কুরআনের অলৌকিকতা


যখন কোনো পুস্তক ভ্রুণের ভ্রুণতাত্ত্বিক উন্নতি, অথবা মেঘ ও বৃষ্টির গঠন, কিংবা সমুদ্র এবং ভূপৃষ্ঠের বহু মাইল নিচে তাদের সম্পদ সম্পর্কে কথা বলে তখন পাঠকের মস্তিষ্কে বেশ কিছু প্রশ্ন আসে।

 

কুরআন একজন মানুষের উপর অবতীর্ণ হয়েছিল আরব মরুভূমির মধ্যস্থানে ১৪০০ বছরেরও বেশি পূর্বে। এমন একজন মানুষ যিনি পড়তে বা লিখতে পারতেন না। কুরআন এবং এর অলৌকিক প্রকৃতি সম্পর্কে কী কী প্রশ্ন ওঠে ? আজ বিজ্ঞান ও আধুনিক প্রযুক্তির যুগে আমরা প্রতিনিয়ত নতুন তথ্য ও পরিসংখ্যান শিখে থাকি।

 

আমাদের পারিপার্শ্বিক জগত সম্পর্কে জানতে ধর্ম কী ভূমিকা পালন করেছে তা ভাবার জন্য একটা মিনিট ব্যবহার করুন, কুরআন হতে কী ধরনের তথ্য আমরা সংগ্রহ করেছি তা জেনে আপনি অবাক হবেন। এ কথা সত্যি যে, কুরআন বিজ্ঞানের বই নয়। তবে কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও অলংকারপূর্ণ ভাষায় অনেক বৈজ্ঞানিক তথ্য প্রকটিত হয়েছে যা ইদানিং বিংশ শতাব্দীর প্রযুক্তির দ্বারা আবিষ্কৃত হয়েছে। কুরআন অবতীর্ণের সময় এই তথ্যগুলি পরিচিত ছিল না। এটাই উৎকৃষ্ট প্রমাণ যে, কুরআন আল্লাহ্‌ তাআলার বাণী।

 

বিষয়সূচি

 

ভ্রুণ

শুক্র হতে কীভাবে পূর্ণ মানুষ তৈরি হয় কুরআন কারিম তার সঠিক চিত্রাঙ্কন করেছে। প্রথমেই নুত্‌ফা বা ড্রপ পর্যায় : এটা হয় যখন ভ্রুণকোষ গঠন করার জন্য মহিলার ডিমের সঙ্গে শুক্র সম্মিলন ঘটে যা শুক্রবিন্দুর আকারে থাকে; এটাকেই নুত্‌ফা নাম দেওয়া হয়। পরবর্তী পর্যায় “আলাকাহ্‌”। এটি একটি আরবি শব্দ। এর তিনটি অর্থ উল্লেখ আছে : জোঁক, অপসৃত জিনিস এবং জমাট রক্ত।

 

ভ্রুণ শুধু দেখতে জোঁকের ন্যায় নয়, বরং সে মায়ের রক্ত হতে ভোজনও করে। বৃদ্ধির সাথে সাথে সে একটি আকার ধারণ করতে থাকে যা মাতৃগর্ভে অবস্থান করে, যেন কোনো অপসৃত জিনিস। ‘আলাকা’-র সর্বশেষ পর্যায়ে ভ্রুণ মায়ের বিশাল পরিমাণ রক্ত গ্রহণ করে; এই সময় ওই রক্ত চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে না, বরং তা জমাট রক্তের আকার ধারণ করে।  

 

পরবর্তী পর্যায় “মুয্‌গাহ্‌”। এর অর্থ চিবানো পদার্থের মতো জিনিস। শিশুর ক্রমবর্ধমান শুষুম্না কোনো চিবানো পদার্থের অনুরূপ হয়। তারপরেই গঠন হয় হাড়। কুরআন বিবরণ দিচ্ছে, পরবর্তী পর্যায়ে হাড়ের উপর মাংসের আবরণ পরিয়ে দেওয়া হয় যা সঠিভাবে বর্ণনা করে দেয় হাড়ের উপর পেশীগুলি কীভাবে আকার ধারণ করতে আরম্ভ করে।

 

১৪০০ বছরেরও বেশি পূর্বে কুরআন আমাদেরকে যে ভ্রুণতত্ত্ব দিয়েছে, আধুনিক বিজ্ঞান তা আবিষ্কার করেছে বিগত কয়েক দশকে। এমনকি ১৭শ শতাব্দীতেও অনুবীক্ষণ যন্ত্রের উদ্ভাবনের সাহায্যে মনে করা হতো যে, শুক্রাণু ক্ষুদ্রাকৃতি মানুষের অন্তর্ভুক্ত।

 

“আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি মৃত্তিকার মূল উপাদান হতে। অতঃপর আমি তাকে শুক্রবিন্দু রূপে স্থাপন করি এক নিরাপদ স্থানে (মাতৃগর্ভে)। পরে আমি শুক্রবিন্দুকে পরিণত করি রক্তপিণ্ডে, অতঃপর রক্তপিণ্ডকে পরিণত করি মাংসপিণ্ডে এবং মাংসপিণ্ডকে পরিণত করি হাড়সমূহে; অতঃপর হাড়সমূহকে ঢেকে দিই মাংস দ্বারা, অবশেষে তাকে গড়ে তুলি অন্য এক সৃষ্টিরূপে; অতএব আল্লাহ্‌ই কল্যাণময় ও সর্বোত্তম স্রষ্টা”। [সূরা মু’মিনুন ২৩: ১২-১৪]

 

কক্ষপথ

সূর্য ও চন্দ্র সম্পর্কে কুরআনের তত্ত্বানুসারে প্রতিটি একটি নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘুরছে। আল্লাহ্‌ তাআলা বলেন : “আর আমি সৃষ্টি করেছি রাত্রি ও দিবস এবং সূর্য ও চন্দ্রকে; প্রতিটি একটি নির্দিষ্ট পথে বিচরণ করছে”। [সূরা আন্বিয়া ২১:২৩]

 

অন্য আয়াতে এও উল্লেখ আছে যে, সূর্য স্থির নয়, বরং তা একটি নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘুরছে : “এবং সূর্য ভ্রমণ করে তার নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে, এটা পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞের নিয়ন্ত্রণে”। [সূরা ইয়াসিন ৩৬:৩৮]

 

কুরআনে বর্ণিত এই তথ্যগুলি জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ দ্বারা আমাদের যুগে আবিষ্কৃত হয়েছে। জ্যোতির্বিজ্ঞান বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী, সূর্য প্রতি ঘন্টায় ৭,২০,০০০ কিলোমিটারের বিশাল গতিতে অভিজিৎ তারার দিকে একটি নির্দিষ্ট কক্ষপথে বিচরণ করছে। ওই কক্ষপথটিকে সৌরপথ রেখা বলে। অর্থাৎ সূর্য প্রত্যহ ১৭,২৮০,০০০ কিলোমিটার ভ্রমণ করে। সূর্যের সাথে সমস্ত গ্রহ, উপগ্রহ সূর্যের মহাকর্ষীয় পদ্ধতিতে একই দূরত্ব অতিক্রম করে। একইভাবে মহাবিশ্বের সমস্ত নক্ষত্র চলমান। 

 

সমগ্র মহাবিশ্ব বিভিন্ন পথ ও কক্ষপথে পরিপূর্ণ যা পবিত্র কুরআনে উল্লেখ আছে : “শপথ বহু পথবিশিষ্ট আকাশের”।[সূরা যারিয়াত ৫১:৭]

 

ফেরাউনের জলমগ্নতা

নবি মুসা (আ.)-এর যুগে ফেরাউন ছিল একটি প্রভাবশালী শক্তি। সে আল্লাহ্‌ তাআলার একত্ববাদে বিশ্বাস করতে অস্বীকার করেছিল। সে ছিল অত্যন্ত উদ্ধত ও অহংকারী। সে সারাটি জীবন নবির জীবনকে কন্টকপূর্ণ করতেই ব্যস্ত ছিল। এমনকি যখন মুসা (আ.) তাকে সতর্ক করেছিলেন যে, সে ডুবে যাবে তখনও সে বিশ্বাস করতে চাইনি। যখন সে সত্যিসত্যিই মৃত্যুর মুখোমুখী দাঁড়িয়ে ছিল কেবল তখন সে ঘোষণা করেছিল যে, সে আল্লাহ্‌কে বিশ্বাস করে।

 

“আমি বানি ইসরাইলকে সমুদ্র পার করে দিলাম, তা দেখে ফেরাউন তার সৈন্যদলসহ তাদের পশ্চাদানুসরণ করল অত্যাচার ও নির্যাতনের উদ্দেশ্যে; এমনকি যখন সে জলমগ্ন হতে লাগল তখন বলতে লাগল : আমি বিশ্বাস করছি যে, ওই সত্তা ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই যাঁর উপর বানি ইসরাইল বিশ্বাস স্থাপন করে এবং আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হচ্ছি”। [সূরা ইউনুস ১০:৯০]

 

তদুত্তরে আল্লাহ্‌ তাআলা বলছেন : “এখন ? অথচ পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত তুমি অগ্রাহ্য করেছ এবং তুমি বিবাদকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলে। অতএব আমি আজ তোমাকে শারীরিকভাবে সুরক্ষিত রাখছি যেন তোমার পরবর্তী লোকদের জন্য তুমি উপদেশের উপকরণ হয়ে থাকো; আর প্রকৃতপক্ষে অনেক লোক আমার উপদেশাবলি হতে উদাসীন আছে”। [সূরা ইউনুস ১০:৯১-৯২]

 

পর্বতমালা কীলকের ন্যায়

তাঁবু খাটানোর সময় সেটাকে রজ্জু ও অন্যান্য জিনিস দ্বারা শক্ত করে উপরে তোলার জন্য কীলক ব্যবহার করি। আপনারা জানেন, কীলকের অধিকাংশ মাটির নিচে অদৃশ্য থাকে এবং তার খুব সামান্য অংশ মাটির উপরে থাকে। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় তাঁবুকে মজবুত করার জন্য এবং পতনের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য।

 

কুরআন বলছে পর্বতমালা কীলকের ন্যায়। এই মতবাদ প্রথম ব্যক্ত করেছেন স্যার জর্জ আইরি ১৮৬৫ খ্রিস্টাব্দে। ভূতত্ত্বের আধুনিক অগ্রগতি প্রদর্শন করে যে, পর্বতমালা গভীর সুগ্রোথিত মূলের উপর স্থাপিত রয়েছে যা ওগুলোকে উপরে তুলে রাখে এবং পৃথিবীর ভূতককে স্থির রাখে।

 

কুরআনে আল্লাহ্‌ তাআলা আমাদেরকে বলছেন : “আমি কি পৃথিবীকে বিছানা বানিয়ে দেয়নি এবং পাহাড়গুলিকে পেরেক রূপে গেঁড়ে দেয়নি ?” [সূরা নাবা ৭৮:৬-৭]

 

“আর তিনি পৃথিবীতে সুদৃঢ় পাহাড় স্থাপন করেছেন যাতে পৃথিবী তোমাদেরকে নিয়ে আন্দোলিত না হয় এবং স্থাপন করেছেন নদ-নদী ও রাস্তাঘাট, যেন তোমরা তোমাদের গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে পারো”। [সূরা নাহ্‌ল ১৬:১৫]

 

সমুদ্রগুলির মাঝে প্রাকৃতিক অন্তরাল

সম্প্রতি বৈজ্ঞানিকগণ সাব্যস্ত করেছেন যে, যেখানে দুই সমুদ্রের জল সম্মিলিত হয় সেখানে একটি সুক্ষ্ম অন্তরায় থাকে যা মানব-চোখে ধরা পড়ে না। ওই অন্তরায় প্রত্যেক ধরনের জলের লবণাক্ততা, তাপমাত্রা ও ঘনত্বের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং একটি আরেকটির নিয়ম ভঙ্গ করে না।

 

যেখানে ভূমধ্যসাগরীয় জল আটলান্টিক মহাসাগরের সাথে মিলিত হয় সেখানে এহেন অবস্থা পরিলক্ষিত হয়। যখন সমুদ্রের মোহনায় মিষ্ট জল এবং লবণাক্ত জল মিলিত হয় তখনও এটা সত্য প্রমাণিত হয়। এই অন্তরালের কথা পবিত্র কুরআনে উল্লেখ হয়েছে প্রায় ১৪০০ বছর পূর্বে।

 

“তিনি দুই সমুদ্রকে প্রবাহিত করেন যারা পরস্পর মিলিত হয়। এ দুইয়ের মাঝে রয়েছে এক অন্তরাল যা তারা অতিক্রম করতে পারে না”। [সূরা রহমান ৫৫:১৯-২০]

 

 “তিনিই দুই সমুদ্রকে মিলিতভাবে প্রবাহিত করেছেন, একটি মিষ্টি ও সুপেয় এবং অপরটি লবণাক্ত ও বিস্বাদ আর তিনি উভয়ের মাঝে স্থাপিত করেছেন এক অন্তরাল, এক শক্ত ব্যবধান”। [সূরা ফুরকান ২৫: ৫৩]

 

মজার বিষয় হলো, উপমহাসাগরের মুক্তা আহরোনকারীগণ এই প্রাকৃতিক পরিবেশ সম্পর্কে জ্ঞাত। আরব উপমহাসাগরের লবণাক্ত জলে রয়েছে মিষ্টি জলের ঝরনা যা সমুদ্র স্তরের প্রায় চার থেকে ছয় মিটার নিচে অবস্থান করে।

 

সমুদ্রে মুক্তা আহরোণকারীগণ মাসের পর মাস এই ঝরনাগুলির সাথে প্রায় মিলিত হয়। সেখানে তারা সুপেয় জল দিয়ে তাদের গুদাম পূরণ করার জন্য ডুব দেয়। এমনই একটি ঝরনা হলো “আইন ইগমিসা”। এটি সৌদি আরবের জুবায়েল শহরের উত্তর-পূর্বে অবস্থিত।

 

জলচক্র

মেঘ নিয়ে আধুনিক গবেষণার পর বৈজ্ঞানিকগণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, বিশেষ পদ্ধতিতে মেঘ হতে বৃষ্টি তৈরি হয়। এর একটি উদাহরণ স্তূপমেঘ এবং নিম্নোলিখিত পদক্ষেপে ওদের বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি ও বজ্র উৎপাদন :

বাতাস ছোটো মেঘের ঘনঘটাগুলিকে ঠেলে এমন একটি এলাকায় নিয়ে যায় যেখানে তারা বৃহত্তর স্তূপমেঘে পরিণত হওয়ার জন্য একত্রিত হতে শুরু করে। অতঃপর তারা একে অপরের উপর স্তূপীকৃত হয় যেখানে বৃহত্তর মেঘমালার মধ্যে থাকা তুষার কণাগুলি তৈরি করে উল্লম্বাকৃতি স্তর। ওই মেঘ ছড়িয়ে পড়ে অপেক্ষাকৃত ঠাণ্ডা জলবায়ুর মধ্যে যা থেকে তৈরি হয় জলকণা এবং ধারণ করে পরিষ্কার আকার এবং বৃহৎ হতে বৃহত্তর হতে শুরু করে। পরিশেষে যখন একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে তারা পৌঁছে যায় তখন ভূপৃষ্ঠে বর্ষিত হয়।

 

কুরআন বলছে : “আল্লাহ্‌ ওই সত্তা যিনি বায়ু প্রেরণ করেন, ফলে এটা মেঘমালাকে সঞ্চালিত করে; অতঃপর তিনি এটাকে যেমন ইচ্ছা আকাশে ছড়িয়ে দেন, পরে একে খণ্ড-বিখণ্ড করেন এবং তুমি দেখতে পাও তা হতে নির্গত হয় জলধারা। অতঃপর যখন তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাদের নিকট ইচ্ছা এটা পৌঁছে দেন তখন তারা হয় প্রফুল্ল”। [সূরা রূম ৩০:৪৮]

 

তিনি আরও বলেন : তুমি কি দেখো না যে, আল্লাহ্‌ আকাশ হতে পানি বর্ষণ করেন অতঃপর ভূমিতে প্রস্রবণরূপে প্রবাহিত করেন; এবং তা দ্বারা বিভিন্ন বর্ণের ফসল উৎপন্ন হয়”।[সূরা যুমার ৩৯:২১]

 

কুরআনের বাচনিক অলৌকিকতা

কুরআন এমন এক সময় অবতীর্ণ হয়েছিল যখন কাব্যাকাশে দীপ্তিমান ছিলেন অজস্র প্রতিভাবান কবি, যাঁরা তাঁদের অলংকারপূর্ণ কাব্যিক ভাষায় মানুষকে মুগ্ধ করত। তাঁদের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতো প্রতিযোগিতার সভা, আরবি ভাষা বিরাজিত ছিল অলংকারের সর্বোচ্চ শিখরে।

 

মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ৪০ বছর বয়সে নবুওয়াতপ্রাপ্ত হন। সেই যাবৎ তিনি কোনো আরবি কবির সংস্পর্শে অবস্থান করেননি। কিন্তু তাঁর প্রতি যে বাণী প্রত্যাদিষ্ট হয়েছিল তার ভাষা ছিল অতুলনীয়ভাবে উৎকৃষ্ট, বিস্ময়কর ও ছন্দময়। এমন ভাষা ইতিপূর্বে কেউ শুনেনি।

 

যারা কুরআনে সন্দেহপোষণ করেছিল তাদের সামনে আল্লাহ্‌ তাআলা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন, কারো ক্ষমতা থাকলে একটি ছোট্টো সূরাই তৈরি করে দেখাক যার মধ্যে থাকবে কুরআনে সৌন্দর্য, মাধুর্য, অলংকার, সাবলীলতা, বাকবিন্যাস, সঠিক শব্দচয়ন, সত্য তথ্য ও সার্বজনীন বিধিনিষেধ। এই চ্যালেঞ্জ কখনো কেউ গ্রহণ করতে পারেনি, তখনো না, আজও না।

 

আল্লাহ্‌ তাআলা কুরআনের মধ্যে বলছেন : “তারা কি কুরআন নিয়ে গবেষণা করে না ? যদি তা আল্লাহ্‌ ব্যতীত অন্য কারো নিকট হতে হতো তাহলে তারা ওতে বহু গরমিল পেত”। [সূরা নিসা ৪:৮২]

 

 “এবং আমি আমার বান্দা (নবি মুহাম্মাদ)-র প্রতি যা অবতীর্ণ করেছি যদি তাতে তোমরা সন্দেহপোষণ করো তাহলে তৎসদৃশ একটি সূরা তৈরি করে নিয়ে এসো এবং আল্লাহ্‌ ব্যতীত তোমাদের সাহায্যকারীদেরও ডেকে নাও যদি তোমরা সত্যবাদী হও। অনন্তর যদি তোমরা করতে না পার, আর তোমরা তা করতে পারবেও না, তাহলে ওই অগ্নিকুণ্ডকে ভয় করো যার ইন্ধন হবে মানুষ ও প্রস্তরপুঞ্জ যা অবিশ্বাসীদের জন্য প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে”। [সূরা বাকারা ২:২৩-২৪]

 

“সুতরাং যখন কুরআন পাঠ করা হবে তখন তোমরা তা মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করো, হতে পারে তোমরা অনুগ্রহপ্রাপ্ত হবে”।[সূরা আ’রাফ ৭:২০৪]

 

“এ এক কল্যাণময় গ্রন্থ যা আমি তোমার উপর অবতীর্ণ করেছি যেন মানুষ এর আয়াতসমূহ অনুধাবন করে এবং বোধসম্পন্ন ব্যক্তিরা উপদেশ গ্রহণ করে”। [সূরা স্বাদ ৩৮:২৯] [১]

 

প্রিফ্রন্টাল করটেক্স

খুব আকর্ষণীয়ভাবে উল্লেখযোগ্য যে, ১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দে বিজ্ঞানীগণ মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের অবস্থা ও কার্যাবলি আবিষ্কার করতে আরম্ভ করেন। তন্মধ্যে একটি অংশ সম্মুখভাগে অবস্থিত, যাকে প্রিফ্রন্টাল করটেক্স বলে। বিজ্ঞানীগণ আবিষ্কার করেছেন : মস্তিষ্কের এই অংশ পরিকল্পনা তৈরি এবং সদাচরণ ও অসদাচরণ করতে ব্যবহৃত হয়। অনুরূপ এর সংযোগ রয়েছে সত্য ও মিথ্যাচারিতার সঙ্গেও।

 

১৪০০ বছর পূর্বে আল্লাহ্‌ তাআলা আমাদেরকে এ বিষয়ে অবগত করতে চেয়েছেন। নিম্নোক্ত আয়াত হতে অভিব্যক্ত হয় যে, আল্লাহ্‌ তাআলা মাথার সম্মুখভাগ বা কেশগুচ্ছ ধরে মানুষকে নিয়ে যাবেন :

“সাবধান ! সে যদি বিরত না হয় তাহলে আমি তাকে অবশ্যই হেঁচড়িয়ে নিয়ে যাব মস্তকের সম্মুখ ভাগের কেশগুচ্ছ ধরে; মিথ্যাবাদী, পাপিষ্ঠ সম্মুখের কেশগুচ্ছ ওয়ালা”। [সূরা আলাক্ব ৯৬:১৫-১৬]

 

এছাড়া কুরআনের অসংখ্য অলৌকিকতা বিদ্যমান। শতাধিক অলৌকিকতার কথা পবিত্র কুরআনে উল্লেখ আছে। [২]

 

তথ্যসূত্র

[১] http://www.fanar.gov.qa/Understand/miracles.html

[২] http://www.missionislam.com/science/book.htm

747 Views
Correct us or Correct yourself
.
Comments
Top of page