ইসলামের দৃষ্টিতে সদাচরণ


ঈমানবা উপাসনারকোন্‌ স্তরে আপনি রয়েছেন সেদিকে বেশির ভাগ লোকইতাকায়না; বরং তারা আপনার আচরণের প্রতি লক্ষ রাখে। যদি আপনার আচরণ সৎ ও উত্তম হয় তাহলে মানুষ আপনার বিশ্বাস ও জ্ঞান থেকে লাভবানহবে এবং আপনার উপাসনার পদ্ধতি ও আচার-আচরণকে অনুকরণ করবে। আর আপনার সংকীর্ণ নৈতিকতার কারণে যদি আপনার আচার-আচরণ তাদেরকে আকৃষ্ট না করে তাহলে আপনি যতুই জ্ঞানের অধিকারী হোন না কেন সেদিকে তারা মনোযোগ দেবে না। সুতরাংসদাচরণ-প্রদর্শন হলো সকল মু’মিনের জন্য অনুজ্ঞাসূচক।

 

সদাচরণ অর্জনে যেসব জিনিস একজন মানুষকে সাহায্য করে তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আন্তরিক সংকল্পএবং কারো আচরণপরিবর্তনের পথে ধীর অভিগমন, ফলে ধীরে হলেও তারা নিশ্চয়ই পরিবর্তীত হবে। এর কারণ, ভালোআচরণেরসঙ্গে সরাসরিখারাপ আচরণ প্রতিস্থাপন করাঅসম্ভব। কিছু লোক মনে করে তারা সহজেই সদাচরণ অর্জন করতে পারে। কিন্তু এ এক নির্ঘাত সত্য যে, সততার জন্য চেষ্টা-সাধনা এবং আত্মসমালোচনা ব্যতিরেকে তারা কখনও তাদের আচরণ উন্নত করতে পারবে না। তাছাড়া, প্রত্যেকের চারপাশে এমন কিছু লোকের প্রয়োজন যারা তাদেরকে সত্যের পথ প্রদর্শন করবে এবং তাদের ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলি চিহ্নত করবে। 

 

বিষয়সূচি

 

কুরআন

কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে আল্লাহ্‌ তাআল সদাচরণ সম্পর্কে বিবরণ দিয়েছেন : “এটা আল্লাহ্‌ তাআলার অনুগ্রহ যে, তুমি তাদের প্রতি কোমলচিত্ত। তুমি যদি কর্কশভাষী ও কঠোরহৃদয় হতে তাহলে তারা তোমার সংসর্গ হতে দূরে সরে যেত। তাই তুমি তাদেরকে ক্ষমা করো, তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং কাজকর্মে তাদের সাথে পরামর্শ করো। অতঃপর যখন তুমি কোনো সংকল্প গ্রহণ করবে তখন আল্লাহ্‌র উপর ভরসা করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ তাঁর প্রতি নির্ভরশীলগণকে ভালোবাসেন”। [সূরা আল-ইমরান ৩:১৫৯]

 

“যারা স্বচ্ছলতা ও অভাবের মধ্যে ব্যয় করে, ক্রোধ সংবরণ করে এবং মানুষকে ক্ষমা করে; আর আল্লাহ্‌ সৎকর্মশীলদেরকে ভালোবাসেন”। [সূরা আল-ইমরান ৩:১৩৪]

 

 “তুমি ক্ষমাপরায়ণতার নীতি গ্রহণ করো, সৎকর্মের নির্দেশ প্রদান করো এবং অজ্ঞদের উপেক্ষা করো”। [সূরা আ’রাফ ৭:১৯৯]

 

 “আল্লাহ্‌ তাআলা অপ্রিয় বাক্য প্রকাশ করা পছন্দ করেন না, তবে এর ব্যতিক্রম কেবল ওই ব্যক্তি, যে অত্যাচারিত; আর আল্লাহ্‌ তাআলা সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী”। [সূরা নিসা ৪:১৪৮]

 

 “আমার বান্দাদেরকে বলো তারা যেন শুধু উত্তম কথা বলে; শয়তান তাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উস্কানি দেয়; নিশ্চয়ই শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু”। [সূরা বানি-ইসরাইল ১৭:৫৩]

 

 “আর যারা অসার ক্রিয়া-কলাপ হতে বিরত থাকে”। [সূরা মু’মিনুন ২৩:৩]

 

 “যখন তারা অসার কথা-বার্তা শোনে তখন তা তারা উপেক্ষা করে এবং বলে : আমাদের কর্মের ফল আমাদের জন্য এবং তোমাদের কর্মের ফল তোমাদের জন্য; তোমাদের প্রতি সালাম আর আমরা অজ্ঞাদের চাই না”। [সূরা ক্বসাস ২৮:৫৫]

 

হাদিস

নিঃসন্দেহে সদাচরণ অর্জন করা এবং শেখা সম্ভব। তবে তন্মধ্যে কিছু রয়েছে স্বভাবজাত আচরণ। স্বভাবজাত আচরণ বলতে বোঝায় ওই সমস্ত আচরণকে যেগুলোর সঙ্গে আল্লাহ্‌ তাআলা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তাদের সহজাত চরিত্রের অংশস্বরূপ। এর একটি উদাহরণ রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের এই বাণী যেটা তিনি তাঁর সাহাবিকে বলেছিলেন : “তোমার দুটি বৈশিষ্ট্যকে আল্লাহ্‌ তাআলা পছন্দ করেন, যথা : সহনশীলতা ও ধীরতা”। সাহাবি জিজ্ঞাসা করলেন : এগুলো কি আমি অর্জন করেছি নাকি আল্লাহ্‌ তাআলা আমার স্বভাবের মধ্যে এগুলো সৃষ্টি করেছেন” ? তিনি উত্তর দিলেন : “না, বরং আল্লাহ্‌ তাআলা তোমার স্বভাবধর্মের মধ্যে এগুলো সৃষ্টি করেছেন”। সাহাবিটি তারপর বললেন : “যাবতীয় প্রশংসা সেই আল্লাহ্‌র যিনি আমার স্বভাবের মধ্যে এমন দুটি গুণ সৃষ্টি করেছেন যেগুলোকে তিনি এবং তাঁর রসূল পছন্দ করেন”। (সুনানে আবুদাউদ : ৫২০৬)

 

ভালো দ্বারা মন্দের জবাব

আল্লাহ্‌ তাআলা কুরআনের মধ্যে উত্তম পথে জবাব দিতে বলেছেন : "আর যারা তাদের প্রতিপালকের সন্তুষ্টি অর্জনার্থে ধৈর্যধারণ করে, স্বালাত প্রতিষ্ঠা করে, আমি তাদেরকে যে জীবিকা দান করেছি তা হতে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে এবং ভালো দ্বারা মন্দ প্রতিহত করে তাদের জন্য রয়েছে শুভ পরিণাম”। [সূরা রা’দ ১৩:২২]

 

 “তুমি উত্তম দ্বারা মন্দ প্রতিহত করো; তারা যাকিছু বলে সে সম্বন্ধে আমি সবিশেষ অবহিত”। [সূরা মু’মিনুন ২৩:৯৬]

 

 “ভালো এবং মন্দ সমান হতে পারে না; উৎকৃষ্ট দ্বারা মন্দ প্রতিহত করো, ফলে যার সঙ্গে তোমার শত্রুতা আছে সে হয়ে যাবে তোমার অন্তরঙ্গ বন্ধুর মতো”। [সূরা ফুসসিলাত ৪১:৩৪]

 

 “তাদেরকে দুবার প্রতিদান প্রদান করা হবে, কারণ তারা ধৈর্যধারণ করেছে, তারা ভালো দ্বারা মন্দের মুকাবিলা করে এবং আমি তাদেরকে যা জীবিকা দান করেছি তা হতে তারা ব্যয় করে”। [সূরা ক্বাসাস ২৮:৫৪]

 

 “মন্দের প্রতিফল সমান পরিমাণ প্রতিফল; অনন্তর যে ব্যক্তি ক্ষমা করে দেয় এবং সংশোধন করে নেয়, তার প্রতিদান আল্লাহ্‌র নিকট আছে, আর আল্লাহ্‌ অত্যাচারীদের পছন্দ করেন না”। [সূরা শুরা ৪২:৪০]

 

সদাচরণ ও সচ্চরিত্র

ইসলাম একটি সুন্দর ধর্ম, প্রজ্ঞা ও সংহতির ধর্ম। যদি ঠিকভাবে এই অসাধারণ ধর্মটি পালন করা হয় তাহলে একজন সাধারণ মুসলমান একটি অনুসরণযোগ্য মহৎ আদর্শে পরিণত হবে।

 

আব্দুল্লাহ্‌ ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে : “রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম কখনও অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করেননি। তিনি না তো অশ্লীল বিষয় পছন্দ করতেন আর না অশ্লীলভাষী ছিলেন। তিনি বলতেন : “তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি যার চরিত্র ও আচার-আচরণ সর্বোত্তম”। (সহি বুখারি : ৪/৭৫৯)

 

মাশরুক বর্ণনা করছেন : আব্দুল্লাহ্‌ ইবনে উমার (রাঃ) বলেন : “তিনি না তো অশ্লীল বিষয় পছন্দ করতেন আর না অশ্লীলভাষী ছিলেন”। এরপর তিনি উল্লেখ করছেন যে, রসূলুল্লাহ্‌ (সঃ) বলেছেন : “তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি যার চরিত্র ও আচার-আচরণ সর্বোত্তম”। (সহি বুখারি : ৪/৫৬)

 

আল্লাহ্‌ তাআলা মুসলমানদেরকে অমুসলিমদের সঙ্গে দয়া ও নিষ্ঠাপূর্ণ ব্যবহার করার নির্দেশ দেন

“দ্বীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করেনি এবং স্বদেশ হতে তোমাদেরকে বহিষ্কার করেনি, তাদের সঙ্গে সদাচরণ এবং ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ্‌ তোমাদেরকে নিষেধ করেননি। আল্লাহ্‌ তো ন্যায়পরায়ণদেরকে ভালোবাসেন”। [সূরা মুমতাহিন ৬০:৮)

 

জারির বিন আব্দুল্লাহ্‌ বর্ণনা করছেন : রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : “যারা মানুষের প্রতি দয়া করে না আল্লাহ্‌ তাআলা তাদের প্রতি দয়া করেন না”। (সহি বুখারি, অধ্যায় : আল্লাহ্‌র একত্ববাদ, ৯/৪৭৩)

 

মুসলমানদের একান্ত কর্তব্য মুসলিম ও অমুসলিম নির্বিশেষে সকলের জন্য সুশীল, শিষ্টাচারসম্পন্ন, নম্র-ভদ্র, ধৈর্যশীল, সম্প্রীতিশীল, সদাচারী হওয়া। নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ তাআলা ওই সমস্ত লোককে ভালোবাসেন না যারা অন্যদের প্রতি অপ্রীতিকর ও অমার্জিত।

 

ইসলামের দৃষ্টিতে সালাম

আল্লাহ্‌ তাআলা পবিত্র কুরআনে আমাদেরকে নির্দেশ দেন যে, আমরা যেন একজন সালাম পরিবেশনকারীকে তার হতে শ্রেষ্ঠতর অথবা কমপক্ষে অনুরূপ সম্ভাষণ প্রত্যার্পণ করি। আমাদের উচিত উন্নত আচার-আচরণ গ্রহণ করা এবং সর্বদা উৎকৃষ্টতম দৃষ্টান্ত হয়ে থাকা।

 

 “যখন তোমরা শুভাশিষে সালাম ও অভিবাদন প্রাপ্ত হও, তখন তোমরা তা হতে শ্রেষ্ঠতর সম্ভাষণ করো অথবা অনুরূপ প্রত্যার্পণ করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ সর্ববিষয়ে হিসাব গ্রহণকারী”। [সূরা নিসা ৪:৮৬]

 

আমরা মুসলমানরা অনুগ্রহ করি এবং অভিবাদন প্রদান করি। আমরা সালাম ও অভিবাদন প্রাপ্ত হলে যথাসম্ভব তা হতে শ্রেষ্ঠতর অভিবাদন প্রদান করি, অথবা কমপক্ষে অনুরূপ শুভ সম্ভাষণ করি। কারণ আমরা সকলেই এক আল্লাহ্‌র সৃষ্টি এবং তাঁর সামনে আমরা সকলে একসঙ্গে সমবেত হব।

 

অতিথীর প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন

আবু শুরায়হ খুযাঈ (রাঃ) বর্ণনা করছেন : আমার কর্ণ শ্রবণ করেছে এবং আমার হৃদয় উপলব্ধি করেছে, রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : “অতিথীর আতিথেয়তার উর্ধ্বসীমা তিনদিন, সুতরাং তার পুরস্কার দিতে ভুলো না”। জিজ্ঞাসা করা হলো : তার পুরস্কার কী ? তিনি বললেন : “একদিন ও একরাত (অর্থাৎ তাকে যেন একরাত উন্নত খাবার খাওয়ায়)। যে কেউ আল্লাহ্‌ তাআলা এবং পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে সে যেন তার অতিথীর সেবা-যত্ন করে। যে কেউ আল্লাহ্‌ তাআলা এবং পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে সে যেন ভালো কথা বলে, অন্যথায় নীরব থাকে”। (সহি বুখারি : ৮/৪৮৩)

 

আব্দুল্লাহ্‌ ইবনে আম্‌র ইবনে আ’স (রাঃ) বর্ণনা করেন : “রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম একদা আমার নিকট এলেন”। অতঃপর তিনি পূর্ণ হদিসটি বর্ণনা করেন, অর্থাৎ তোমার উপর তোমার অতিথীর একটা অধিকার আছে এবং তোমার উপর তোমার স্ত্রীর একটা অধিকার আছে। তারপর আমি দাউদ (আঃ)-এর সওম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বললেন : “তোমাদের অর্ধেক”, (অর্থাৎ তিনি একদিন বাদ দিয়ে একদিন সওম রাখতেন)। (সহি বুখারি, অধ্যায় : সিয়াম, ৩/১৯৫)

 

অপরের সম্পত্তির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন

পরাক্রমশালী আল্লাহ্‌ তাআলা আমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন, আমরা যেন মানুষের সম্পত্তির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করি এবং অপরাধী না হই।

 

 “হে মু’মিনগণ ! তোমরা নিজেদের গৃহ ব্যতীত অন্য কারো গৃহে গৃহবাসীদের অনুমতি ছাড়া এবং তাদেরকে সালাম না করে প্রবেশ করো না; এটাই তোমাদের জন্য শ্রেয়, খুবই আশা করা যায় যে, তোমরা উপদেশ গ্রহন করবে। যদি গৃহে কাউকে না পাও তাহলে তাতে প্রবেশ করবে না যতক্ষণ না তোমাদেরকে অনুমতি দেয়া হয়। যদি তোমাদেরকে বলা হয় : ফিরে যাও, তাহলে তোমরা ফিরে যাবে। এটাই তোমাদের জন্য উত্তম; আর আল্লাহ্‌ তোমাদের কৃতকর্ম সম্বন্ধে সম্যক অবহিত”। [সূরা নূর ২৪: ২৭-২৮]

 

কল্যাণ ও পবিত্রতার একটি মার্জিত জীবনের জন্য নিজস্বতা ও উপযোগিতার সম্মিলন অত্যন্ত জরুরি। একজন ইংরেজের গৃহ হলো তার দূর্গ, একথা বলে একজন ইংরেজ নির্জনতা ও একাকীত্বের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণের প্রতি ইঙ্গিত করেন। শ্রদ্ধাপূর্ণ অনুমতি কামনা এবং সালাম বিনিময়ের ইসলামি নীতি একাকীত্ববিহীন নিজস্বতা এবং অযৌক্তিক ঘনিষ্টতাবিহীন বন্ধুত্বের বিষয়টিকে নিশ্চিত করে।

 

দেখুন, যদি কেউ উত্তর না দেয়, তাহলে হয়তো ঘরের লোকজন দর্শনীয় পরিস্থিতিতে নেই। অথবা ঘর যদি নির্জনও থাকে, তথাপি মালিক যেখানেই থাকুক না কেন তার অনুমতি না নিয়ে তাতে প্রবেশ করার কোনো অধিকার আপনার নেই। আপনি উত্তর পেলেন না, তার অর্থ এই নয় যে, আপনি অনুমতি ছাড়াই তাতে প্রবেশ করার অধিকার পেয়ে গেলেন। আপনার উচিত অপেক্ষা করা, কিংবা দুবার বা তিনবার করাঘাত করা এবং অনুমতি না পেলে ফিরে যাওয়া। আর যদি আপনাকে সত্যিসত্যিই ফিরে যেতে বলা হয়, আর যেহেতু গৃহবাসী আপনাকে আপ্যায়ন করার পরিস্থতিতে নেই, তাই আপনাকে তো আরও ফিরে যাওয়া উচিত, আর সেটা হবে কিছুক্ষণের জন্য অথবা সম্পূর্ণরূপে, কারণ গৃহবাসী হয়তো সেটাই চাই।

 

 “তারা তোমাকে নবোদিত চন্দ্রসমূহ সম্বন্ধে জিজ্ঞসা করছে। বলো : সেগুলো হচ্ছে জনসমাজের এবং হজ্জের জন্য সময় নিরুপক। আর তোমরা যে গৃহের পশ্চাৎদিক দিয়ে তাতে প্রবেশ করো, এটা পুণ্যময় কাজ নয়। বরং পুণ্যময় কাজ হলো যে, কোনো ব্যক্তি আল্লাহ্‌ভীরু হয়। তোমরা গৃহে প্রবেশ করো তার দরজা দিয়ে এবং আল্লাহকে ভয় করো, অবশ্যই তোমরা সফলকাম হবে”। [সূরা বাকারা ২:১৮৯]

 

এই আয়াত অনুযায়ী, মুসলমানদেরকে কারো নিকট পেছন উঠান বা পেছন দরজা দিয়ে চুপেচুপে সমাগত হওয়ার অনুমতি দেয়া হয়নি। কারণ পেছন দরজা ও পেছন উঠান থাকে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য, জনসাধারণের জন্য নয়। তাই পশ্চাৎদিক হতে কারো গৃহে প্রবেশ করা কোনো মুসলমানের জন্য সমীচীন হবে না; কেননা সেসময় এটা হবে কারো নিজস্বতার প্রতি এক ধরনের আক্রমণ এবং অশিষ্টাচার ও অসভ্যতা। যারা ইচ্ছাকৃতভাবে এই আইনটি লঙ্ঘন করে তারা পরাক্রমশালী আল্লাহ্‌ কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত হবে, কারণ আল্লাহ্‌ তাআলা বলেছেন : “আল্লাহকে ভয় করাই হলো তোমাদের জন্য পুণ্যময় কাজ, তবেই সফলকাম হতে পারো”।  

 

ভূপৃষ্ঠে বিনম্র থেকো

 “ঔদ্ধত্যেরসঙ্গে পৃথিবীতেবিচরণ করো না, কারণ তুমি পৃথিবীকেবিদীর্ণ করতে পারবে না এবং উচ্চতায় পর্বতপ্রমাণ হতে পারবে না”। [সূরা ইস্‌রা ১৭:৩৭]

 “এবংতুমিমানুষ হতে মুখ ফিরিয়ে নিয়ো নাএবংপৃথিবীতে ঔদ্ধত্যসহ বিচরণ করো না, কারণ আল্লাহ্‌ তাআলাকোন দাম্ভিক অহংকারীকে পছন্দ করেন না।

আমাদের শক্তি বা যোগ্যতার উপর ঔদ্ধত্য বা অহংকার বা অযৌক্তিক উল্লাসই হলো অনেক পাপের প্রথম পদক্ষেপ। তাছাড়া এটা অহেতুক। আমাদের সবকিছুই পরাক্রমশালী আল্লাহ্‌র পক্ষ হতে।  

 

আক্রমণাত্মক নামে ডাক দেয়ার অনুমোদন নেই ! আর অন্যদের অবজ্ঞা করো না

 “হে ঈমানদারগণ !  কোনো পুরুষযেন অপর কোনো পুরুষকেউপহাসনা করে, হতে পারে তারা তাদের চেয়ে উত্তম। কোনো নারীযেন অপর কোনো নারীকেউপহাসনা করে, হতে পারে তারা তাদের চেয়ে উত্তম। তোমরা একে অপরকে দোষারোপ করো না এবং তোমরা একে অপরকে মন্দ নামে ডেকো না। ঈমানের পর মন্দ নামে ডাকা গর্হিত কাজ। যারা এধরনের কাজ পরিত্যাগ করে না তারাই অত্যাচারী”। [সূরা হুজ্‌রাত ৪৯:১১]
 

 

যদি আল্লাহ্‌ তাআলা তোমাকে ভালোবাসেন তবে তুমি মানুষের নিকট ভালোবাসা পাবে  

আবু হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলেন : “যদি আল্লাহ্‌ তাআলা কাউকে ভালোবাসেন তাহলে তিনি জিব্রিলকে ডেকে বলেন, আল্লাহ্‌ অমুককে ভালোবাসেন; সুতরাং এই জিব্রিল ! তুমি তাকে ভালোবাসো। ফলে জিব্রিল (আঃ) তাকে ভালোবাসবেন, অতঃপর তিনি আকাশে এই ঘোষণা করবেন : আল্লাহ্‌ তাআলা অমুককে ভালোবাসেন, তাই তোমাদেরও উচিত তাকে ভালোবাসা। ফলে আকাশে অবস্থানরত সকলেই তাকে ভালোবাসবে; অতঃপর পৃথিবীতে তাকে মানুষের পরিতোষ প্রদান করা হবে”। (সহি বুখারি, অধ্যায় : আল্লাহ্‌র একত্ববাদ, ৯/৫৭৭)

 

ভুলত্রুটি উপেক্ষা করো

সাহচর্য ও সম্প্রীতিপূর্ণ আচরণের অন্তর্ভুক্ত হলো ভাইদের ভুলত্রুটিকে এড়িয়ে যাওয়া এবং তাদেরকে কঠোর ভর্ৎসনা না করা। ফুযাইল ইবনে আয়ায (মৃত্যু ১৮৭ হিঃ) বলেন : “ভাইদের ভুলত্রুটি মার্জনা করাই হলো প্রকৃত শৌর্য”। ইবনুল আরাবি (মৃত্যু ২৩১ হিঃ) বলেন : “ভাইদের হাতে সংঘটিত অনিষ্ট ভুলে গেলে তাদের প্রতি তোমার মনের মধ্যে ভালোবাসা উদ্রেক ঘটবে”। সুতরাং মু’মি্নের জন্য আবশ্যিক যে, সে পার্থিব জগতের সন্ধানীদের এড়িয়ে যাবে, অন্যথায় তারা তাকে এর সন্ধানের স্তরে নিয়ে আসবে এবং তার পরিত্রাণের পথে ও সেবিষয়ে সজাগ ও সতর্ক থাকার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। বরং তার একান্ত কর্তব্য, সৎ ও পরকালসন্ধানীদের সাহচর্য্য অর্জনের জন্য চেষ্টা সাধনা করা। তাইতো যুন নূন জনৈক ব্যক্তিকে উপদেশ দিয়ে বলেন : তুমি এমন ব্যক্তির সাহচর্যে থেকো যার বিষয়ে তুমি নিরাপদ থাকবে এবং যার প্রতি তোমার দৃষ্টি তামাকে সৎকর্ম করতে সাহায্য করে এবং তোমার প্রভুর কথা তোকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

 

কীভাবে ইসলামের দৃষ্টি বলিষ্ঠ মুসলিম হবে

আবু হুরাইরা (রাঃ) বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলেন : “শক্তিশালী ব্যক্তি সে নয়, যে খুব ভালো মল্লযুদ্ধ করতে পারে বরং শক্তিশালী সেই ব্যক্তি যে ক্রোধের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে”। (সহি মুসলিম : ৬৩১৩)

 

আবু হুরাইরা (রাঃ) বর্ণনা করেন, আমি রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি : “বীর্যবান সেই ব্যক্তি নয় যে খুব ভালো কুস্তি লড়তে পারে। তারা জিজ্ঞাসা করলেন : হে রসূলুল্লাহ্‌ ! তাহলে কে বীর্যবান ? তিনি বললেন : “ক্রোধের সময় যে নিজের ক্রোধ সংবরণ করতে পারে”। (সহি মুসলিম : ৬৩১৪)

 

আনাস বিন মালিক (রাঃ) বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলেন : “তোমরা পরস্পরের প্রতি ঘৃণা, ইর্ষা বা শত্রুতা করো না। তোমরা পরস্পরে ভাই ভাই এবং আল্লাহ্‌ তাআলার বান্দা হয়ে যাও। এটা কোনো মুসলমানের জন্য বৈধ নয় যে, সে তার ভাইয়ের সঙ্গে তিনদিনের অধিক সম্পর্ক ছিন্ন করে থাকবে”। (সহি মুসলিম : ৬২০৫)

 

আরও দেখুন

ইসলাম এবং অন্যদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দৃষ্টিকোণ; নবির আচরণ; নবির আন্তরিকতা; নবির মহানুভবতা; নবির ক্ষমাপ্রদর্শন;  

 

তথ্যসূত্র

http://www.islamweb.net/prophet/index.php?page=showarticle&id=175405

744 Views
Correct us or Correct yourself
.
Comments
Top of page