আল্লাহ্‌র করুণা


বহু মানুষ, বিশেষ করে অমুসলিমগণ এধরনের প্রশ্ন তুলে যে, যদি আল্লাহ্‌ পরম দয়ালু হন তাহলে তিনি মানুষকে কেন সৃষ্টি করলেন অথচ তিনি জানেন যে, অধিকাংশ মানুষই জাহান্নামের অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষিপ্ত হবে ? কেন তিনি মানুষকে জাহান্নামে জ্বলতে দেখতে পছন্দ করেন ? যেহেতু আমরা ভূপৃষ্ঠেই রয়েছি, তাই এই প্রশ্নের কোনো আলোচনাবিন্দু নেই, কেননা কোনোকিছুই পরিবর্তন হচ্ছে না। তথাপি, যেহেতু মানুষ স্বভাবজাত কৌতুহলী, তাই আমরা বোঝার চেষ্টা করবো কেন তিনি এই বিশ্বকে সৃষ্টি করেছেন।  

 

বিষয়সূচি

 

যদি আমরা যুক্তি ও বিবেক ব্যবহার করি, তাহলে বিশ্বের অস্তিত্ব থাকতে পারে না

যুক্তি হলো : যেহেতু অধিকাংশ মানুষ জাহান্নামে যাচ্ছে, তাই মানুষকে সৃষ্টি করাই আল্লাহ্‌র উচিত হয়নি।

 

যদি কেউ সেই যুক্তিটি আরেকটু প্রসারিত করে তো প্রশ্ন করতে পারে যে, আল্লাহ্‌ তাআলা পশুপক্ষীকে কেন সৃষ্টি করলেন, অথচ তিনি জানেন যে, একজন আরেকজনকে ভক্ষণ করবে এবং কষ্টদায়ক মৃত্যুর সম্মুখীন হবে ?

 

উদাহরণস্বরূপ : একটি হরিণ বাঘ ও সিংহের শিকার হয়, ইঁদুর শিকার হয় সাঁপ ও বিড়ালের, কীট-পতঙ্গ ও মাছ শিকার হয় পাখীর, ঘাস ও উদ্ভিদকে খেয়ে ফেলে গরু-ছাগলে, ইত্যাদি।

 

আপনার যুক্তির অর্থ এই দাঁড়াবে যে, কোনো পশুপক্ষী, উদ্ভিদ, গাছপালা ইত্যাদি থাকতে পারে না। সংক্ষেপে বলা যায় যে, আল্লাহ্‌ তাআলার কোনো প্রাণীকেই সৃষ্টি করা উচিত হয়নি। কারণ একজন তার খাবারের জন্য অন্যের উপর নির্ভরশীল। আর তারা অন্য প্রাণীর হাতে এক যন্ত্রণাদায়ক মরণের সম্মুখীন হয়।

 

যদি কোনো প্রাণীই না থাকে তাহলে এই বিশাল জগতের সৃষ্টির কোনো অর্থ থাকে কি ?

 

আল্লাহ্‌ রক্তপিপাসু নন

আমরা অনেকেই অনুভব করতে পারি যে, আল্লাহ্‌ তাআলা এমন কোনো রক্তপিপাসু বা পাষাণহৃদয় নন যিনি জাহান্নামে মানুষকে শাস্তির অবস্থায় দেখতে পছন্দ করবেন। আমাদের প্রথমে বোঝা দরকার যে, কারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে।

 

“নিতান্তই হতভাগ্য বা অসৎ ব্যতীত কেউ তাতে প্রবেশ করবে না”।[সূরা লায়ল ৯২:১৫]

 

আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলেন : “আমার সমস্ত অনুসারী জান্নাতে প্রবেশ করবে কেবল ওই সকল লোক ছাড়া যারা প্রত্যাখ্যান করবে”। তাঁরা জিজ্ঞাসা করলেন : “হে আল্লাহ্‌র রসূল ! কে প্রত্যাখ্যান করবে ?” তিনি বললেন : “যেকেউ আমার আনুগত্য করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং যে কেউ আমার অবাধ্যতা করবে সে প্রত্যাখ্যান করবে”। (সহি বুখারি : ৯/৩৮৪)

 

উপরের কুর্‌আনের আয়াত ও হাদিস হতে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, মানুষ তার নিজের পছন্দে জাহান্নামের অগ্নিকুণ্ডে প্রবেশ করবে। যদি আপনি কুর্‌আন পড়েন তাহলে দেখবেন যে, জাহান্নামে প্রবেশকালীন অবিশ্বাসীরা যে বিলাপ করবে, তার উল্লেখ অসংখ্য আয়াতে রয়েছে। এমন কোনো জাহান্নামবাসী হবে না যে এই দাবি করবে যে, তার সঙ্গে যে আচরণ করা হচ্ছে, তা অনৈতিক ও অন্যায্য। আসুন, নিম্নে আমরা এধরনের কয়েকটি আয়াত দেখি :

“যেদিন তাদের মুখমণ্ডল আগুনে উলট-পালট করা হবে, সেদিন তারা বলবে : হায় ! আমরা যদি আল্লাহ্‌র আনুগত্য করতাম এবং তাঁর রসূলের আনুগত্য করতাম ! তারা আরও বলবে : হে আমাদের প্রতিপালক ! আমরা আমাদের নেতা এবং আমাদের সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিদের আনুগত্য করেছিলাম এবং তারাই আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল। হে আমাদের প্রভু ! তাদেরকে দ্বিগুণ শাস্তি প্রদান করুন এবং তাদের উপর করুন চরম অভিসম্পাত”। [সূরা আহ্‌যাব ৩৩:৬৬-৬৮]

 

“আর যারা তাদের প্রতিপালকের সাথে কুফ্‌রি করে তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের কঠিন শাস্তি, সেটা কত নিকৃষ্ট প্রত্যাবর্তনস্থল ! আর যখন তাদেরকে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত করা হবে তখন তারা তার গর্জনের শব্দ শুনতে পাবে এবং ওটা টগবগ করে ফুটবে। অত্যধিক ক্রোধে তা ফেটে পড়ার উপক্রম হবে, যখনই কোনো দলকে তাতে নিক্ষেপ করা হবে, তার প্রহরীরা তাদেরকে জিজ্ঞাসা করবে : তোমাদের নিকট কি কোনো সতর্ককারী আসেনি? তারা বলবে : হ্যাঁ, অবশ্যই আমাদের নিকট একজন সতর্ককারী এসেছিলেন, কিন্তু আমরা অস্বীকার করেছিলাম এবং বলেছিলাম যে, আল্লাহ্‌ কিছুই অবতীর্ণ করেননি। তোমরা তো বড়োই ভ্রান্তিতে রয়েছ। তারা আরও বলবে : যদি আমরা শুনতাম কিংবা বিবেক-বুদ্ধি দিয়ে অনুধাবন করতাম, তাহলে আমরা জাহান্নামবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হতাম না”। [সূরা মুল্‌ক ৬৭:৬-১১]

 

যদি আপনি কুর্‌আন পাঠ করেন, তাহল বহু আয়াত পাবেন যাতে অবিশ্বাসীগণ স্বীকার করে যে, তাদের নিজেদের অপরাধের জন্যই তাদেরকে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হতে হয়েছে। উপরের দুটি আয়াত হতে আমরা স্পষ্ট বুঝতে পারি যে, অবিশ্বাসীরা তাদের নিজের পছন্দে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।

 

আল্লাহ্‌র পক্ষ হতে সতর্কবাণী  

“সেদিন প্রত্যেক ব্যক্তি যাকিছু সৎকর্ম করেছে নিজের সামনে দেখতে পাবে এবং যাকিছু মন্দ কাজ করেছে তাও দেখতে পাবে; সে কামনা করবে যদি তার এবং ওই দুষ্কর্মের মাঝে সুদূর ব্যবধান হতো ! আর আল্লাহ্‌ তাআলা তোমাদেরকে তাঁর নিজের ব্যাপারে সাবধান করেছেন এবং আল্লাহ্‌ স্বীয় বান্দাদের প্রতি বড়োই দয়ালু”। [সূরা আল-ইম্‌রান ৩:৩০]

 

উপরোক্ত আয়াতে আল্লাহ্‌ তাআলা প্রত্যেক ব্যক্তিকে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছেন যে, তারা যেন পৃথিবীতে দুষ্কর্ম হতে বিরত থাকে। যে কেউ দুষ্কর্ম করবে সে এই সতর্কবার্তার বিরোধিতার পথ বেছে নেবে।

 

অগ্নিপরীক্ষা

“নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ বিন্দুমাত্র অন্যায় করেন না, যদি কোনো সৎকার্য থাকে তাহলে তিনি সেটাকে দ্বিগুণ করে দেন এবং তিনি নিজের নিকট হতে মহাপ্রতিদান প্রদান করেন”। [সূরা নিসা ৪:৪০]

 

“এবং আমলনামা উপস্থিত করা হবে এবং তাতে যা লিপিবদ্ধ আছে তার জন্য তুমি অপরাধীদেরকে আতঙ্কগ্রস্ত দেখবে এবং তারা বলবে : হায় ! দুর্ভোগ আমাদের ! কেমন গ্রন্থ এটা ? এটা তো ছোটো-বড়ো কিছুই বাদ দেয় না, বরং সবকিছুই হিসাব রেখেছে। তারা তাদের কৃতকর্ম তাদের সম্মুখে উপস্থিত পাবে। আর তোমার প্রতিপালক কারো প্রতি অন্যায় করেন না”। [সূরা কাহ্‌ফ ১৮:৪৯]

 

“যারা সৎপথ অবলম্বন করবে তারা তো নিজেদের মঙ্গলের জন্যই সৎপথ অবলম্বন করবে আর যারা পথভ্রষ্ট হবে তারা তো পথভ্রষ্ট হবে নিজেদের ধ্বংসের জন্য। আর কেউ অন্য কারো ভার বহন করবে না। আমি রসূল না প্রেরণ করে কাউকে শাস্তি দেই না”। [সূরা ইস্‌রা ১৭:১৫]

 

উপরের আয়াতগুলি পরিষ্কার দিচ্ছে যে, কোনো অন্যায় হবে না এবং মানুষ তাদের স্বীয় কৃতকর্মের জন্য শাস্তি পাবে।

 

আল্লাহ্‌র করুণা

আল্লাহ্‌ তাআলা পরম করুণাময়। তিনি আমাদের জাহান্নামে নিক্ষেপ করতে চান না। তাই তো তিনি তাঁর করুণার দ্বার এতটাই প্রশস্ত করে দেন যে, তিনি আমাদের সৎকার্যগুলিকে বহুগুণে বৃদ্ধি করে দেন এবং আমাদের অসংখ্যবার ক্ষমা করেন।

 

“নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ কিঞ্চিত পরিমাণ অন্যায় করেন না, যদি কোনো সৎকার্য থাকে তাহলে তিনি সেটাকে দ্বিগুণ করে দেন এবং তিনি নিজের নিকট হতে মহাপ্রতিদান প্রদান করেন”। [সূরা নিসা ৪:৪০]

 

“যে কেউ (কিয়ামতদিবসে) একটি সৎকর্ম নিয়ে আসবে তাকে তার দশগুণ প্রতিদান দেয়া হবে এবং যে দুষ্কর্ম করবে তাকে শুধু ততটুকুই প্রতিফল দেয়া হবে যতটুকু সে করেছে, আর তারা অত্যাচারিত হবে না”। [সূরা আন্‌আম ৬:১৬০]

 

নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের বাণী : ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম মহাদয়াময় আল্লাহ্‌ তাআলা হতে বর্ণনা করছেন : “নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ তাআলা সৎ ও অসৎকর্ম লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন, অতঃপর স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, যে ব্যক্তি কোনো সৎকর্মের সংকল্প গ্রহণ করল কিন্তু তা সম্পাদন করল না, আল্লাহ্‌ তাআলা তার জন্য একটি পূর্ণ সৎকর্মের সওয়াব লিখে দেন। আর যদি সে সংকল্প গ্রহণের পর কার্যত তা সম্পাদন করে তাহলে আল্লাহ্‌ তাআলা তার জন্য দশ থেকে সাতশোগুণ বরং তার থেকেও বেশি সওয়াব লিখে দেন। আর যে ব্যক্তি কোনো দুষ্কর্মের সংকল্প করে কিন্তু কার্যত তা সম্পাদন করেনা, তার জন্য আল্লাহ্‌ তাআলা একটি সওয়াব লিখেন। আর যদি সে ইচ্ছা করার পর কার্যত তা করে ফেলে তাহলে আল্লাহ্‌ তাআলা কেবল একটিই গোনাহ্‌ লিপিবদ্ধ করেন”। (সহি মুস্‌লিম : ২৩৭)

 

উপরোক্ত কুর্‌আনের আয়াত এবং হাদিস হতে আমরা বুঝতে পারি যে, আল্লাহ্‌ তাআলা মানুষের ছোটো ছোটো সৎকর্মের বিনিময়ে তাদের প্রতি অনুগ্রহ করতে চান।

  • যদি কোনো ব্যক্তি কেবল একটিই সৎকর্ম করে, তাহলে তার পুরস্কার পাচ্ছে ১০ থেকে ৭০০ গুণ বরং তার থেকেও বেশি।
  • যদি কোনো ব্যক্তি সৎকর্মের সংকল্প গ্রহণের পর কার্যত তা সম্পাদন না করে, তবুও সে একটি পুরস্কার পাচ্ছে।
  • যদি কোনো ব্যক্তি কোনো দুষ্কর্ম করার সংকল্প গ্রহণের পর তা না করে তবে তার জন্য একটি সওয়াব লেখা হয়, অথচ সে অসৎকর্ম করার সংকল্প নিয়েছিল।
  • যদি সে অসৎকর্ম করেই ফেলে তাহলে তার জন্য কেবল একটি গোনাহ লেখা হচ্ছে।

 

কেন আল্লাহ্‌ তাআলা তাঁর নিয়ম থেকে বেরিয়ে সৎকর্মগুলিকে বহুগুণে বৃদ্ধি করে দেন ? আপনি সৎকর্ম করছেন না, কিন্তু তিনি সৎকর্ম লিখছেন; আপনি দুষ্কর্মের সংকল্প গ্রহণ করে ফেলছেন তথাপি তিনি সৎকর্ম লিখছেন আর আপনার একটি অসৎকর্মের বিনিময়ে শুধুমাত্র একটি অসৎকর্ম লিখছেন; এটা কেন ? এর কারণ এটা ছাড়া আর কিছুই হতে পারে না যে, আল্লাহ্‌ তাআলা পরম করুণাময় এবং তিনি আমাদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করতে চান না।

 

একজন অংকের শিক্ষক বা একজন ব্যবসায়ীর মতো আল্লাহ্‌র হিসাব করা যে ভুল, তা আপনি অনুভব করবেন। প্রত্যেকেই মূল্যায়ন করতে পারে যে, আল্লাহ্‌ তাআলার দয়া ও অনুগ্রহ সীমাহীন। আল্‌হামদু লিল্লাহ্‌ !

 

“তারা আল্লাহ্‌র যথোচিত মর্যাদা উপলব্ধি করতে পারে না; নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ মহাক্ষমতাবান ও পরাক্রমশালী”। [সূরা হাজ্জ ২২:৭৪]

 

আল্লাহ্‌র ক্ষমাপ্রদর্শন

সবকিছু সত্ত্বেও আমরা মানুষ হিসেবে অনেক অসৎকর্ম করে থাকি।

 

“বলো, হে আমার বান্দারা ! তোমরা যারা নিজেদের উপর অবিচার করেছ- আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ হতে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ সমস্ত গোনাহ্‌ ক্ষমা করে দেবেন; তিনি মহাক্ষমাশীল, অসীম দয়ালু”। [সূরা যুমার ৩৯:৫৩]

 

“এবং যে কেউ দুষ্কর্ম করে অথবা নিজের প্রতি অন্যায় করে অতঃপর আল্লাহ্‌র নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে, সে আল্লাহ্‌কে মহাক্ষমাশীল ও অশেষ কৃপাশীল পাবে”। [সূরা নিসা ৪:১১০]

 

“আর আমি বলেছি : তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করো, নিশ্চয়ই তিনি অতিশয় ক্ষমাশীল”। [সূরা নূহ ৭১:১০]

 

একটি পক্ষপাতহীন মস্তিষ্ক অনুভব করতে পারে যে, আল্লাহ্‌ তাআলা তাঁর সীমাহীন ক্ষমাপ্রদর্শনের মাধ্যমে তাঁর অসীম দয়ার পরিধি কতটা বিস্তার করেন।

 

এসব সত্ত্বেও যদি কোনো বক্তি জাহান্নামের অগ্নিকুণ্ড হতে নিজেকে রক্ষা করতে না পারে, তাহলে কার ত্রুটি, আমরা জানতে পারি কি ? মানুষের ত্রুটি নাকি আল্লাহ্‌র ?

 

উপসংহার

যদি আমরা উপরোক্ত পয়েন্টগুলি অধ্যায়ন করি, তাহলে আমরা বুঝতে পারি যে,

১। দুষ্কর্মের চরম পরিণতির বিষয়ে আল্লাহ্‌ তাআলা আমদেরকে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

 

২। আল্লাহ্‌ তাআলা সৎকর্মগুলিকে সীমাহীনভাবে বৃদ্ধি করেন এবং অশেষ ক্ষমা প্রদর্শন করেন, এভাবে তিনি তাঁর অসীম করুণার পরিধি বিস্তার করে থাকেন।

 

৩। পরীক্ষা ন্যায়পরায়ণতার উপর প্রতিষ্ঠিত এবং কারো উপর কোনো অন্যায়-অবিচার করা হয় না।

 

৪। মানুষ স্বীয় পছন্দের জন্য জাহান্নামে প্রবেশ করবে।

 

৫। যারা নরকে প্রবেশ করবে তারা নিজেদের ভুল-ভ্রান্তি স্বীকার করবে এবং দোষী হিসেবে আত্মসমর্পণ করবে।

 

আমরা রিমাইন্ডারস্বরূপ এই আয়াতটি আরেকবার দেখে নিই : “নিতান্তই হতভাগ্য বা অত্যন্ত অসৎ ব্যক্তি ছাড়া কেউ জাহান্নামে প্রবেশ করবে না”। [সূরা লায়ল ৯২:১৫]

 

পরন্তু, প্রত্যেকেই এত হতাশাপূর্ণ কেন ? আমরা শুধু জাহান্নাম সম্পর্কে কেন ভাবছি ? আমরা জান্নাত সম্পর্কে কেন ভাবছি না ? জান্নাত এবং আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি অর্জনকেই আমরা আমাদের লক্ষ কেন করছি না এবং তার জন্য কেন প্রয়াসী হচ্ছি না ? এটা সুবিদিত যে, মানুষ যা পেতে চাই তার জন্য সে চেষ্টা-সাধনা করে। অতএব আল্লাহ্‌ তাআলা আমাদেরকে ক্ষমা করার জন্য তৈরি রয়েছেন, কিন্তু আমরা আল্লাহ্‌র নিকট ক্ষমা প্রার্থনার জন্য অথবা তাঁর নিকট আন্তরিক তওবা করার জন্য প্রস্তুত নেই।

 

আরও দেখুন

লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ; ইসলামের স্তম্ভসমূহ; ঈমানের স্তম্ভসমূহ; হাদিসে জিব্রিল; তাওহিদ

 

তথ্যসূত্র

http://dawah.invitetogod.com/questions-asked-by-non-muslims/if-allah-is-most-merciful-why-does-he-like-to-see-people-burn-in-hell

472 Views
Correct us or Correct yourself
.
Comments
Top of page