উসূলে সালাসা বা ইসলামের তিনটি মূলনীতি


উসূলে সালাসা হলো ইসলামের তিনটি মূলনীতি। ইসলাম প্রতিষ্ঠিত র‌্য়েছে ওই সমস্ত বিষয়ের উপর যার নির্দেশ মহান আল্লাহ দিয়েছেন এবং যা তাঁর প্রিয়নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম তাঁর সুন্নাতের মাধ্যেমে অভিব্যক্ত করেছেন, যেমনকি তাঁর সাহাবাবর্গ বুঝেছেন এবং কর্মে বাস্তবরূপ দিয়েছেন। একটি বিখ্যাত হাদিসে নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম তিনটি প্রশ্নের বিবরণ দিয়েছেন, যে তিনটি প্রশ্ন মুসলিম ও অমুসলিম নির্বিশেষে প্রত্যেক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করা হবে।   

 

বিষয়সূচি

 

কুরআন

কবরে শাস্তির বিষয়টি কুরআন হতেও প্রমাণিত আছে। যেমন সূরা গাফিরে উল্লেখ রয়েছে, আল্লাহ্‌ তাআলা বলছেন : “অগ্নি-সম্মুখে তাদেরকে সকাল-সন্ধা উপস্থিত করা হবে এবং যেদিন কিয়ামত প্রতিষ্ঠিত হবে, সেদিন বলা হবে যে, ফিরাউনের সম্প্রদায়কে কঠিন শাস্তিতে নিক্ষেপ করো”। [সূরা গাফির ৪০:৪৬]

 

“তুমি যদি ওই অবস্থা দেখতে যখন ফেরেশ্তাগণ কাফিরদের রূহ কবজ করার সময় তাদের মুখমণ্ডল ও পৃষ্ঠদেশে আঘাত হানেন এবং বলেন যে, তোমরা প্রজ্জ্বলিত জাহান্নামের শাস্তি আস্বাদন করো”।[সূরা আনফাল ৮:৫০]

 

হাদিস

আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রসুলূল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম কবরের আযাব, জাহান্নামের আযাব এবং দাজ্জালের ফিতনা হতে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। (সহি মুসলিম : ১২২০ ও ১২২৪)       

 

পরকালের প্রথম সোপান

যখন আদম-সন্তান মৃত্যুবরণ করে, আত্মা তার শরীর হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং তাকে কবরে রেখে দেয়া হয় তখন সে পরকালের প্রথম সোপানে পদার্পণ করে, কেননা কবর হচ্ছে পরকালের সর্বপ্রথম সোপান।

 

যখনই উসমান (রাঃ) কবরের পার্শ্বে দাঁড়াতেন তখন তিনি কাঁদতেন, এমনকি তাঁর দাড়ি সিক্ত হয়ে যেত। তাঁকে বলা হয়েছিল : “তুমি জান্নাত ও জাহান্নামের কথা স্মরণ করার সময় কাঁদছ না, কিন্তু এর জন্য কাঁদছ ?” তিনি বলেছিলেন : “রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : “কবর হচ্ছে পরকালের প্রথম সোপান, যে কেউ এতে নিরাপদে থাকবে তার জন্য এর পরবর্তী সবকিছু সহজ হয়ে যাবে; কিন্তু সে যদি এতে নিরাপদ না থাকে তাহলে পরবর্তী স্তরগুলি তার জন্য আরও কঠিন হবে”। রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন : “কবর অপেক্ষা অধিক ভয়ঙ্কর আর কোনো দৃশ্য আমি দেখিনি”। (তিরমিযি : ২৩০৮; ইবনে মাজাহ্‌ : ৪৫৬৭; আলবানি হাদিসটিকে সহি বলেছেন, দেখুন : সহি জামি’ : ১৬৮৪)।

 

তিনটি প্রশ্ন

মুনকার ও নাকির নামে দুজন ফেরেশ্তা রয়েছেন। তাঁদেরকে কবরে জিজ্ঞাসাবাদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। মৃত্যুর পূর্বে পৃথিবীতে কবরবাসীর কীরূপ ঈমান ছিল, সেবিষয়ে তাঁরা তাকে জিজ্ঞাসা করবেন। তাকে তিনটি প্রশ্ন করা হবে। এই তিনটি প্রশ্ন ‘কবরের তিন প্রশ্ন’ নামে সুবিদিত। প্রশ্নগুলি হলো :  

তোমার রব কে ?

তোমার দ্বীন কী ?

তোমার নবি কে ?

যদি সে এই তিনটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেয় তাহলে তো ভালো; কিন্তু সে যদি সেগুলোর উত্তর না দিতে পারে তাহলে তাঁরা তাকে কঠিন ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দেবেন।

 

প্রথম : আল্লাহর বিষয়ে জ্ঞান

আল্লাহ্‌ তাআলার অস্তিত্ব, তাঁর নাম ও গুণাবলি এবং তাঁর কার্যক্রম সম্পর্কে জ্ঞান রাখা প্রত্যেক নর ও নারী মুসলমানের জন্য অত্যাবশ্যক। এও জানা জরুরি যে, “আল্লাহর সদৃশ কিছু নেই, আর তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা”।[সূরা শুআরা ৪২:১১]

 

প্রত্যেক বান্দার জন্য এ জ্ঞান রাখা অত্যাবশ্যক যে, আল্লাহ্‌ তাআলা তার স্রষ্টা, জীবিকাদাতা, তার কার্যক্রমের নিয়ন্তা। বরং সারা বিশ্বের তিনি নিয়ন্তা।

 

তিনিই এর উপযুক্ত। তাই কেবল তাঁরই ইবাদত করতে হবে এবং তাতে তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক করা যাবে না। আর যদি কোনো ইবাদত-কার্য আল্লাহ্‌ ব্যতীত অন্যকিছুর জন্য করা হয় তাহলে সেটা হবে ইবাদত-কার্যের বিনাশক।

 

তাছাড়া বান্দাকে এ বিশ্বাস রাখতে হবে যে, তাঁর সুন্দর সুন্দর নাম ও মর্যাদাপূর্ণ গুণাবলি রয়েছে, যেগুলো আল্লাহ্‌ তাআলার মহাগ্রন্থ কুরআনে এবং তাঁর রসূলের সুন্নাতে উল্লেখ হয়েছে। প্রত্যেক মুসলমান আল্লাহ্‌ সম্পর্কে যে জ্ঞান ও বিশ্বাস রাখবে, সেটা যেন তাওহিদের ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত হয়।

 

দ্বিতীয় : ইসলাম ধর্ম তথা এর প্রমাণাদির জ্ঞান

এটি একটি বিস্তীর্ণ বিষয়, কারণ ইসলাম ধর্মের যাবতীয় বিষয় এর অন্তর্ভুক্ত, সেগুলোর সম্পর্ক কথা-কর্মের সঙ্গে বাহ্যিক হোক বা আভ্যান্তরীণ। দায়িত্ব, আনুগত্য, নিষেধাজ্ঞা এবং শরিয়তের অন্যান্য সমস্ত বিষয় এর অন্তর্ভুক্ত, যেগুলো আল্লাহ্‌ তাআলা মানবজাতি তথা জিনজাতির উপর অর্পণ করেছেন। একারণেই আল্লাহ তাআলা স্বীয় অধিকার সম্পর্কে বলছেন : “নিশ্চয়ই ইসলামই আল্লাহর একমাত্র মনোনীত ধর্ম”। [সূরা আল-ইমরান ৩:১৯]

 

এর অর্থ এ নয় যে, প্রত্যেক মুসলামনকে শরিয়তের বিভিন্ন বিধি-বিধান ও ফিকহ-শাস্ত্রের গভীর জ্ঞান রাখতে হবে। না, বরং এর অর্থ, প্রত্যেক মুসলমানকে ইসলামের মৌলিক বিষয়সমূহের জ্ঞান রাখতেই হবে।

তার জন্য এ জ্ঞান রাখা আবশ্যিক যে, তাওহিদ কী, তাওহিদ কত প্রকার, ইসলামের অর্থ কী, এর স্তম্ভগুলি কীকী; ঈমান কী, এর স্তম্ভগুলি কীকী এবং এগুলোর প্রমাণ কী। তাকে জানতেই হবে বিভিন্ন ইবাদতের শর্ত এবং বিনাশকসমূহ সম্পর্কে, যেমন স্বালাত, সিয়াম ইত্যাদি এবং বিশুদ্ধরূপে সেগুলো পালন করার নিয়ম।

আল্লাহ্‌ তাআলা এই তত্ত্ব দিয়েছেন যে, যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো ধর্মের নিয়মানুযায়ী আল্লাহর ইবাদত করতে চাই, তার ইবাদত বাতিল হবে এবং কথাবার্তা হবে প্রত্যাখ্যাত। তাইতো আল্লাহ্‌ তাআলা বলছেন : “আর যে কেউ ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো দ্বীন অন্বেষণ করবে, কখনোই তা গ্রহনীয় হবে না এবং পরকালে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে”।[সূরা আল-ইমরান ৩:৮৫]

অতএব, মুসলমানের জন্য তার ধর্মের বিষয়ে জ্ঞান রাখা জরুরি। শুধুমাত্র নামে মুসলমান হওয়া যথেষ্ট নয়।

 

তৃতীয় : নবিদের বিষয়ে জ্ঞান

নবি এবং নবি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিয়ে আসা প্রত্যাদেশের বিষয়ে জ্ঞান রাখা প্রত্যেকের জন্য বাধ্যতামূলক। এ বিষয়ে কারো অজ্ঞানতার অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়।

তাদের মধ্যে কোনো নর-নারী মুসলমানের জন্য কেবল এ কথা বলা যথেষ্ট নয় যে, আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে জানি, তিনি হলেন আব্দুল্লাহর তনয় মুহাম্মাদ। এটাই যথেষ্ট নয়। বরং একজন মানুষকে এটাও জানতে হবে যে, তিনি আল্লাহ্‌ তাআলা কর্তৃক প্রেরিত। আল্লাহ্‌ তাআলা তাঁর প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছিলেন এবং এর ব্যাখ্যা করার নির্দেশ প্রদান করেছিলেন। তাঁকে নির্দেশ দিয়েছিলেন সুদৃঢ়ভাবে এই কিতাব এবং তাঁর নিয়ে আসা পবিত্র সুন্নাতকে ধারণ করার প্রতি উম্মতকে আহ্বান করার। সুতরাং নবি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের ব্যাপারে জ্ঞানের বিষয়টি নিম্নোক্ত কয়েকটি পয়েন্টে উল্লেখ করা যেতে পারে :

১। তাঁকে একজন মানুষ হিসেবে জানতে হবে। তিনি কে, তিনি কোথা থেকে এসেছিলেন, কীভাবে তিনি তাঁর জীবন কাটিয়ে ছিলেন, এসব কথা জানা মুসলমানদের একান্ত কর্তব্য।

২। তাঁকে ভালোবাসতে হবে নিজের সত্তা, নিজের ধন-সম্পদ, পিতামাতা এবং সন্তান-সন্ততি থেকেও বেশি।

৩। নবি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম যে প্রত্যাদেশ নিয়ে আগমন করেছিলেন, তাকে সাধারণভাবে তথা বিশেষভাবে ভালোবাসতে হবে।

৪। আল্লাহ্‌ তাআলার অনুকম্পার আশায় এবং তাঁর শাস্তির ভয়ে সেগুলোর উপর আমল করতে হবে।

অতএব, রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের জ্ঞান বলতে বোঝায় যে, তাঁর জীবনচরিত, তাঁর নিয়ে আসা কিতাব এবং তাঁর শেখানো সুন্নাতের মৌলিক বোধ মুসলমানকে রাখতে হবে।

 

উলামাদের অভিমত

ইবনে কাইয়িম (রহঃ) বলেন : শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহঃ)-কে এবিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি যে উত্তরটি দিয়েছিলেন, এখানে আমরা তা উল্লেখ করছি : “নিশ্চয়ই শাস্তি ও অনুকম্পা আত্মা এবং শরীর উভয়ের উপর আপতিত হয়, এর প্রতি আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের ঐক্যমত রয়েছে। আত্মা শরীর হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে অনুগ্রহ বা শাস্তিপ্রাপ্ত হয়; অনুরূপ শরীরের সঙ্গে সংযুক্ত থেকেও অনুগ্রহ বা শাস্তিপ্রাপ্ত হয়। শরীর এর সঙ্গে সংযুক্ত থাকলে অনুকম্পা বা শাস্তি উভয়ের উপর আপতিত হয়। আর দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন থেকেও তা অনুকম্পা বা শাস্তিপ্রাপ্ত হতে পারে।

এই  উম্মতের সালাফ ও ইমামদের দৃষ্টিকোণ হলো যে, মানুষ মৃত্যুবরণ করার পর অনুকম্পা কিংবা যন্ত্রণার মধ্যে থাকে। আর সেটা ঘটে তার আত্মার উপর এবং তার দেহের উপর। দেহ থেকে আত্মা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর শাস্তি বা অনুকম্পা আত্মার উপর আসে। অনেক সময় আত্মা দেহের সংস্পর্শে আসে, সেসময় শাস্তি বা অনুগ্রহ উভয়ের উপরই আসে। পুনরুত্থান দিবসে আত্মাকে দেহের মধ্যে ফিরিয়ে দেয়া হবে এবং তারা বিশ্বের প্রতিপালকের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য কবর হতে উত্থিত হবে। শারীরিক পুনরুত্থান এমনই একটি বিষয়, যাতে মুসলমান, ইহুদি ও খ্রিষ্টান সকলেই একমত।

 

নবাবি (রহঃ) বলেন : “যদি বলা হয়, আমরা মৃতব্যক্তিকে দেখি এবং কবরে সে কীভাবে আছে সেটাও দেখি, তবে কীভাবে প্রশ্ন করা যেতে পারে, কীভাবে বসানো হয় এবং কীভাবে তাকে লোহার বাড়ি মারা হয় অথচ তার শরীরে কোনো দাগ থাকে না ? উত্তর হলো : এটা অসম্ভব কিছু নয়। এরকম ঘটনা তো আমাদের প্রাত্যহিক জীবনেও ঘটে। একজন ঘুমন্ত মানুষ স্বপ্নের মধ্যে আনন্দ বা কষ্ট অনুভব করে, কিন্তু আমরা কিছুই বুঝতে পারি না। একজন জাগ্রত মানুষও কিছু শোনে বা ভেবে কষ্ট বা আনন্দ অনুভব করে, কিন্তু তার পার্শ্বে বসে থাকা লোকজন সেরকম কিছু বুঝতে পারে না। জিব্রিল (আঃ) রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলায়হিও ওয়া সাল্লামের নিকট আসতেন এবং তাঁর প্রতি অহি অবতীর্ণ করতেন, কিন্তু সেখানে উপস্থিত মানুষজন কিছুই জানতে পারতেন ন। এসবই পরিষ্কার ও স্পষ্ট”। (সহি মুসলিম, ১৭/২০১)  

 

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) বলছেন : ঘুমের অবস্থায় একজন মানুষ আনন্দ বা যন্ত্রণা বোধ করতে পারে আর সেটা তার আত্মা ও দেহের উপর ঘটে। সে স্বপ্ন দেখতে পারে যে, কেউ তাকে মারছে এবং সে তার শরীরে ব্যথা নিয়ে জাগ্রত হয়। অথবা সে স্বপ্ন দেখতে পারে যে, তাকে কিছু সুন্দর খাবার খাওয়ানো হচ্ছে আর সে মুখে খাবার নিয়ে জাগ্রত হয়। এধরনের ঘটনা বাস্তবে ঘটে। যদি একজন ঘুমন্ত ব্যক্তির শরীর ও আত্মা আনন্দ ও কষ্ট অনুভব করতে পারে অথচ তার পার্শ্বে বসে থাকা লোক তা বুঝতে পারে না এবং সে তার উপর যে যন্ত্রণা বা ভীতি কাজ করে, তার তীব্রতার জন্য চিৎকার করে উঠতে পারে অথচ জাগ্রত ব্যক্তি তা শুনতে পায় না। সে কথা বলতে পারে, কুরআন পাঠ করতে পারে বা যিকর করতে পারে অথবা কারো সাথে আলাপ করতে পারে আর জেগে থাকা মানুষজন তা শুনতেও পারে, অথচ সে চোখ বন্ধ করে ঘুমিয়ে থাকে। তারা তার সঙ্গে যে কথা বলে সে তা শুনতে পায় না। তাহলে কবরে সমাধিস্থ ব্যক্তির কিছু অনুভব করার বিষয়টি আমরা কীভাবে অস্বীকার করতে পারি ? অথচ রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম আমাদের বলেছেন : “সে তাদের পদাচরণের শব্দ শুনতে পায়”।

আমরা এটা বলতে পারি না যে, মৃত ব্যক্তি যে শান্তি বা যন্ত্রণা অনুভব করে তা স্বপ্নের মধ্যে ঘুমন্ত ব্যক্তির অনুভূতির ন্যায়। বরং সেই শান্তি অধিক আনন্দময় বা সেই শাস্তি অধিক ভয়াবহ। এটি একটি বাস্তব পুরস্কার এবং একটি বাস্তব শাস্তি। কিন্তু এটা যে সম্ভব, তা দেখানোর উদ্দেশ্যেই এই উদাহরণটি দেয়া হয়। যদি কেউ বলে কবরে মৃত ব্যক্তি নড়তে পারে না এবং মাটির মধ্যে কোনো পরিবর্তন আসে না ইত্যাদি, তাহলে বিষয়টি আরও বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা সম্ভব, কিন্তু এখানে ব্যাখ্যা করলে আলোচনা দীর্ঘায়িত হয়ে যাবে। আর আল্লাহ্‌ তাআলা বেশি জানেন। আল্লাহ্‌ তাআলা আমাদের নবি সাল্লাল্ললাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের প্রতি, তাঁর পরিবারবর্গ এবং সাহাবাবর্গের প্রতি শান্তি বর্ষিত করুন। (মাজ্‌মুউল ফাতাওয়া, ৪/২৭৫,২৭৬)

 

কবরের আযাব হতে পরিত্রাণপ্রাপ্তির দুআ

আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্ললাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলতেন : “اللهم إني أعوذ بك من الكسل والهرم والمغرم والمأثم اللهم إني أعوذ بك من عذاب النار وفتنة النار وفتنة القبر وعذاب القبر وشر فتنة الغنى وشر فتنة الفقر ومن شر فتنة المسيح الدجال اللهم اغسل خطاياي بماء الثلج والبرد ونق قلبي من الخطايا كما ينقى الثوب الأبيض من الدنس وباعد بيني وبين خطاياي كما باعدت بين المشرق والمغرب” অর্থাৎ (হে আল্লাহ ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি আলস্য, অতি বার্ধক্য, ঋণ এবং পাপ হতে। হে আল্লাহ ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি জাহান্নামের অগ্নিকুণ্ডের আযাব ও তার ফিতনা হতে, কবরের ফিতনা ও তার আযাব হতে, ধনাঢ্যের ফিতনার অনিষ্ট ও দারিদ্রের ফিতনার অনিষ্ট হতে, মাসিহ্‌ দাজ্জালের ফিতনার অনিষ্ট হতে। হে আল্লাহ্‌ ! তুমি আমার পাপসমূহকে বরফ ও শিশির-জল দ্বারা ধৌত করো এবং আমার হৃদয়কে পাপ হতে এমনভাবে পরিষ্কার করো যেমন সাদা কাপড় ময়লা হতে পরিষ্কার করা হয়। তুমি আমার এবং আমার পাপের মাঝে এতটা ব্যবধান সৃষ্টি করো যতটা ব্যবধান রেখেছ পশ্চিম ও পূর্বের মাঝে)। (সহি বুখারি : ৬০১৪)

 

ইবনে হাজার (রহঃ) বলছেন : “কবরের ফিতনা হতে” বাক্যাংশটির অর্থ : দুই ফেরেশ্তার প্রশ্ন।

 

আরও দেখুন

ইসলামে পরকালের অতুলনীয় ধারণা; মৃত্যোত্তর জীবন; জান্নাত; জাহান্নাম;  

 

তথ্যসূত্র

উসুলে সালাসা –শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব (রহঃ)

শারহু উসুলুস্‌ সালাসাহ্‌- শায়খ যায়দ ইবনে হাদি আল-মাদ্‌খালি (রহঃ)

419 Views
Correct us or Correct yourself
.
Comments
Top of page