কা’বা


কা’বা শব্দের আক্ষরিক অর্থ সম্মানিত ও মর্যাদাসম্পন্ন উঁচু স্থান। এও হতে পারে, কা’বা শব্দটি এমন একটি শব্দের ব্যুৎপত্তি যার অর্থ একটি ঘনক। এর অন্যান্য নামসমূহ :

(১) বায়তুল আতিক্ব – এর একটি অর্থ পূর্ববর্তী ও প্রাচীন। এর অন্য একটি অর্থ স্বাধীন ও স্বতন্ত্র। দুটি অর্থই নেওয়া যেতে পারে।

(২) বায়তুল হারাম – সম্মানজনক গৃহ। [১]

 

বিষয়সূচি

 

অবস্থান

সৌদি আরবের মক্কা নগরিতে অবস্থিত মাসজিদে হারামের মধ্যস্থানে কা’বা অবস্থিত। [২]

 

ইতিহাস

আদম (আ.)-এর কালেই কা’বা শরিফ নির্মাণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে এর পুনর্নির্মাণ হয়েছিল ইব্রাহিম (আ.)-এর কালে স্বয়ং ইব্রাহিম এবং তাঁর তনয় ইসমাইল (আ.)-এর হাতে।

পরবর্তীতে আবার এর নির্মাণ হয়েছিল নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে যখন তাঁর বয়স ছিল ৩৫ বছর। (আর-রাহিকুল মাখতুম, পৃ. ৬৩,৬৪)

 

চতুষ্কোণ

  • হাজরে আসওয়াদ
  • রুকনে ইরাকি
  • রুকনে শামি
  • রুকনে ইয়ামানি

 

হাজরে আসওয়াদ

হাজরে আসওয়াদ কা’বা শরিফের এক কোণে স্থাপন করেছিলেন। মক্কাবাসীগণ কা’বা নির্মাণ করেন। হাজরে আসওয়াদ স্থাপন করার সময় তাদের মধ্যে মতভেদ দেখা দেয়। সেসময় বর্ষীয়ান নেতা আবু উমাইয়া বিন মুগিরাহ্‌ একটি প্রস্তাব দেন যা সকলের নিকট গৃহীত হয়। তিনি বললেন : আগামীকাল সর্বপ্রথম যে মসজিদুল হারামে প্রবেশ করবেন তাঁর উপরেই এই বিবাদ মীমাংসার দায়িত্ব অর্পণ করা হোক। পরের দিন সর্বপ্রথম মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রবেশ করতে দেখে সকলেই সমস্বরে বলে উঠল : আল-আমিন (বিশ্বাসী) এসে গেছেন, আমরা তাঁর সিদ্ধান্তের উপর সন্তুষ্ট। (আর-রাহিকুল মাখতুম : ৬৩,৬৪)

 

ক্বিবলা

সূরা বাকারার ১৪৪নং আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর বায়তুল মাকদিস হতে কা’বার দিকে ক্বিবলা পরিবর্তিত হয়। আয়াতটির অর্থ : “নিশ্চয়ই আমি বারবার তোমাকে আকাশের দিকে তোমার মুখমণ্ডল উত্তোলন করতে দেখি। অবশ্যই আমি তোমাকে ওই ক্বিবলা মুখী করে দেব যাকে তুমি পছন্দ করো। এখন তুমি মসজিদুল হারামের দিকে মুখ করো। এবং তোমরা যেখানেই আছ সেখানেই সেদিকে মুখ ঘুরাও। নিশ্চয়ই আহলে কিতাবরা অবগত আছে যে, এটা তাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে সত্য এবং তারা যা করে সেবিষয়ে তিনি অমনযোগী নয়”। [সূরা বাকারা ২:১৪৪]  [৩]

 

হাদিস

বারা ইবনে আযিব হতে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ১৬ কিংবা ১৭ মাস বায়তুল মাকদিসের দিকে মুখ করে সালাত প্রতিষ্ঠা করেছেন, কিন্তু তিনি চাইতেন কা’বার দিকে মুখ করে সালাত আদায় করতে, অতঃপর আল্লাহ্‌ তাআলা অবতীর্ণ করেন : “নিশ্চয়ই আমি বারবার তোমাকে আকাশের দিকে তোমার মুখমণ্ডল উত্তোলন করতে দেখি”। [সূরা বাকারা ২:১৪৪] ফলে নবি (স.) কা’বার দিকে মুখ করলেন এবং কিছু মুর্খ ইহুদি বলতে লাগল : “কী জিনিস তোমাদেরকে তাদের ক্বিবলা (বায়তুল মাকদিস) হতে বিমুখ করল যার দিকে প্রথমে তোমরা মুখ করতে ?” আল্লাহ্‌ তাআলা অবতীর্ণ করছেন : “পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহ্‌রই জন্য, তিনি যাকে চান সরল পথ প্রদর্শন করেন”। [সূরা বাকারা ২:১৪২] জনৈক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে স্বালাত আদায় করছিলেন। তিনি বাইরে গেলেন। তিনি দেখলেন কতিপয় আনসার বায়তুল মাকদিসের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করছেন। তিনি বললেন : আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি কা’বামুখী হয়ে রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে আদায় করলাম। একথা শোনে সকলেই কা’বার দিকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন”। (সহি বুখারি ১/ ৩৯২) [৪]

 

তথ্যসূত্র

[১] http://www.missionislam.com/knowledge/kaaba.htm

[২] http://www.missionislam.com/knowledge/kaaba.htm

[৩] http://www.askislampedia.com/Quran

[৪] http://tsmufortruth.wordpress.com/2011/09/14/hadith-of-the-day-251/

399 Views
Correct us or Correct yourself
.
Comments
Top of page