগ পেয়েছিলেন তাঁদের নিকট তিনি ছিলেন প্রিয়, সম্মাননীয় এবং শ্রদ্ধেয়”। (Short Studies in the Science of Comparative Religions)

 

 জুল্‌স ম্যাসারম্যান
আমেরিকি মনঃসমীক্ষক


সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ নেতা

“নেতাদের তিনটি কার্য সম্পাদন করা আবশ্যিক --- নেতৃত্বাধীন লোকদের সুখ ও সমৃদ্ধি প্রদান, এমন একটি সামাজিক পরিকাঠামো গঠন যাতে মানুষ নিজেকে সম্পূর্ণরূপে নিরাপদ ভাবে এবং তাদেরকে কিছু বিশ্বাস প্রদান করা। পাস্তুর ও সকের মতো মানুষ প্রথম অর্থে নেতা। এক দিকে গান্ধী কনফিউসিয়াস এবং অপর দিকে আলেকজান্ডার, সীজার ও হিটলারের মতো মানুষ দ্বিতীয় এবং হয়তো তৃতীয় অর্থেও নেতা। যিশু ও বুদ্ধ শুধু তৃতীয় শ্রেণির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। বোধ হয়, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ নেতা ছিলেন মুহাম্মাদ যিনি তিনটি বিষয়কেই সম্মিলিত করেছিলেন। কিছুটা মুসা সেরূপ করেছিলেন”। (Who Were History’s Greatest Leaders? / কারা ছিলেন ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ নেতা ?)

 

 ডঃ আর্থার বারথার‌্যান্ড
ফরাসি চিকিৎসা বিজ্ঞানী ও লেখক


শিক্ষার মাধ্যমে সংস্কৃতি গড়ে তুলেছিলেন

“… “শিক্ষান্বেষণ প্রত্যেক মুসলিম নর ও নারীর জন্য আবশ্যিক কর্তব্য”। “বিদ্বানগণ নবিদের উত্তরাধিকারী”। মহান সংস্কারকের এই মহত্বপূর্ণ বাণীগুলি ওই সমস্ত লোকের অকাট্য বিরোধী যারা ত্রুটি অন্বেষণ করে এবং কুরআনের জীবনীশক্তির উপর মুসলমানদের বুদ্ধিবৃত্তিক অবনতির দায়িত্ব অর্পণের চেষ্টা করে। তাদের উচিত এই মহাগ্রন্থটি পাঠ করা এবং তা নিয়ে গবেষণা করা। তারা পাঠ করবে যে, নবি দীপ্তিমান অলৌকিকতা ও সৃষ্টির রহস্যময় বিষয়টির প্রতি তাঁর উম্মতের মনযোগ ও দৃষ্টি অবিরাম আকর্ষণ করতে থেকেছেন। শেষাবধি অবিশ্বাসী ও অবিশ্বাস তাদের মধ্যে এই বিশ্বাস গড়ে তুলতে পারে যে, এই গ্রন্থ এবং এর মতবাদ একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক ও নৈতিক বৃত্তির গুরুত্বকে পিছনে ছুড়ে ফেলে না। অপরপক্ষে যারা এর উপদেশাবলির অনুসরণ করে তারাই একটি সংস্কৃতির স্রষ্টা যা আজও বিস্ময়কর হয়ে আছে”। (Arab Contribution To Progress Of Medical Science)

 

 ক্রিশ্চিয়ান স্নুক হারখ্রোনিয়া
ডাচ অধ্যাপক, লেখক,  ইতিহাসবিদ ও ইন্দোনেশিয়া ঔপনিবেশিক সরকারের উপদেষ্টা


মানবতার ঐক্যের জন্য চেষ্টাসাধনা করেছেন

“ইসলামের নবি যে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন তা আন্তর্জাতিক ঐক্য এবং মানব-ভ্রাতৃত্ববোধের নীতি এমন সার্বজনীন ভিত্তির উপর স্থাপিত করেছিলেন যা ছিল অন্যান্য জাতির জন্য আলোকবর্তিকা। নির্ঘাত সত্য যে, ইসলাম জাতিসংঘের ধারণার যে অনুভূতি দিয়েছিল তার মতো ধারণা পৃথিবীর কোনো জাতি দিতে পারে না।

বিশ্ব দেবত্বের স্তরে ওই সমস্ত লোককে উপনীত করতে দ্বিধা করেনি যাদের জীবন ও লক্ষ পৌরাণিক কাহিনীর মধ্যে হারিয়ে গেছে। মুহাম্মাদ যা সম্পন্ন করেছিলেন এই পৌরাণিক লোকদের কেউ তার ভগ্নাংশ অর্জন করতে পারেনি। তাঁর যাবতীয় প্রচেষ্টার মুক্ষ লক্ষ ছিল এক আল্লাহ্‌র উপাসনার জন্য নৈতিক শ্রেষ্ঠত্বের নীতিমালার উপর মানবজাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা। মুহাম্মাদ কিংবা তাঁর অনুসারীগণ কখনোই এ দাবি করেননি যে, তিনি আল্লাহ্‌র পুত্র বা ইশ্বর-দেহধারী বা দেবত্বের বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন একজন মানুষ – বরং তিনি সর্বদা আল্লাহ্‌র মনোনীত নবি হিসেবে গণ্য ছিলেন আর আজও আছেন”। (Where Christian and Mohammedan Meet)

 

মেজর আর্থার গ্লাইন লিওনার্ড ব্রিটিশ সামরিক বিশেষজ্ঞ


মুহাম্মাদ (সঃ) ব্যতীত কোনো লেখক ও ইতিহাসবিদ ইশ্বরকে (আল্লাহ্‌কে) পাননি

“ভূপৃষ্ঠে যদি কেউ আল্লাহ্‌কে পেয়ে থাকে্ন; যদি কেউ বিশুদ্ধ ও পবিত্র আগ্রহ সহকারে, কোনো সন্দেহ পোষণ না করে এবং নিশ্চিতরূপে নিজের জীবন উৎসর্গ করে থাকেন তাহলে তিনি ছিলেন আরবের পবিত্র নবি”।

এটা ছিল মুহাম্মাদের উৎকর্ষ, জীবনীশক্তি যা তিনি ইসলামের আত্মার মাধ্যমে আরবের মধ্যে ত্যাগ করেছিলেন যা তাদেরকে সমুন্নত করেছিল। সেটাই তাদেরকে উত্থাপিত করেছিল তন্দ্রা এবং উপজাতীয় স্রোতহীনতার নিম্ন স্তর হতে জাতীয় ঐক্য ও সাম্রাজ্যের উচ্চ শিখরে। এটা নিহিত ছিল মুহাম্মাদের ইশ্বরবাদ, বিনয়, মিতাচারিতা এবং বিশুদ্ধতার উৎকর্ষের মধ্যে। এটা এর প্রতিষ্ঠাতার আনুগত্যকে তাঁর নিজস্ব নীতির উপর মুদ্রিত করেছিল যা কাজ করেছিল সত্য প্রত্যাদেশের সমস্ত চুম্বকধর্মের সাহায্যে তাঁদের নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক তন্তুর উপর। (Islam, Her Moral and Spiritual Value)

 

তথ্যসূত্র

www.iacr.net

http://www.askislampedia.com/en/wiki/-/wiki/English_wiki/Muhammad

আরও দেখুন :মুহাম্মাদ কে ? ইসলামের নবি

578 Views
Correct us or Correct yourself
.
Comments
Top of page