তাওহিদের আকিদা


নিঃসন্দেহে ইসলামি আকিদার জ্ঞান হলো সেই মৌলিক জ্ঞান, যা জানা, শেখা ও সেই অনুযায়ী কর্ম সম্পাদনের জন্য প্রয়োজন গভীর মনোযোগ; যেন কর্মসমূহ বিশুদ্ধ হয়, মহান আল্লাহ্‌র নিকট গ্রহণযোগ্য হয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জন্য ফলপ্রসূ হয়। বিশেষত এই সময়, যখন নবির পথনির্দেশিকার পরিপন্থী ভ্রান্ত কর্মকাণ্ড ছড়িয়ে পড়েছে; যেমন বিপথগামিতা, কবর ও মূর্তিপূজা, বিদআত প্রভৃতি।

 

কিন্তু এই সমস্ত বিপজ্জনক কর্মকাণ্ডের প্রভাব এমন মুসলমানের উপর পড়ে না, যে বিশুদ্ধ আকিদার অস্ত্রে সজ্জিত। যে আকিদার ভিত্তি রয়েছে কিতাব ও সুন্নাতের উপর। যার উপর ছিলেন উম্মতের ধর্মনিষ্ঠ পূর্বপুরুষগণ। সুতরাং মুসলমানকে সর্বদা সজাগ থাকতে হবে যেন বিকৃত কর্মকাণ্ড তাদের ভাসিয়ে না নিয়ে যায়। আর এর জন্য একান্তভাবে প্রয়োজন মুসলিম যুবসমাজকে বিশুদ্ধ আকিদার শিক্ষা তার প্রকৃত উৎস হতে প্রদান করার প্রতি যত্নশীল হওয়া এবং তাতে মনোনিবিষ্ট থাকা। 

 

বিষয়সূচি

 

আভিধানিক অর্থ

শব্দটি ‘আল-আক্ব্‌দ’ শব্দ হতে উদ্ভূত, যার অর্থ : কোনো কিছুর উপর অবিচল থাকা। ‘ই’তাকাদ্‌তু কাযা ওয়া কাযা’, অর্থাৎ আমার মন ও মানসিকতা এর উপর অনড় রয়েছে। আকিদা হলো এমন জিনিস, যা একজন মানুষ স্বীয় ধর্ম হিসেবে ধারণ করে। বলা হয় : তার আকিদা খুব সুন্দর, অর্থাৎ সংশয়মুক্ত। আকিদা একটি হৃদয়ের কাজ। আকিদা হৃদয়ে কোনোকিছুর প্রতি বিশ্বাস ও স্বীকৃতির নাম।

 

ইসলামি অর্থ

এটা হলো আল্লাহ্‌, তাঁর ফেরেশ্তাগণ, গ্রন্থসমূহ, নবিগণ, কিয়ামতদিবস এবং ভাগ্যের ভালো-মন্দের প্রতি বিশ্বাস স্থাপনের নাম। এগুলো ঈমানের স্তম্ভ নামে পরিচিত।

 

শরিয়ত দুই শ্রেণিতে বিভক্ত : ঈমান (বিশ্বাস) এবং আমল (কর্ম)।

 

  • ঈমান : কর্ম কীভাবে সুসম্পন্ন করতে হবে, এর সঙ্গে ওই বিষয়গুলির সম্পর্ক নেই। যেমন মহান আল্লাহ্‌র প্রভুত্বের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন, একনিষ্ঠভাবে কেবল তাঁরই ইবাদতের অপরিহার্যতা এবং উপরে উল্লেখিত ঈমানের অন্যান্য স্তম্ভের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন। এগুলো মৌলিক ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।
  • আমল (কর্ম) : স্বালাত, যাকাত, সিয়াম এবং অন্যান্য কর্ম কীভাবে সুসম্পন্ন করতে হবে, তার সঙ্গে এই বিষয়গুলির সম্পর্ক। এগুলো শাখা হিসেবে বিবেচিত, কারণ এগুলো বিশুদ্ধ কিংবা অবিশুদ্ধ বিশ্বাসের উপর নির্মিত হয়।

 

কুর্‌আন

বিশুদ্ধ আকিদা হলো ভিত্তি, যার উপর দ্বীনের (জীবনাদর্শের) ইমারত নির্মিত হয়; যার দ্বারা কর্মসমূহ নিরঙ্কুশ ও বিশুদ্ধ হয়। যেমন মহাপ্রতিপালক আল্লাহ্‌ বলেন : “যে ব্যক্তি স্বীয় প্রতিপালকের সঙ্গে সাক্ষাতের আশা রাখে, সে যেন সৎকর্ম করে এবং স্বীয় প্রভুর ইবাদতে অন্য কাউকে অংশীদার না করে”। [সূরা কাহ্‌ফ ১৮:১১০]

 

“আর নিশ্চয়ই তোমার প্রতি ও তোমার পূর্ববর্তীদের প্রতি অহি হয়েছে, যদি তুমি আল্লাহর ইবাদতে কাউকে অংশী স্থাপন করো তাহলে তোমার কর্ম নিষ্ফল হবে এবং তুমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে”। [সূরা যুমার ৩৯:৬৫]

 

“সুতরাং তুমি আল্লাহ্‌র আনুগত্যে বিশুদ্ধচিত্ত হয়ে তাঁর ইবাদত করো; জেনে রেখো, অবিমিশ্র দ্বীন আল্লাহ্‌রই জন্য”। [সূরা যুমার ৩৯:২-৩]

 

এই সমস্ত আয়াত এবং এগুলোর ব্যাখ্যায় অসংখ্য হাদিস প্রমাণ করে যে, কর্ম কেবল তখনই গ্রহণযোগ্য হবে যখন তা বিশুদ্ধ হবে এবং শির্‌কমুক্ত হবে। নবিগণ প্রথমত ও প্রধানত ঈমান-শুদ্ধির মাধ্যমে এগুলোর প্রতিই গুরুত্ব আরোপ করেছেন। এটাই কারণ যে, তাঁরা সর্বপ্রথম যে বিষয়টির প্রতি তাঁদের সম্প্রদায়কে আহ্বান করেছিলেন সেটি ছিল : কেবলমাত্র আল্লাহ্‌ তাআলার ইবাদত করতে হবে এবং আল্লাহ্‌ ব্যতীত অন্য সকলের ইবাদত বর্জন করতে হবে।  

 

সমস্ত নবির বাণী

 “আর নিশ্চয়ই আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের মধ্যে একজন করে রসূল প্রেরণ করেছি (এই বাণী দিয়ে যে,) তোমরা শুধুমাত্র আল্লাহ্‌র ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো”। [সূরা নাহ্‌ল ১৬:৩৬]

 

প্রত্যেক নবি সর্বপ্রথম যে বিষয়ের প্রতি তাঁর সম্প্রদায়কে আহ্বান করেছিলেন সেটি ছিল : “তোমরা শুধু আল্লাহ্‌র ইবাদত করো, তিনি ব্যতীত তোমাদের কোনো সত্য উপাস্য নেই”। [সূরা আ’রাফ ৭:৫৯]

 

অনুরূপ নূহ, হূদ, স্বালিহ্‌, শুয়াইব এবং অন্য সমস্ত নবি স্ব-স্বসম্প্রদায়কে এরই প্রতি আহ্বান করেছিলেন।

 

“আর আ’দ জাতির নিকট তোমাদের ভাই হূদকে প্রেরণ করেছিলাম। তিনি বললেন : হে আমার সম্প্রদায় ! তোমরা আল্লাহ্‌র উপাসনা করো, তিনি ব্যতীত তোমাদের কোনো সত্য উপাস্য নেই”। [সূরা আ’রাফ ৭:৬৫]

 

“আর সামুদ জাতির নিকট তোমাদের ভাই স্বালিহকে প্রেরণ করেছিলাম। তিনি বললেন : হে আমার সম্প্রদায় ! তোমরা আল্লাহ্‌র উপাসনা করো, তিনি ব্যতীত তোমাদের কোনো সত্য মা’বুদ নেই”। [সূরা আ’রাফ ৭:৭৩]

 

“আর মাদয়ানবাসীর নিকট তোমাদের ভাই শুয়াইবকে পাঠিয়ে ছিলাম। তিনি বললেন : হে আমার লোকসকল ! তোমরা আল্লাহ্‌র উপাসনা করো, তিনি ব্যতীত তোমাদের কোনো সত্য মা’বুদ নেই”। [সূরা আ’রাফ ৭:৮৫]

               

আকিদা-শুদ্ধি

নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম মক্কায় তেরো বছর অবস্থান করেছিলেন। এই সময় তিনি মানবজাতিকে তাওহিদ এবং আকিদা-শুদ্ধির প্রতি আহ্বান করতে থাকেন। কারণ এটাই মূল ভিত্তি, যার উপর দ্বীনের ইমারত নির্মিত হয়। সর্বকালে ইসলামের দাঈগণ নবি-রসূলগণের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন। তাঁরা তাওহিদ ও আকিদা-শুদ্ধি দিয়েই তাঁদের দাওয়াতের মিশন আরম্ভ করেছেন। তারপর তাঁরা দ্বীনের অন্যান্য বিষয়ের প্রতি ধাবিত হয়েছেন।

 

আকিদার উৎসসমূহ

আকিদা হলো তাওকিফী, অর্থাৎ এর সাব্যস্তকরণ শুধুমাত্র শরিয়তের প্রমাণাদির উপর নির্ভর করে। এক্ষেত্রে কোনো অভিমত বা অনুমানের কোনো স্থান নেই। এর উৎস কিতাব ও সুন্নাতের বিবরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ। কেননা আল্লাহ্‌র আনুগত্য এবং যাথেকে তিনি মুক্ত, সেবিষয়ে তাঁর থেকে বেশি জ্ঞানের অধিকারী আর কেউ নেই। আর আল্লাহ্‌র পর দ্বিতীয় স্তরে তাঁর সম্পর্কে নবিদের থেকে বেশি জ্ঞানের অধিকারী আর কেউ নেই। তাই আকিদা শিক্ষায় সালাফে স্বালিহিন এবং তাঁদের অনুসারীদের মতপথ কিতাব ও সুন্নাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।  

 

সুতরাং আল্লাহ্‌র অধিকার সংক্রান্ত যেসমস্ত বিষয় কুর্‌আন ও সুন্নাত হতে প্রমাণিত, কেবল সেগুলোর প্রতিই তাঁরা বিশ্বাস রাখতেন এবং সে অনুযায়ী কর্ম সম্পাদন করতেন। মহান আল্লাহ্‌র গ্রন্থে এবং রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের সুন্নাত হতে যা প্রমাণিত নয়, তাঁরা সেগুলোকে প্রত্যাখ্যান করতেন এবং অস্বীকার করতেন। এজন্যই আকিদার বিষয়ে তাঁদের মধ্যে কোনো মতোবিরোধ দেখা দেয়নি। তাঁদের আকিদা ছিল এক, তাঁদের জামাআত ছিল এক। এজন্যই যারা আকিদায় বিশুদ্ধ ও নিরঙ্কুশ অবস্থান এবং এক মতপথের সাথে কুর্‌আন ও সুন্নাতের উপর অটল থাকবে আল্লাহ্‌ তাআলা তাদের জন্য মুচলেকা প্রদান করেছেন। তিনি বলছেন : “তোমরা একযোগে আল্লাহ্‌র রজ্জুকে সুদৃঢ়হস্তে ধারণ করো এবং পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ো না”। [সূরা আল-ইম্‌রান ৩:১০৩] অতঃপর আমার পক্ষ হতে তোমাদের নিকট সৎপথের নির্দেশ এলে যে আমার পথ অনুসরণ করবে সে বিপথগামী হবে না ও দুঃখ-কষ্ট পাবে না”। [সূরা ত্ব-হা ২০:১২৩]

 

আকিদা হতে বিমুখতার পথসমূহ

বিশুদ্ধ আকিদা হতে বিমুখতা বিনাশ ও ধ্বংসের কারণ। কারণ বিশুদ্ধ আকিদাই হলো ফলপ্রসূ কর্মের প্রতি বলিষ্ঠ চালক শক্তি। বিশুদ্ধ আকিদা ছাড়া একজন মানুষ সন্দেহ-সংশয়ের শিকার হয়। ফলে সুখী জীবনের পথের সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি তার সামনে অস্পষ্ট হয়ে যায়। তার জীবন হয়ে ওঠে অবসাদগ্রস্ত। আর সে আত্মহত্যা করে সেই অবসাদ ও বিষণ্নতা হতে মুক্তি পেতে প্রয়াস পায়। এই ঘটনা ওই সমস্ত লোকের সাথে ঘটে যারা বিশুদ্ধ আকিদার পথনির্দেশিকা হারিয়ে ফেলে।

 

যে সমাজ প্রধানত বিশুদ্ধ আকিদার শাসনাধীন নয়, সেটা একটা পাশবিক সমাজ। তাতে সুখ ও আনন্দের যাবতীয় উপাদান অবর্তমান। আর যদি তাতে বস্তুবাদ জীবনের বহু উপাদান থাকেও, তথাপি তা শেষাবধি ধ্বংসের পথে নিয়ে যায়। এরকমই দৃশ্য কাফির-সমাজে পরিলক্ষিত হয়। কারণ, এই সমস্ত বাস্তুবাদ উপাদান হতে উপকৃত হওয়ার জন্য প্রয়োজন সঠিক পথনির্দেশ। আর খাঁটি আকিদা ছাড়া তাদের জন্য আর কোনো সঠিক পথনির্দেশ নেই। আল্লাহ্‌ তাআলা বলেন : “হে রসূলগণ ! তোমরা পবিত্র বস্তু হতে আহার করো এবং সৎকর্ম করো”। [সূরা মু’মিনুন ২৩:৫১]

 

বিপথগামিতার কারণ

১। সঠিক আকিদা সম্পর্কে অজ্ঞানতা, সেটা ঘটে এর শিক্ষা ও শিক্ষণ হতে মুখ ফিরিয়ে নেয়ার কারণে, অথবা এর প্রতি খুব অল্প গুরুত্ব ও মনোযোগ দেয়ার কারণে। কেননা মানুষ আকিদার জ্ঞানহীনতা কিংবা এর বিপরীত ও পরিপন্থী বিষয়ের উপর লালিত-পালিত হয়।

 

২। পূর্বপুরুষগণ যার উপর ছিল এবং যার প্রতি তারা অটল ছিল, তার পক্ষপাতিত্ব যদিও তা বাতিল হয়, অনুরূপ তাদের মতপথের বিরোধী বিষয়সমূহ পরিহার করা যদিও তা সত্য হয়।

 

৩। প্রমাণ না জেনেই বা সত্যতা যাচাই না করেই আকিদার বিষয়ে মানুষের বিবৃতির অন্ধানুসরণ।

 

৪। আওলিয়া ও সত্যনিষ্ঠ ব্যক্তিদের বিষয়ে অতিরঞ্জন করা এবং তাদের যে স্তর তার থেকে বেশি তাদের প্রশংসা করা, তৎসহ তাদের সম্পর্কে এই বিশ্বাস রাখা যে, তারা কল্যাণ সাধন করতে পারে এবং অনিষ্ট দূরীভুত করতে পারে; যার ক্ষমতা কেবল আল্লাহ্‌র রয়েছে। ঠিক এই ঘটনাই সত্যনিষ্ঠ ব্যক্তিদের ব্যাপারে নূহ (আঃ)-এর সম্প্রদায়ে ঘটেছিল। যখন মানুষ বলেছিল : “এবং তারা বলেছিল : তোমরা কখনও তোমাদের উপাস্যগুলিকে পরিত্যাগ করো না, আর তোমরা পরিত্যাগ করো না সুয়া’আ, ইয়াগুস, ইয়াউক এবং নাস্‌রকে (এগুলো প্রতিমাদের নাম)”। [সূরা নূহ ৭১:২৩]

 

৫। সার্বজনীন নিদর্শনাবলি ও আল্লাহ্‌র কুর্‌আনের আয়াতসমূহের প্রতি চিন্তাভাবনার অভাব। এবং বস্তুবাদ সভ্যতা যা প্রদত্ত হয়েছে, তাতেই হতভম্ব হয়ে পড়া এবং ভাবা যে, এই সমস্ত জিনিস শুধু মানবজাতির যোগ্যতাবলে এসেছে।

 

৬। ঘর সঠিক পথনির্দেশিকা হতে প্রায় শূন্য। রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : প্রত্যেক নবজাত শিশু স্বভাবধর্মের উপর জন্মলাভ করে, অতঃপর তার পিতামাতা তাকে বানিয়ে দেয় ইহুদি বা খ্রীষ্টান বা অগ্নিপূজক”। (সহি বুখারি : ৪৭৬০) সুতরাং সন্তানসন্ততির পথনির্দেশনায় পিতামাতার বিশাল ভূমিকা থাকে।

 

৭। ইসলামি বিশ্বে জ্ঞান প্রসার এবং শিক্ষামাধ্যমের প্রতি গুরুত্বের অভাব। তাই শিক্ষাপ্রণালী দ্বীন কিংবা এর ভিত্তিসমূহের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে না।

 

তারা ওই সমস্ত জিনিসের প্রতি গুরুত্ব দেয় না, যা চরিত্র ও উত্তম আচরণ গঠন করে; যা খাঁটি আকিদা গঠন করে, যে আকিদা পথভ্রষ্টতার ধারা রোধ করতে পারে। এভাবে একজন মানুষ বৈধর্ম্যের সামনে অসহায় ও নিরস্ত্র হয়ে পড়ে এবং কোনো প্রতিরোধ করতে পারে না।

 

আত্মরক্ষার উপায়

১। আল্লাহ্‌র কিতাব এবং তাঁর নবির সুন্নাতের দিকে প্রত্যাবর্তন। সেগুলো থেকেই সঠিক আকিদা গ্রহণ, ঠিক যেমন সালাফে স্বালিহিন তা গ্রহণ করেছিলেন।

 

২। বিভিন্ন শিক্ষা স্তরে বিশুদ্ধ আকিদা –সালাফে স্বালিহিনের আকিদা- শেখানোর প্রতি মনোসংযোগ। পাঠ্যক্রমে এর যথেষ্ট শিক্ষা দেয়া এবং এই বিষয়ের কঠিন পরীক্ষা নেয়ার প্রতি যথেষ্ট গুরুত্বারোপ।

 

৩। সালাফে স্বালিহিনের বিশুদ্ধ পুস্তকসমূহের অধ্যয়ন এবং বিপথগামী লোকদের পুস্তকসমূহ হতে দূরত্ব অবলম্বন, যেমন সুফী, বিদআতি, জাহ্‌মিয়া, মু’তাযিলা, আশায়িরা, মাতুরিদিয়া, ইত্যাদি। তবে তাদের ভ্রান্তি খণ্ডনের উদ্দেশ্যে এবং তাদের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দেয়ার জন্য সেগুলো অধ্যায়ন করা যায়।

 

৪। সালাফে স্বালিহিনের আকিদার সংশোধন ও সেগুলোকে উজ্জীবিত করার জন্য এবং যারা তা হতে পথভ্রষ্ট, তাদের ভ্রান্ত ধারণাগুলি খণ্ডন করার জন্য দাঈ নিয়োগ করতে হবে।

 

উপসংহার

যারা নিজেদেরকে ভ্রান্তি হতে রক্ষা করবে তাদের নাজাতপ্রাপ্ত দল বলা হয়। কারণ রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম তাদের সুরক্ষার কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, উম্মত ৭৩টি দলে বিভক্ত হবে এবং একটি ছাড়া সবাই জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। এই একটি দল সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাস করা হলে তিনি বলেন : “যে দল আমার এবং আমার সাহাবর্গের পথে চালিত হবে”।(তিরমিযি : ২৬৪১)

 

তথ্যসূত্র

তাওহিদের আকিদা, লেখক : সালিহ বিন ফাওযান বিন আব্দুল্লাহ্‌ আল-ফাওযান; প্রকাশনী : দারুস সালাম। 

470 Views
Correct us or Correct yourself
.
Comments
Top of page