ইসলামের দৃষ্টিতে দাম্পত্য-সম্পর্ক


ইসলামের দৃষ্টিতে একটি কল্যাণময় ও মধুরময় সম্পর্ক হলো স্বামী-স্ত্রীর মাঝের সম্পর্ক। পবিত্র কুরআন বিবাহের প্রতি গুরুত্বারোপ করে এই জন্য যে, “বিবাহ দ্বিনের (আল্লাহ্‌ প্রদর্শিত জীবনাদর্শ) অর্ধেক অংশকে পূরণ করে”।

 

বিষয়সূচি

 

কুরআনি আয়াত

 “আর তাঁর নির্দেশাবলির মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য হতে সৃষ্টি করেছেন তোমাদের সঙ্গিনীদেরকে যেন তোমরা তাদের নিকট শান্তি পাও; এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয়ই চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য এতে বহু নিদর্শন আছে”।[সূরা রূম ৩০:২১]

 

“তোমাদের মধ্যে যারা স্বামীহীন তাদের বিবাহ সম্পাদন করো এবং তোমাদের দাস ও দাসীদের মধ্যে যারা সৎ তাদেরও। তারা অভাবগ্রস্ত হলে আল্লাহ্‌ তাআলা নিজের অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দেবেন। আল্লাহ্‌ প্রাচুর্যময় এবং সর্বজ্ঞ”।[সূরা নূর ২৪:৩২]

 

হাদিস

রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম পুরুষসম্প্রদায়কে স্বীয় স্ত্রীদের সঙ্গে সৎব্যবহার করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছেন, “তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি যে তার স্ত্রীদের নিকট সর্বোত্তম”।(তিরমিযি : ৬২৮)

 

আয়েশা (রাঃ)-এর জবাব

একদা নবিপত্নী আয়েশা (রাঃ)-কে স্বগৃহে রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের আচার-আচরণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো। তিনি উত্তর দিলেন : “গৃহে তিনি তোমাদেরই মতো ছিলেন, তবে তিনি ছিলেন সবচেয়ে সদয় ও উদার। তিনি গৃহের সাধারণ কাজকর্মে তাঁর স্ত্রীদেরকে স্বহস্তে সহযোগিতা করার জন্য প্রস্তুত থাকতেন, তিনি নিজের বস্ত্র নিজেই সেলাই করতেন এবং নিজের জুতো মেরামত করতেন”। (মুসনাদে আহ্‌মাদ, ৬:১২১, সহিহুল জামি’ : ৪৯২৭) সাধারণত তাঁর পত্নীগণ যে কাজই করতেন তিনি তাতে তাঁদের সহযোগিতা করতেন।

 

সমস্যা

দাম্পত্য ভালোবাসাকে স্থায়ী এবং উজ্জীবিত রাখার জন্য প্রয়োজন উভয় পক্ষের অসামান্য প্রচেষ্টা। দাম্পত্য ভালোবাসা ওই সমস্ত ছোটো ছোটো মতভেদে বিঘ্নিত হয় না যেগুলো দৈনন্দিন জীবনের একটি সাধারণ অংশ এবং সমস্ত দম্পতিকে যা করতে বাধ্য হয়। প্রকৃতপক্ষে এই ধরনের সমস্যা অনেক সময় সম্পর্ককে পুনরুজ্জীবিত করে, যেমন সুস্বাদু খাবারে মসলা।

 

প্রকৃত সমস্যা হয় তিনটি কারণে :

১। অপরকে বোঝার অক্ষমতা। সত্যি বলতে, অনেক সময় নিজেকে চিনতেও অনেকের সমস্যা হয়।

২। বৈবাহিক অংশীদারিত্ব এবং জীবনের পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার অক্ষমতা। কতিপয় মানুষ চাই  তার জীবনে কিছু জিনিস পূর্বের ন্যায় অপরিবর্তিত ও অব্যাহত থাকুক।

৩। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হলো সম্পর্কের অঙ্গীকার রক্ষা ও তা স্থায়ী রাখার অভাব।

 

সফল সম্পর্কের জন্য

  • সমস্যার সমাধানের সংকল্প নিয়ে শুরু করুন।যদি পতি-পত্নী উভয়ই এই অভিপ্রায় রাখে এবং পরস্পরের সঙ্গে পরামর্শ করে তাহলে একটি সফল সমাধান বেরোবে, এই সম্ভাবনাই বেশি।
  • মনে রাখুন, ঝগড়ার জন্য দুইজনের দরকার। যদি কোনো একজন ঝগড়া করতে না চাই তাহলে কোনো ঝগড়াই হবে না। সাধারণত যে অন্যায়ের উপর থাকে সেই বেশি কথা বলে।
  • পতি-পত্নী উভয়কে একই সঙ্গে ক্রুদ্ধ হওয়া উচিত নয়।যদি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনো একজনের মেজাজ বিগড়ে যায় আর যদি অন্যজন শান্ত ও স্থিরচিত্ত থাকে তাহলে সেটাই উত্তম।
  • কখনো পরস্পরের উপর তীব্র চিৎকার করো না, নচেৎ গৃহ অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠবে।বাড়িতে খুব ঘন ঘন আগুন জ্বলে না; সেই হারেই চিৎকারের ঘটনা ঘটা উচিত।  
  • অমীমাংসিত বিবাদ নিয়ে কখনো ঘুমোবেন না। বৈবাহিক জীবনে এটা সবচেয়ে নিকৃষ্ট জিনিস। যথাসম্ভব সেটা এড়িয়ে চলা উচিত। এতে অনুভূতি আহত হয় এবং চিন্তাভাবনা হয়ে যায় একঘেয়ে এবং সাধারণভাবেই সমস্যা বেড়ে যায়।
  • যদি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কারো জয়ের প্রয়োজন হয় তাহলে তাকে আপনার সঙ্গী হতে দিন।শুধু নিজে বিজয়ী হওয়ার প্রতিই মনযোগ দেবেন না; কারণ এটাই আলোচনা উত্তপ্ত হয়ে ওঠার প্রধান কারণ।
  • জান্নাতে আপনার গৃহের কথা মনে রাখুন !রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলেন : আমি জান্নাতের আশেপাশে একটি গৃহের মুচলিকা দিচ্ছি এমন ব্যক্তির জন্য যে ঝগড়াকে এড়িয়ে চলে যদিও সে সত্যের উপর থাকে, জান্নাতের মধ্যস্থানে একটি গৃহের মুচলিকা দিচ্ছি ওই ব্যক্তির জন্য যে রসিকতার সময়ও মিথ্যা হতে বিরত থাকে এবং জান্নাতের উচ্চস্থানে একটি গৃহের মুচলিকা দিচ্ছি ওই ব্যক্তির জন্য যে সুশীল চরিত্রের অধিকারী হয়। (আবুদাউদ : ৪৭৮২)   

 

তথ্যসূত্র

http://www.ilmfruits.com/ten-tips-for-a-happy-and-successful-marriage

http://www.missionislam.com/family/nuturinglove.htm

181 Views
Correct us or Correct yourself
.
Comments
Top of page